চুক্তি মেয়াদোত্তীর্ণের ১১ মাস

চা-শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবি

আপডেট : ২২ নভেম্বর ২০১৯, ২১:০৬

চা শ্রমিকদের দৈনিক ৩০০ টাকা মজুরি ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন চা শ্রমিকরা। ২০১৮ সনের জানুয়ারি মাসে চা শ্রমিকদের দুবছর অন্তর মজুরি বৃদ্ধির চুক্তির মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়। ৮৫ টাকা থেকে ১৭ টাকা বৃদ্ধি করে এ-ক্লাস বাগানে ১০২ টাকা নির্ধারণ করা হয়। মজুরি চুক্তির ১১ মাস অতিবাহিত হওয়ায় বাঁচার মতো মজুরি দ্রুত ঘোষণার দাবি তোলা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টায় বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতি কমলগঞ্জ ইউনিট কার্যালয়ে মতবিনিময়ে লিখিত বক্তব্যে এসব দাবি তুলে ধরা হয়।

শমসেরনগর ইউপি সদস্য ও চা শ্রমিক নেতা সীতারাম বীন লিখিত বক্তব্যে বলেন, দেশে চা শিল্পে নিয়োজিত চা শ্রমিকরা যুগযুগ ধরে অবহেলিত। চা শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির চুক্তি বাস্তবায়ন না হওয়ায় সাধারণ শ্রমিকরা দুঃখ-কষ্টে দিনযাপন করছেন। মাত্র ১০২ টাকা মজুরি দিয়ে চা বাগানের পাঁচ, সাত সদস্যের শ্রমিক পরিবার চালানো সম্ভব হচ্ছে না। সে চুক্তির মেয়াদও ১১ মাস অতিবাহিত। চা বাগানের শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানোর দাবি করায় ২০১৮ সনের ৬ অক্টোবর চুক্তি মোতাবেক ৮৫ টাকা থেকে মাত্র ১৭ টাকা বৃদ্ধি করে এ ক্লাস বাগানে ১০২ টাকা নির্ধারণ করা হয়। আর বি ও সি ক্লাস বাগানে মজুরি আরো কিছুটা কম। মজুরি চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার ২০ মাস পর এই মজুরি বৃদ্ধি করা হয়। সপ্তাহে রেশন দেওয়া হয় ৩ কেজি ২৭০ গ্রাম আটা বা চাল। শ্রম আইন ও শ্রম বিধি অনুযায়ী আমাদের চা শ্রমিকদের যে সব সুযোগ সুবিধা রয়েছে সেখান থেকেও কৌশলে চা বাগানে নিরক্ষর সাধারণ শ্রমিকদের বঞ্চিত করা হচ্ছে। ফলে চা বাগান শ্রমিক পরিবার সদস্যরা নূন্যতম খাবার খেয়ে জীবন ধারণের জন্য বিভিন্ন মহল থেকে দৈনিক মজুরি দেওয়ার দাবি উঠছে।

সীতারাম বীন বলেন, গত ২২ অক্টোবর সরকার গেজেটের মাধ্যমে মজুরি কমিশন বোর্ড গঠন করেছে। মজুরি বোর্ডে চা শ্রমিক প্রতিনিধি রামভজন কৈরীকে নিয়োগ দেওয়ায় শ্রমিকরা আশাম্বিত। ২০০৯ সালে তত্কালীন শ্রমমন্ত্রী দৈনিক ১৫০ টাকা, ২০১৪ সালে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ২০০ টাকা, ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় স্থানীয় সংসদ সদস্য উপাধ্যক্ষ  আব্দুস শহীদ চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৫শ’ টাকা করার প্রস্তাব করেন। চা শ্রমিকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সে সব প্রস্তাব বিবেচনায় আনা জরুরি। সে সব দাবি মানা না হলেও বাঁচার মতো ন্যূনতম ৩০০ টাকা দৈনিক মজুরি ঘোষণার জন্য সংশ্লিষ্টদের কাছে দাবি করেন। অপরদিকে মৌলভীবাজার চা শ্রমিক সংঘের আহ্বায়ক রাজদেও কৈরী জানান, বর্তমান বাজার দরের সাথে সঙ্গতি রেখে ও সার্বিকভাবে বিবেচনা করলে চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৬৭০ টাকা হওয়া প্রয়োজন।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রামভজন কৈরী বলেন, সরকার যেহেতু মজুরি বোর্ড গঠন করেছে তাতে সরকারের সদিচ্ছার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। তবে যতো দ্রুত সম্ভব চা শ্রমিকদের বাঁচার মতো মজুরি চুক্তি বাস্তবায়ন হবে বলে আশাবাদি।

মতবিনিময় সভায় অন্যদের মধ্যে চা শ্রমিকদের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন ইউপি সদস্য নমিতা সিং, প্রতাপ রিকিয়াশন, মনি গোয়ালা, রাম সিং, সঞ্জয় কৈরী, সন্ধিপ বীন, স্বজল কৈরী প্রমুখ।