রাজনৈতিক বিজ্ঞাপনে বিধিনিষেধ জারি করছে গুগল

আপডেট : ২২ নভেম্বর ২০১৯, ২০:২৯

ভোটারদের প্রভাবিত করতে নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে কোনো রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন দেওয়ার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ জারি করল গুগল। প্রতিষ্ঠানটির ইউটিউব ও গুগল সার্চ প্ল্যাটফরমে রাজনৈতিক প্রচার করার ক্ষেত্রে বৈশ্বিক পর্যায়ে এ বিধিনিষেধ কার্যকর হবে। বৃহস্পতিবার বিবিসি অনলাইনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

সপ্তাহখানেকের মধ্যে যুক্তরাজ্যে গুগলের নীতিমালা প্রয়োগ শুরু হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে বিশ্বের অন্য দেশেও এ নীতিমালা কার্যকর হবে।
নির্দিষ্ট ভোটার ডেটাবেইস মিলিয়ে প্রচার কার্যক্রম চালানোর পরিবর্তে নির্দিষ্ট বয়স, লিঙ্গ বা স্থান অনুযায়ী বিজ্ঞাপন দেখানোর সুযোগ থাকবে।

গুগল কর্তৃপক্ষ বলেছে, তাদের প্ল্যাটফরমে দেওয়া বিজ্ঞাপনে যদি প্রতারণামূলক বক্তব্য থাকে, তবে তারা ব্যবস্থা নেবে। এদিক থেকে অবশ্য ফেসবুকের নীতিমালার উলটো অবস্থানে চলে গেল গুগল। ফেসবুকের প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ বলেন, তাদের প্ল্যাটফরমে রাজনৈতিক প্রার্থী বা প্রচার কর্মসূচি থেকে দেওয়া বিজ্ঞাপনে ফ্যাক্ট পরীক্ষা করে দেখা হবে না। টুইটার বলেছে, তাদের প্ল্যাটফরমে কোনো রকম রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন দেখানোর সুযোগই থাকছে না।

গুগল অ্যাডস বিভাগের পণ্য ব্যবস্থাপনা প্রধান স্কট স্পেনসার গত বুধবার এক ব্লগ পোস্টে বলেছেন, ‘গণতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে রাজনৈতিক সংলাপকে আমরা স্বীকৃতি দিয়ে থাকি। কেউ প্রতিটি রাজনৈতিক দাবি, পালটা দাবি ও ক্ষোভকে সংবেদনশীলভাবে বিচার করতে পারে না। তবে যেসব রাজনৈতিক বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে আমরা ব্যবস্থা নিতে পারি, তা সীমিত পর্যায়ে থাকবে। কেবল সুস্পষ্ট নীতিমালা ভঙ্গ করলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

স্পেনসার বলেন, তারা যেসব পরিবর্তন আনছেন তা প্রয়োগে কিছুটা দেরি হতে পারে। যুক্তরাজ্যে দ্রুত তা প্রয়োগ করা হচ্ছে। তবে জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহ নাগাদ বিশ্বের অন্যান্য দেশে তা প্রয়োগ করা হবে। ২০১৮ সালে তথ্য প্রকাশ শুরু করার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন থেকে গুগল আয় করেছে ১২ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করেছে ‘ট্রাম্প মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন কমিটি’। তারা ৮৫ লাখ মার্কিন ডলার গুগলের বিজ্ঞাপনে খরচ করেছে।