আবারও দুঃস্বপ্নের ব্যাটিং

আপডেট : ২২ নভেম্বর ২০১৯, ২১:৩৫

ধারাভাষ্য কক্ষ থেকে বের হয়েছেন হাবিবুল বাশার সুমন। বাংলাদেশি সাংবাদিকদের নিয়ে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলেন। সেখানেই তাকে ঘিরে ধরলেন ভারতীয় সাংবাদিকরা। ৩৮ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ইডেন গার্ডেন্সের ২২ গজে তখন কাঁপছে বাংলাদেশ দল।

২০০০ সালে বাংলাদেশের অভিষেক টেস্ট দলের সদস্য হিসেবে বিসিসিআইয়ের আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে এসেছেন হাবিবুল বাশার। একই সঙ্গে বাংলাদেশ জাতীয় দলের বর্তমান সময়ের নির্বাচক তিনি। মুমিনুল হক-মুশফিকুর রহিমদের আসা-যাওয়ার মিছিলে হতাশ হাবিবুল।

ভারতীয় সাংবাদিকরা নাছোড়বান্দা, সাবেক এই অধিনায়কের কাছে তাদের নানা জিজ্ঞাসা। ব্যর্থতার ভারে ন্যুজ অনুজদের সমালোচনার তির থেকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছেন প্রতিটি প্রশ্নের জবাবে। অপ্রত্যাশিত, হতাশাজনক, কঙ্কাল বের হয়ে পড়া ব্যাটিংয়ে গতকাল ইডেনে দিবারাত্রির টেস্টের শুরুটা বিবর্ণ হয়ে গেছে। গোলাপি বলের উত্সবটা যেন রং হারিয়েছে শুরুতেই। ইশান্ত শর্মা-উমেশ যাদবদের দুরন্ত গতির বোলিংয়ের সামনে মুমিনুল-ইমরুলদের দুঃস্বপ্নের ব্যাটিংয়ে ১০৬ রানেই গুটিয়ে গেছে গতকাল টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ে নামা বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস।

কনকাশনের প্রভাবেও নষ্ট হয়েছে বাংলাদেশের একাদশের ভারসাম্য। লিটন দাস ব্যাটিংই ছেড়ে গেছেন। তার বদলি হিসেবে নেমেছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। পরে নাঈম হাসানও একই আঘাতের কবলে পড়েছেন। তাদের দুজনকেই হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। মাথার স্ক্যান করতে নিয়ে যাওয়া হয় তাদেরকে।

হাবিবুল বাশারের মতে, এই ব্যাটসম্যানরাই অতীতে টেস্টে বড়ো ইনিংস খেলেছে। এখানে হচ্ছে না। বিশ্বমানের ভারতীয় সর্বগ্রাসী বোলিং আক্রমণটা বড়ো একটা কারণ, এমন শ্রীহীন ব্যাটিংয়ের পেছনে। তবে সেটিকে অজুহাত হিসেবে দাঁড় করাতে চান না তিনি। গতকাল এই নির্বাচক বলেছেন, আমার মনে হয়েছে আত্মবিশ্বাসের অভাব। উইকেট ভালো ছিল। বলও তেমন ঝামেলা করছে না। আমাদের কেউ গতির কাছে পরাস্ত হয়েছে। কেউবা পা নিতে দেরি করেছে।

টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্তে কোনো দোষের কিছু দেখছেন হাবিবুল বাশার। সাবেক এই অধিনায়ক বলেছেন, ‘ব্যাটিং আগে করাটা কোনো সমস্যা নয়। উইকেট ভালো আছে। এখানে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত ভুল কিছু নয়।’

ইন্দোরে প্রথম ইনিংসে ১৫০ রানে অলআউট হয়েছিল বাংলাদেশ। গতকাল ব্যাটিংয়ের লাগাম ছুটে যাওয়ার শুরুটা ইমরুল কায়েসকে (৪) দিয়ে। ইনিংসের সপ্তম ওভারের প্রথম বলে রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান ইমরুল। এক বল পরই এলবির ফাঁদে পড়েন তিনি। দলীয় ১৭ রান ও ইনিংসের ১১তম ওভারে ফিরেন মুমিনুল-মিঠুন। মুমিনুল উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন, মিঠুন বোল্ড হন। পরের ওভারে মুশফিক বোল্ড হলে ২৬ রানে পড়ে যায় ৫ উইকেট। ৯ রানে ৩ উইকেটের পতন। তিন জনই শূন্য রানে ফিরেছেন।

একপ্রান্ত আগলে থাকা সাদমান ২৯ রান করে ঋদ্দিমান সাহার দুর্দান্ত ক্যাচের বলি হন। বিপদের এই অগ্নিগর্ভে ভরসা হতে পারেননি অভিজ্ঞ মাহমুদউল্লাহ রিয়াদও (৬)। দলীয় ৬০ রানে তিনি ক্যাচ দেন স্লিপে। স্রোতের বিপরীতে লড়াইয়ের আভাস দিয়েছিলেন লিটন দাস। উইকেটে নেমেই কিছু দর্শনীয় শট খেলেছেন। কিন্তু ভারতীয় ফাস্ট বোলারদের বাউন্সারের তির এলোমেলো করে দেয় তাকে। ২১তম ওভারে ডাক করতে গিয়েছিলেন, কিন্তু শামির বলটা তার মাথায় আঘাত হানে।

প্রাথমিক অবস্থায় টিকে থাকলেও পরে বের হয়ে যেতে হয় লিটনকে। তিনি ২৪ রান করেন। পরে নাঈমের ১৯ রানে একশো পার হয় বাংলাদেশের স্কোর। লিটনের বদলি হিসেবে খেলা মিরাজ ৮ রান করেন। ভারতীয় পেসার ইশান্ত শর্মা ২২ রানে পাঁচটি, উমেশ যাদব তিনটি, শামি দুইটি করে উইকেট পান।