পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় গত এক সপ্তাহে প্রতি মণ ধানের দাম ১৫০ টাকা বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। এলাকার হাটবাজারে আমদানিও বেড়েছে। উপজেলার কয়রা গ্রামের জোতদার কৃষক আব্দুল হাই বলেন, ‘মৌসুমের সময় দাম পাইনি কিন্তু এখন বাইরের ফড়িয়ারা ধান কেনায় দাম বেড়েছে।’ তিনি আরো জানান, এক সপ্তাহ আগেও এক মণ ধানের দাম ছিল ৬৫০ টাকা, এখন তা ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে ১ হাজার টাকা মণ হলে খুশি হব। ধানের মূল্য বৃদ্ধিতে স্থানীয় মিলাররাও খুশি, কারণ চালের দাম না পাওয়ায় তাদের ব্যবসায় যে মন্দা সৃষ্টি হয়েছিল, তা কাটতে শুরু করেছে।
উপজেলার অষ্টমণিষা বাজারের মিল-চাতালের মালিক ভবেশ চন্দ্র জানান, খাদ্যের বাজারে মন্দার কারণে অনেক ধানের কল বন্ধ হয়ে গেছে। তাই ঐসব ব্যবসায়ীরা বাইরের চাহিদা মিটাতে ধান কিনে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জ জেলার বিভিন্ন অটোরাইস মিলে পাঠাচ্ছেন। এ কারণে দাম কিছুটা বেড়েছে। তবে নতুন ধান না ওঠা পর্যন্ত বাজার আরো কিছুটা চাঙ্গা হতে পারে বলে তার ধারণা।
জানা গেছে, ভাঙ্গুড়া খাদ্য গুদামে এবছর সরকার কৃষকদের কাছ থেকে ২৬ টাকা কেজি দরে ৫৬৬ মেট্রিক টন ধান ক্রয় করে। ঐ সময় কৃষক এক মণ ধানের দাম পেয়েছে ১ হাজার ৪০ টাকা কিন্তু খোলাবাজারে তখন ধানের মূল্য ছিল মাত্র ৬০০ টাকা। মুষ্টিমেয় কিছু কৃষক এ সুযোগ পেয়েছিলেন। ফলে বেশিরভাগ কৃষক পানির দামে ধান বিক্রি করে ক্ষতিগ্রস্ত হন।
উপজেলা কৃষি অফিসার এনামুল হক জানান, গত বোরো মৌসুমে ভাঙ্গুড়া উপজেলায় ৪৫ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন ধান উত্পাদন হয়। এর মধ্যে এখানকার খাদ্য চাহিদা ২২ হাজার ৫২০ মেট্রিক টন বাদে ২২ হাজার ৭৩০ মেট্রিক টন উদ্বৃত্ত খাদ্য কৃষকরা বিক্রি করেন।
উপসহকারী কৃষি অফিসার সুস্থির কুমার সরকার বলেন, ‘এলাকার সচ্ছল কৃষকের ঘরে এখনো পর্যাপ্ত ধান রয়েছে। ধানের মূল্য বাড়ায় তারা সেগুলো বিক্রি শুরু করেছেন।’ তবে দাম বাড়ার কারণে খাদ্য সংকট সৃষ্টির কোনো সম্ভাবনা নেই বলে তিনি জানান।
