টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার কয়েকটি গ্রামে বংশাই-লৌহজং নদীতে ভাঙন দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে দীর্ঘদিন ধরে ভাঙনের শিকার নদীর তীরবর্তী এলাকায় স্থায়ীভাবে বাঁধ নির্মাণ না হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বহু পরিবার। ভাঙনে ব্রিজ-কালভার্ট, রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাটবাজারসহ ফসলি জমিরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
মির্জাপুর উপজেলা প্রকৌশল অফিস ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার জানানো হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত কাজের জন্য অর্থ বরাদ্দ চেয়ে প্রকল্প তৈরি করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছেন।
জানা গেছে, মির্জাপুর পৌরসভা ও ১৪ ইউনিয়নের মধ্যে এবারের বন্যায় আটটি ইউনিয়নের ব্রিজ-কালভার্ট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাটবাজার, ফসলি জমি ও রাস্তাঘাটের ক্ষতি হয়েছে সবচেয়ে বেশি। বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ইউনিয়ন হচ্ছে উপজেলার জামুর্কি, মহেড়া, ফতেপুর, বানাইল, আনাইতারা, ওয়ার্শি, ভাদগ্রাম, ভাওড়া, বহুরিয়া, লতিফপুর ইউনিয়ন।
ফতেপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রউফ বলেন, ‘নদী ভাঙনের মূল কারণ অবৈধভাবে বালু উত্তোলন। বর্ষা মৌসুমে ড্রেজার মেশিন এবং শুকনো মৌসুমে ভ্যেকু বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদীভাঙ্গনে দিশেহারা হয়ে পড়েছে এলাকার লোকজন। রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি, ফসলি জমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হুমকির মুখে পড়েছে।
এদিকে, ৭০-৮০ কিলোমিটার পাকা, আধাপাকা রাস্তার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ আরিফুর রহমান বলেন, বন্যায় যে সব এলাকায় রাস্তাঘাট ও ব্রিজ-কালভার্টের ক্ষতি হয়েছে ঐ সব এলাকার রাস্তাঘাট এবং ব্রিজ-কালভার্টের প্রকল্প তৈরি করে প্রায় ৩৫ কোটি টাকার বরাদ্দ চেয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। ইতিমধ্যে ভাঙনকবলিত এলাকায় প্রতিরোধের জন্য বালির বস্তা ও ব্লক ফেলা হচ্ছে। বরাদ্দ এলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার ব্রিজ-কালভার্ট ও রাস্তার দ্রুত কাজ করা হবে।
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও টাঙ্গাইল-৭ মির্জাপুর আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মো. একাব্বর হোসেন বলেন, এ বছর বন্যায় আমার নির্বাচনী এলাকায় রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ফসলি জমি, হাটবাজারসহ বিভিন্ন স্থাপনার ক্ষতি হয়েছে। ইতিমধ্যে পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীমসহ প্রশাসনের কর্মকর্তাগণ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ প্রদান করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। ভাঙনকবলিত এলাকায় জিওব্যাগ ফেলে প্রতিরোধের চেষ্টা চলছে।
