টি-টোয়েন্টির পর টেস্টেও পাকিস্তান দল নিজেদের দুর্দশা থেকে রেহাই পেল না। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ব্রিসবেন টেস্টের প্রথম দিনই ২৪০ রানে অল আউট হয়েছে সফরকারী দলটি। অস্ট্রেলিয়ান পেসারদের তাণ্ডবে বাজে একটা দিন কাটিয়েছে আজহার আলীর দল।
৮৬ দশমিক ২ ওভার ব্যাট করে অল আউট হয় দলটি। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৭৬ রান করেন আসাদ শফিক। অস্ট্রেলিয়ার বাঁ-হাতি পেসার মিচেল স্টার্ক ৫২ রানে ৪ উইকেট নেন।
ব্রিজবেনে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে দলকে ভালো সূচনা এনে দেন দুই ওপেনার শান মাসুদ ও অধিনায়ক আজহার আলি। সর্তকতার সঙ্গে খেলে ৩৩ ওভারে ৭৫ রানের জুটি গড়েন তারা। তিনটি চারে ৯৭ বলে ২৭ রান করা মাসুদকে বিদায় দিয়ে পাকিস্তানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন অস্ট্রেলিয়ার প্যাট কামিন্স। পরের ওভারে আজহারকে বিদায় দেন অস্ট্রেলিয়ার আরেক পেসার জশ হ্যাজেলউড। পাঁচটি চারে ১০৪ বলে ৩৯ রান করেন আজহার।
দলীয় ৭৫ রানে প্রথম উইকেট পতনের পর মিনি ধস নামে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইন-আপে। ৯৪ রানের মধ্যে পাঁচ উইকেট হারিয়ে বসে তারা। দুই ওপেনারের পর দ্রুতই প্যাভিলিয়নে ফিরেন হারিস সোহেল-বাবর আজম-ইফতেখার আহমেদ। সোহেল-বাবর এক রান করে ও ইফতেখার সাত রান করে আউট হন। এই তিনটি উইকেট ভাগাভাগি করে নিয়েছেন স্টার্ক-হ্যাজেলউড-নাথান লিঁও।
১৯ রানের ব্যবধানে প্রথম পাঁচ উইকেট হারানোর পর দলকে দারুণভাবে লড়াইয়ে ফেরান শফিক। তার সঙ্গে সঙ্গ মিলিয়েছেন উইকেটরক্ষক মোহাম্মদ রিজওয়ান ও স্পিনার ইয়াসির শাহ। ষষ্ঠ উইকেটে রিজওয়ানের সঙ্গে ৪৯ ও সপ্তম উইকেটে ইয়াসিরের সঙ্গে ৮৪ রান যোগ করেন শফিক। দলকে ভালো অবস্থায় নিতে গিয়ে টেস্ট ক্যারিয়ারের ২৪তম হাফ-সেঞ্চুরির দেখা পান শফিক।
দলীয় ২২৭ রানে ইয়াসিরকে ফিরিয়ে দিয়ে পাকিস্তানকে দ্রুত গুটিয়ে দেওয়া পথ তৈরি করেন স্টার্ক। শেষ পর্যন্ত তাই ঘটেছে। ১৩ রানে বাকি তিন উইকেট হারিয়ে ২৪০ রানে গুটিয়ে যায় পাকিস্তান। এরমধ্যে শফিকের উইকেটও ছিল। তবে শফিককে আউট করেন কামিন্স। সাতটি চারে ১৩৪ বলে ৭৬ রান করেন শফিক। রিজওয়ান ৩৭ ও ইয়াসির ২৬ রান করেন। অস্ট্রেলিয়ার মফল বোলার স্টার্ক ৫২ রানে চার উইকেট নেন। কামিন্স তিনটি ও হ্যাজেলউড দুইটি উইকেট নেন।
এই টেস্ট দিয়ে ১৬ বছর ২৭৯ দিনে অভিষেক ঘটল পাকিস্তানে ডান-হাতি পেসার নাসিম শাহর। বিশ্বের নবম সর্বকনিষ্ঠ টেস্ট ক্রিকেটার হিসেবে অভিষেক হলো তার। আর পেসারদের মধ্যে চতুর্থ সর্বকনিষ্ঠ। এই তালিকায় শীর্ষ ১০ জনের মধ্যে বাংলাদেশের তিন ক্রিকেটার—মোহাম্মদ শরীফ, তালহা জুবায়ের ও এনামুল হক জুনিয়রও আছেন। তালিকার শীর্ষে রয়েছেন পাকিস্তানের হাসান রাজা। ১৯৯৬ সালে ফয়সালাবাদে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১৪ বছর ২২৭ দিনে টেস্ট অভিষেক হয়েছিল রাজার।
