কমলগঞ্জে পাহাড়ি ছড়া ও নদী থেকে চলছে বালু উত্তোলন!

আপডেট : ২১ নভেম্বর ২০১৯, ২১:২৩

কমলগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন পাহাড়ি ছড়া ও নদী থেকে অবৈধ ও অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বালু ব্যবস্থাপনা আইন না মেনে ও উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে স্থানীয় প্রভাবশালীরা দেদারসে বালু উত্তোলনের পর বিক্রি করছেন। ফলে এক দিকে রাজস্ববঞ্চিত হচ্ছে সরকার, অন্যদিকে স্থানীয় রাস্তাঘাট, কবরস্থান ও ছড়ার বাঁধ ধসে পড়ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার সুনছড়া, কামারছড়া, লাউয়াছড়া, জপলাছড়া, লঙ্গুছড়া, ধামালিছড়া, দেওছড়া, লাঘাটা ও ধলাই নদীর ব্রিজের নিচসহ অসংখ্য স্থান থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলিত হচ্ছে। স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল ছড়া ও নদীর স্থানে স্থানে বালু উত্তোলন করে ট্রাকযোগে বালু পরিবহন ও বিক্রি করছে। ছড়া থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের ফলে ছড়ার দুপাশ ক্রমান্বয়ে প্রশস্ত হচ্ছে। ফলে পরিবেশ-প্রতিবেশ ছাড়াও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা।

কমলগঞ্জের সদর ইউনিয়নের বাসিন্দা আব্দুল মছব্বির বলেন, লঙ্গুছড়া থেকে বালু উত্তোলনের ফলে ছড়ার বাঁধ ও কবরস্থানটিও ভেঙে পড়ছে। শমসেরনগর চা বাগানের শ্রমিক সর্দার হরিচাষা বলেন, ধামালিছড়ায় মেশিনযোগে দীর্ঘদিন ধরে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মৌলভীবাজার জেলার অন্তর্গত ৫১টি পাহাড়ি ছড়া সিলিকাবালুসমৃদ্ধ এলাকা হিসেবে ২০১৩ সনের ১৮ জুন তারিখে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এর মধ্যে ১৯টি-কে অযান্ত্রিক পদ্ধতিতে বালু উত্তোলনের জন্য ইজারা প্রদান করা হয়। খনিজসম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধিবিধান যথাযথভাবে অনুসরণ না করে সিলিকাবালু সমৃদ্ধ ঐ এলাকাকে ইজারা প্রদান করে। ইজারাগ্রহীতাদের অনিয়ন্ত্রিত ও বেআইনীভাবে বালু উত্তোলনের ফলে মৌলভীবাজার জেলার সদর, রাজনগর, কুলাউড়া, শ্রীমঙ্গল, কমলগঞ্জ ও বড়লেখা সংশ্লিষ্ট এলাকাসমূহের পরিবেশ ও প্রতিবেশ বিপর্যয় ঘটে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) জনস্বার্থে উচ্চ আদালতে মামলা দায়ের করে। পরে ২০১৬ সনের ২১ মার্চ হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ ১৯টি বালুমহালকে পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণ (ইআইএ) ও পরিবেশগত ছাড়পত্র (ইসিসি) ছাড়া পরবর্তী ইজারা প্রদানের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা প্রদান করেন। সেই সাথে ইজারাভুক্ত ছড়াসমূহ থেকে সকল প্রকার ড্রিল, ড্রেজার, বোমা মেশিন এবং বালু উত্তোলনে ব্যবহূত যান্ত্রিক মেশিনসমূহ অবিলম্বে জব্দ করার জন্য আদালত নির্দেশনা প্রদান করেন।

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)’র সিলেট বিভাগীয় সমম্বয়ক এড. শাহ শাহেদা আক্তার বেলা’র দায়েরকৃত মামলায় আদালতের নির্দেশনার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, তিনদিন ধরে মৌলভীবাজারের বিভিন্ন ছড়া ও নদী ঘুরে বালু উত্তোলনের যে চিত্র পাওয়া গেছে তা খুবই দুঃখজনক। এটি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের নিয়মিত ফলোআপ ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দেরও এক্ষেত্রে এগিয়ে আসা উচিত।  তিনি আরো বলেন, যে ধরনের ক্ষতি থেকে রক্ষার জন্য বেলার পক্ষ থেকে উচ্চ আদালতে রিট দায়ের করা হয়েছিল বাস্তবে সে ক্ষতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না।

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশেকুল হক বলেন, খবর পাওয়ার পরই আমাদের পক্ষ থেকে অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। ইতিমধ্যে বালুভর্তি ট্রাক আটক করে জরিমানাও আদায় করা হয়েছে। তবে এসব বিষয়ে ভূমি ও তহসিল অফিসের কর্মকর্তাদেরও ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং আরো জোরালো পদক্ষেপ নিচ্ছেন বলে জানান।