নারায়ণগঞ্জের সাবেক পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ হারুন অর রশীদসহ চার জনের বিরুদ্ধে করা চাঁদাবাজি মামলা খারিজ করে দিয়েছেন আদালত। গতকাল ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. তোফাজ্জাল হোসেন এ আদেশ দেন। এর আগে পারটেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান এম এ হাসেমের ছেলে ও আম্বার গ্রুপের চেয়ারম্যান শওকত আজিজ (রাসেল) এর স্ত্রী ফারাহনাজ চৌধুরী বাদী হয়ে আদালতে এ মামলা করেন। পরে বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে বিচারক ফৌজদারি কার্যবিধির ২০৩ ধারায় খারিজ করে দেয়। খারিজ আদেশে বলা হয়, আসমিরা সরকারি কর্মকর্তা কিন্তু সরকারের পূর্ব অনুমতি ব্যতীত আদালত অপরাধ আমলে নিতে পারে না। তাই অভিযোগটি খারিজ করা হলো। মামলার অন্য আসামিরা হলেন— নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন, এসআই আবদুল জলিল মাতুব্বর ও মাহফুজুল হাসান।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, বাদীর স্বামী আম্বার গ্রুপের চেয়ারম্যান শওকত আজিজ (রাসেল) এর কাছে ৫ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেন আসামি হারুন। এ ঘটনায় ২০১৬ সালের ৫ মে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ করা হয়। চাঁদার টাকা না দেওয়ায় আসামি হারুন অর রশীদের সঙ্গে বাদীর স্বামীর পুরোনো বিরোধ ছিল। সর্বশেষ ৩০ অক্টোবর বাদী ও তার পুুত্রকে একটি পার্টিতে নামিয়ে ঢাকা ক্লাবে আসেন। ক্লাব থেকে বেরিয়ে দেখেন ড্রাইভারসহ তার গাড়িটি নেই। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন গাড়ি আছে নারায়ণগঞ্জে। পরদিন ১ নভেম্বর রাতে বাদীর স্বামীর অনুপস্থিতিতে হারুন একদল পুলিশ নিয়ে তার গুলশানের বাসায় ঢুকে ভাঙচুর করেন। এরপর তার স্ত্রী-সন্তানকে নারায়ণগঞ্জে নিয়ে যান। পরে বাদীর খোয়া যাওয়া গাড়িতে ইয়াবা, মদ ও গুলি উদ্ধারের ঘটনা সাজিয়ে তার ও তার গাড়িচালকের নামে মামলা করেন। গুলশানের বাসা থেকে বাদী-সন্তানকে তুলে নিয়ে যাওয়ার একটি ভিডিও তার কাছে আছে। এছাড়া আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধ লাভবান হওয়ার জন্য মিথ্যা ঘটনা সাজিয়ে বাদীর স্বামীকে হয়রানি করছে।
