নিজেই বাড়িয়ে নিতে পারেন কম্পিউটারের কর্মক্ষমতা

আপডেট : ২২ নভেম্বর ২০১৯, ২০:০০

দীর্ঘদিনের ব্যবহারে আপনার পুরোনো পিসিকে আর সময়ের সাথে উপযোগী মনে হচ্ছে না। এদিকে নতুন একটি পিসি কেনার মতো অবস্থাতেও আপনি নেই। সেক্ষেত্রে সেই পুরোনো ধীরগতির পিসির ওপর ভরসা করেই চলতে হবে আপনাকে। এই পুরোনো পিসিতে খানিকটা গতির সঞ্চার করার কিছু টিপস তুলে ধরা হলো এ খেলায়।

দ্রুত বদলে যাওয়া প্রযুক্তিবিশ্বের প্রেক্ষাপটে যেকোনো প্রযুক্তি পণ্যই খুব দ্রুত পুরোনো হয়ে যায়। পার্সোনাল কম্পিউটারের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। বলতে গেলে প্রতিবছরই হাজির হচ্ছে নতুন ধরনের প্রসেসর এবং অন্যান্য যন্ত্রাংশ। নতুন এসব হার্ডওয়্যারের সমন্বয়ে তৈরি নতুন পিসির কাছে এক বছর আগে কেনা পিসিটিও ব্যাকডেটেড মনে হতে পারে। কিন্তু বছর বছর তো আর নিজের পিসিকে বদলে নেওয়া সম্ভব নয়। এই ধরনের পরিস্থিতিতে ছোটখাট কিছু পদ্ধতি অনুসরণ করলে আপনার পুরোনো পিসিতে সংযোজন করতে পারেন বাড়তি গতি। বেশ সহজ এই পদ্ধতিগুলো বাস্তবায়ন করতে খুব বেশি জটিলতাও পোহাতে হবে না।

 

স্টার্টআপের ভার কমান

কম্পিউটার চালুর সময়েই একগাদা প্রোগ্রাম রান করা শুরু করে। ফলে পিসি শুরু হতে না হতেই গতির দিক থেকে পিছিয়ে পড়ে। তাই স্টার্টআপে যত কম প্রোগ্রাম রান করানো যায়, ততই ভালো। হার্ডওয়্যারের জন্য প্রয়োজনীয় সিস্টেম প্রোগ্রাম বা প্রসেস, অ্যান্টিভাইরাস প্রভৃতি প্রোগ্রাম অবশ্য পিসি চালু হওয়ার শুরু থেকেই রান করা দরকার। কিন্তু এর বাইরেও নানা ধরনের প্রোগ্রাম চালু হয়ে যায় পিসিতে শুরু থেকেই, যেগুলোকে সাধারণত পিসিতে নিয়মিত ব্যবহারও করা হয় না। এই ধরনের প্রোগ্রামগুলোকে নিষ্ক্রিয় করে রাখতে হবে স্টার্টআপ থেকে। এর জন্য উইন্ডোজের রান কমান্ডে গিয়ে লিখতে হবে ‘msconfig’। সেখানকার উইন্ডোতে চলে আসবে স্টার্টআপে চালু হওয়া প্রোগ্রামের তালিকা। সেই তালিকা থেকে বেছে বেছে শুরুতেই দরকার এমন প্রোগ্রামগুলো বাদ দিয়ে বাকিগুলোকে নিষ্ক্রিয় করে রাখুন। তাতে পিসিতে শুরু থেকেই ভালো একটি গতি লাভ করতে পারবেন।

 

অপ্রয়োজনীয় সফটওয়্যার দূর করুন

পিসিতে অপারেটিং সিস্টেম বা পিসি নির্মাতার পক্ষ থেকেই বেশকিছু প্রোগ্রাম বা সফটওয়্যার ইন্সটল করা থাকে কিংবা পিসি যে দোকান থেকে কিনবেন, সেখান থেকেও অনেক সফটওয়্যার ইন্সটল করে দেওয়া থাকে, যার অনেকগুলোই আপনার প্রয়োজন নাও হতে পারে। এই ধরনের অপ্রয়োজনীয় সফটওয়্যার বা প্রোগ্রাম আপনার পিসিকে কেবল ভারিই করে দেবে, কোনো কাজে দেবে না। এই কারণে এই ধরনের প্রোগ্রামগুলোকে পিসি থেকে বিদায় করে দেওয়াই ভালো। সিসি ক্লিনার, পিসি ডিক্র্যাপিফায়ার, ড্রপইট প্রভৃতি সফটওয়্যারের মাধ্যমে এই কাজগুলো সহজেই করে ফেলতে পারবেন। এ ছাড়া পিসিতে ইন্সটল করা অপ্রয়োজনীয় সফটওয়্যারগুলোকেও আনইন্সটল করে ফেলুন। যেসব সফটওয়্যার ব্যবহার করেন না, সেগুলো ইন্সটল করা থাকলে কেবল আপনার পিসির স্টোরেজ আর মেমোরিতে নেতিবাচক প্রভাবই ফেলবে।

 

ডিফ্র্যাগমেন্ট করুন হার্ডডিস্ক

হার্ডডিস্কে তো প্রতিনিয়তই একের পর এক তথ্য জমা হতে থাকে। হার্ডডিস্ক থেকে কোনো তথ্য ডিলিট করে দিলেও আসলে সেসব তথ্য হার্ডডিস্কে থেকেই যায়। নতুন কিছু হার্ডডিস্কে সংরক্ষণ করলে সে শুরু ওভাররাইটের কাজটি করে থাকে। দীর্ঘদিনের ব্যবহারে হার্ডডিস্কে তথ্য সংরক্ষণের ক্ষমতা অনেকটাই কমে যায়। এজন্য নিয়মিত বিরতিতে হার্ডডিস্ককে ডিফ্র্যাগমেন্ট করা দরকার। উইন্ডোজের বিল্ট-ইন ডিফ্র্যাগমেন্টার ছাড়াও থার্ড-পার্টি সফটওয়্যার রয়েছে এই কাজের জন্য। এতে হার্ডডিস্কের কর্মক্ষমতা অনেকটাই বেড়ে যায়।

 

হার্ডওয়্যারকেও পরিচ্ছন্ন রাখুন

পিসি থেকে অপ্রয়োজনীয় সফটওয়্যারের জঞ্জাল দূর করাটা যেমন প্রয়োজনীয়, তেমনি পিসির হার্ডওয়্যারে ধুলো-ময়লা জমলে সেগুলোকেও দূর করতে হয়। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় পিসির কেনার পর কয়েক বছর পার হয়ে গেলেও পিসির কেসিংটি খোলা হয় না। এতে করে অনেক সময়ই কেসিংয়ের মধ্যে থাকা হার্ডওয়্যারগুলোতে ময়লার পুরু স্তর জমে যায়। ফলে প্রসেসর, র্যাম, গ্রাফিক্স কার্ড প্রভৃতি হার্ডওয়্যার পরিচালনার সময় অতিরিক্ত তাপ উত্পন্ন হতে পারে যা পিসির জন্য ক্ষতির। নিয়মিত পিসির হার্ডওয়্যারকে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখলে তা হার্ডওয়্যারগুলোকে সঠিকভাবে চলতে সহায়তা করে।

 

নতুন উইন্ডোজ ইন্সটল করুন

উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম নিজেই সময়ের সাথে ধীরগতির হয়ে যায়। তাই সফটওয়্যার বিষয়ক টিপসগুলো অনুসরণ করার পরও সন্তোষজনক ফলাফল না পেলে আপনার উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমটিকেই নতুন করে ইন্সটল করে নিন। এর আগে আপনার প্রয়োজনীয় সিস্টেম ডাটা বা হিস্টোরি সংরক্ষণ করতে ভুলবেন না। আর খুব ভালো হয় যদি গোটা হার্ডডিস্কের সকল ডাটার ব্যাকআপ অন্য কোথাও রেখে গোটা হার্ডডিস্ককে ফরম্যাট করে নতুন পার্টিশন দিয়ে উইন্ডোজ ইন্সটল করে নিতে পারেন। সেক্ষেত্রে পিসির গতিতে নিজেই চমকে যাবেন আশা করা যায়।

 

এসএসডি ব্যবহার করুন

হার্ডডিস্কের তুলনায় সলিড স্টেট ড্রাইভ (এসএসডি) অনেক বেশি দ্রুততার সাথে কাজ করে থাকে। তাই হার্ডডিস্কের বদলে এসএসডি ব্যবহার করতে পারলে তথ্য স্থানান্তরসহ পিসির বিভিন্ন কাজেই বাড়তি গতি পাবেন। এসএসডির দাম অবশ্য তুলনামূলকভাবে একটু বেশি। তবে হার্ডডিস্কের তুলনায় এর স্থায়িত্বও বেশি। তাই গতির সাথে সাথে তথ্যের সুরক্ষাতেও এসএসডি স্টোরেজ আপনার সহায় হয়ে উঠতে পারে।

 

নতুন গ্রাফিক্স কার্ড ব্যবহার করুন

পিসিতে সাধারণ কাজগুলো ঠিকঠাকমতো করতে পারলেও হয়তো দেখা যাচ্ছে এইচডি ভিডিও দেখতে গিয়ে বা গেম খেলতে গিয়ে বিরক্তির চূড়ান্তে পৌঁছে যেতে হচ্ছে। গোটা পিসির বদলে একটি আপগ্রেডেড গ্রাফিক্স কার্ডই এক্ষেত্রে সমাধান হয়ে আসতে পারে। আসলে হাই-এন্ড সব গেম কিংবা এইচডি ভিডিওগুলোর জন্য গ্রাফিক্স কার্ডের ব্যাকআপ গুরুত্বপূর্ণ। ডুয়াল কোর বা কোর টু ডুয়ো প্রসেসরের সাথে ভালো একটি গ্রাফিক্স কার্ড পিসির পারফর্ম্যান্সকে অনেকটাই বাড়িয়ে দেবে।