রোহিঙ্গারা বাংলাদেশ ও ভারতের নিরাপত্তার জন্য হুমকি

আপডেট : ২২ নভেম্বর ২০১৯, ২১:৫৭

মুক্তিযুদ্ধ ও গণহত্যা নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বিশ্ববাসীকে বাংলাদেশের গণহত্যার স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন দেশি-বিদেশি গবেষকরা। গতকাল রাজধানীতে দুুইদিনের আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধনী পর্বে গবেষক অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন বলেছেন, বাংলাদেশসহ প্রতিটি দেশের গণহত্যার বিচার হওয়া জরুরি। গণহত্যার বিচার না হওয়ার কারণেই দেশে দেশে গণহত্যা চলতে দেখা যায়। মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপরে গণহত্যা পরিচালিত হয়েছে অথচ তার বিচার হচ্ছে না। এই রোহিঙ্গারা বাংলাদেশ ও ভারতের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দেখা দিচ্ছে। যদি বাংলাদেশে গণহত্যা পরিচালনার জন্য পাকিস্তানের সামরিক কর্মকর্তাদের বিচার হতো তাহলে মিয়ানমারের সামরিক জান্তা এই গণহত্যা পরিচালনার সাহস পেত না।

‘১৯৭১ গণহত্যা-নির্যাতন আর্কাইভ ও জাদুঘর ট্রাস্টের আয়োজনে এবারের সম্মেলনের বিষয় ‘১৯৭১-এর গণহত্যা, বাংলাদেশের সুবর্ণ জয়ন্তী ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী’। এবারের সম্মেলনে গণহত্যার পাশাপাশি বঙ্গবন্ধুর শাসনামল, পঁচাত্তরের নির্মম হত্যাকাণ্ড ও বঙ্গবন্ধু পরবর্তী বাংলাদেশ সম্পর্কে আলোচনা হবে। সম্মেলনে ভারত, ইতালি, তুরস্ক, ইস্তাম্বুল, কম্বোডিয়া, বাংলাদেশ, মিয়ানমার, যুক্তরাজ্য থেকে প্রায় ৫০ জন বিশেষজ্ঞ গবেষক যোগ দিচ্ছেন।

শুক্রবার সকালে বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদ মিলনায়তনে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন ভারতের লেখক ও সাংবাদিক হিরন্ময় কার্লেকার। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক। সভাপতিত্ব করেন ট্রাস্টের সভাপতি অধ্যাপক ড. মুনতাসীর মামুন, স্বাগত বক্তব্য রাখেন আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক শিল্পী হাশেম খান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কাজী সাজ্জাদ আলী জহির বীরপ্রতীক।

কে এম খালিদ বলেন, যদি জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া, নিজামী—মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতায় না আসত তাহলে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস এভাবে পরবর্তী প্রজন্মের কাছ থেকে দূরে সরে যেতো না। বিএনপি-জামায়াত চক্র দেশ থেকে মুক্তিযুদ্ধে গণহত্যার ইতিহাস মুছে দিতে চেয়েছিল।

মূল প্রবন্ধে শামসদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় বিভিন্ন দেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যা নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছিল। কিন্তু বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ মুসলিম বিশ্ব সেই সমর্থন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিল। এই চক্রান্ত থেকে বের হয়ে এসে মুক্তিযুদ্ধের গণহত্যার স্বীকৃতি প্রদান ও সব যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।