ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, প্রতারণা এবং বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে পৃথক তিনটি অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেল আবিচাই মান্দেলব্লিট গতকাল বৃহস্পতিবার একথা জানিয়েছেন।
প্রধানতম অভিযোগে বলা হয়েছে, নেতানিয়াহু ইসরাইলি এক ধনকুবেরের নিকট থেকে উপহার হিসেবে ২ লাখ ৬৪ হাজার মার্কিন ডলারের পণ্য গ্রহণ করেছিলেন। যার মধ্যে শ্যাম্পেন ও সিগার অন্তর্ভুক্ত ছিল। এই বিষয়টি ইসরাইলি একটি পত্রিকা ফলাও করে প্রচার করার পর তা কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। এই অভিযোগ আদালতে প্রমাণ হলে তার সর্বোচ্চ ১০ বছর এবং সর্বনিম্ন চার বছরের কারাদন্ড হতে পারে।
অপর দুটি অভিযোগের একটি হচ্ছে, ভালো কাভারেজ পাবার চুক্তিতে তার দেশের একটি পত্রিকার সঙ্গে আঁঁতাত করে প্রতিদ্বন্দ্বি আরেকটি পত্রিকার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে সেটিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে চেয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। নেতানিয়াহু এবং অভিযুক্ত পত্রিকার প্রকাশক উভয়েই এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
অন্যটি হচ্ছে, একটি টেলিযোগাযোগ কোম্পানির পক্ষে কাজ করে অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ করেছিলেন তিনি। এটিও তিনি অস্বীকার করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে একটি মহল তার বিরুদ্ধে এই ষড়যন্ত্র করছে। তিনি পদত্যাগ করবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন।
নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে এই অভিযোগ ওঠার পর ইসরাইলের ভবিষ্যত্ নেতৃত্ব এখন শঙ্কার মুখে। দীর্ঘদিন ধরে দেশটিকে নেতৃত্ব দেওয়া এই নেতা চলতি বছরে পরপর দুইবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করতে পারেননি। তার প্রতিদ্বন্দ্বি ব্লু অ্যান্ড হোয়াইট পার্টির পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে জোট গঠনে অস্বীকৃতি জানানো হয়েছে। যেহেতু, ঐক্যের ভিত্তিতে সরকার গঠন সম্ভব হয়নি তাই দেশটিতে আবার সাধারণ নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। কিন্তু দুর্নীতির অভিযোগ গঠন হওয়ায় নেতানিয়াহু সেই নির্বাচনে লড়তে পারবেন কি না, তাই এখন পরিস্কার নয়। প্রসঙ্গত, ২০০৯ সাল থেকে দেশটিতে ক্ষমতায় রয়েছেন নেতানিয়াহু।
