কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ঝিনাইদহের কপোতাক্ষ তীরের খালিশপুরের নীলকুঠি। জেলার এ ঐতিহাসিক ভবনটি সংরক্ষণের কোনো উদ্যোগ ছিল না এতদিন। এবার প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর এ নীলকুঠির অবয়ব ঠিক রেখে তা সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে। এ ব্যাপারে সংস্থার পক্ষ থেকে সার্ভেও করা হয়েছে। এর পাশাপাশি বারোবাজারের ধ্বংসপ্রাপ্ত আরো চারটি মসজিদ পুনঃর্নিমাণ করা হবে। এজন্য একটি ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) তৈরি করা হচ্ছে। এটি সরকার অনুমোদন করলে একনেকে তোলা হবে। একনেকে পাশ হলে কাজ শুরু করা হবে, প্রত্ন অধিদপ্তরের এক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
১৭৫৭ সালে পলাশী যুদ্ধে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরাজয়ের মধ্যে এদেশে ইংরেজ শাসনের পত্তন হয়। ভাগ্য বদলের জন্য শত শত সাহেব এদেশে আসে। তাদের একটা বড়ো অংশ নীলের ব্যবসায়ে নামে। তত্কালীন যশোর, নদীয়া ও রাজশাহী অঞ্চলে তারা কুঠি স্থাপন করে নীল চাষ শুরু করে।
যশোর অঞ্চলে অনেকগুলো নীলকুঠি স্থাপিত হয়েছিল। নীল বিদ্রোহ শুরুও হয়েছিল এ অঞ্চল থেকে। শৈলকুপার বিজুলিয়া নীলকুঠির ডাম্ভেল সাহেব ছিল খুবই অত্যাচারী। অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে ৫০ গ্রামের চাষিরা দেশি অস্ত্র নিয়ে কুঠি আক্রমণ করেছিল। কুঠিয়াল সাহেব পালিয়ে জীবন বাঁচিয়েছিলেন।
কৃত্রিম নীল আবিষ্কারের পর নীল ব্যবসায়ে ভাটা দেখা দেয়। সাহেবগণ ব্যবসা গুটিয়ে ফেলতে থাকে। এদেশীয় জমিদাররা কুঠিগুলো কিনে তাদের কাচারি স্থাপন করতে থাকে। খালিশপুর কুঠি নীল চাষের শেষ দিকে স্থাপন করা হয়েছিল। সাহেবদের কাছ থেকে কুঠিটি কিনে নেন পাবনার এক জমিদার। তিনি তার জমিদারির কাচারি স্থাপন করেন। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর জমিদার দেশ ত্যাগ করে ভারতে চলে যান। একজন নায়েব দেখাশুনা করতেন। ১৯৫২ সালে জমিদারি প্রথা উচ্ছেদ হলে নায়েবও এ কুঠি ছেড়ে চলে যান। ১৪ একর জমির ওপর স্থাপিত নীলকুঠি সরকারে খাসে নেওয়া হয়। এরপর থেকে দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। দ্বিতল এ কুঠিটি সংস্কারের অভাবে ধ্বংসের পথে।
প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের খুলনার আঞ্চলিক পরিচালক আফরোজা খান মিতা জানান, ইতিহাসের সাক্ষী খালিশপুর নীলকুঠি আগের মতো করে গড়া হবে। এটি একটি দর্শনীয় স্থান হবে।
ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ বলেন, খালিশপুরের কুঠির পাশের জমিতে একটি ইকো পার্ক গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পর্যটন করপোরেশনের সঙ্গেও কথা হয়েছে বলে তিনি আরো জানান।
