নিত্য ভোগ্যপণ্যের দাম বেড়েছে

আপডেট : ২২ নভেম্বর ২০১৯, ২২:২৫

প্রতি বছর শীত মৌসুমের শুরু থেকেই সবজির দাম কমতে শুরু করলেও এবার উলটো বাড়ছে। বাজারে এই মুহূর্তে সব ধরনের সবজির দামই আকাশছোঁয়া। শুধু পেঁপের দাম ২৫ থেকে ৩০ টাকার মধ্যে হলেও বাকি সব সবজিই ৫০ টাকার ওপরে। আবার কোনো কোনো সবজি ৮০ থেকে ১০০ টাকা। এদিকে পেঁয়াজের দাম ২০০ টাকার নিচে এলেও এখনো তা গত বছরের এই সময়ের তুলনায় পাঁচ থেকে ছয় গুণ বেশি। দাম বাড়ার তালিকায় আরো রয়েছে চাল, ডাল, আটা, ময়দা ও ডিম।

গতকাল শুক্রবার রাজধানীর কাওরান বাজার, শান্তিনগর ও তুরাগ এলাকার কয়েকটি বাজারে খোঁজ নিয়ে এসব তথ্য পাওয়া যায়। নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রায় সব পণ্যের দাম বাড়ায় বিপদে পড়েছেন স্বল্প আয়ের মানুষ। সংসার চালাতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন তারা।

কাওরান বাজারে ভ্যান চালান রফিকুল। নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আর টিকে থাকতে পারছি না। সামান্য আয়ে কীভাবে যে সংসার চলে তা কেবল আল্লাই জানে।’

সবজি ব্যবসায়ীরা বলেছেন, প্রতি বছরের নভেম্বরের শুরুতেই সবজির দাম কমতে শুরু করে। কিন্তু এবার বন্যা ও বৃষ্টির কারণে শীতকালীন সবজির আবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে প্রতি বছর শীত মৌসুমের শুরুতে বাজারে যে পরিমাণ সবজির সরবরাহ হয়, এবার তা হয়নি। এছাড়া পরিবহন ধর্মঘটের কারণেও কিছুটা বিরূপ প্রভাব পড়েছে সবজির বাজারে।

গতকাল বাজারে বিভিন্ন ধরনের সবজির মধ্যে নতুন আলু ও শসা ৮০ থেকে ১০০ টাকা,               করলা ৭০ থেকে ৮০ টাকা, মুলা ৪০ থেকে ৫০ টাকা, টম্যাটো ১০০ থেকে ১২০ টাকা, বেগুন, পটোল ও শিম ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া লাউ ৫০ থেকে ৬০ টাকা, ফুলকপি ও বাঁধাকপি আকারভেদে ৪০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজারে আসা শীতকালীন শাক পালংয়ের ছোট্ট আঁটি (এক মুঠো) বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ টাকায়। লালশাক, মুলাশাকেরও একই অবস্থা।

এদিকে কোনো কারণ ছাড়াই দাম বেড়েছে চালের। সরকারের বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) তাদের গতকালের বাজারদরের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, সপ্তাহের ব্যবধানে চালের দাম কেজিতে ২ থেকে ৩ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। তবে ১৫ দিনের ব্যবধানে দাম বেড়েছে কেজিতে ৪ থেকে ৫ টাকা। গতকাল বাজারে নাজিরশাইল ও মিনিকেট মানভেদে ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হয়। অন্যান্য চালের মধ্যে পাইজাম, লতা ৪৮ থেকে ৫২ টাকা ও ইরি বা স্বর্ণা ৩৫ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হয়।

চালের মূল্যবৃদ্ধি প্রসঙ্গে গত বুধবার সচিবালয়ে চাল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক শেষে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার সাংবাদিকদের বলেছেন, এখন চালের দাম বাড়ার কোনো কারণ নেই। ব্যবসায়ীরা বলেছেন, দাম আর বাড়বে না। এছাড়া সরকারের গুদামে চালের পর্যাপ্ত মজুত আছে। চাল নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই।

তবে শুধু চাল নয়, গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে দাম বেড়েছে ডাল, আটা, ময়দা, ডিমেরও। আটা প্রতি কেজির প্যাকেটে ২ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৩৪ থেকে ৩৬ টাকায়। খোলা ময়দা ৩ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৩৭ থেকে ৪০ টাকায়। এছাড়া প্রতি কেজি নেপালি মসুর ডালে ৫ টাকা বেড়ে ১১৫ থেকে ১২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ডিম হালিতে ৩ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৩৬ থেকে ৩৮ টাকায়।

বাজারে এখন অন্যান্য সময়ের তুলনায় মাছের আমদানি বেশ ভালো। আমদানি ভালো ইলিশেরও। বিভিন্ন ধরনের মাছের মধ্যে ইলিশ আকারভেদে ৫০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা, রুই-কাতলা ২৮০ থেকে ৪০০ টাকা, পাবদা ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, তেলাপিয়া ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা, চাষের কই ১৩০ থেকে ১৬০ টাকা, পাঙাশ ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা, চাষের শিং-মাগুর ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা, চিংড়ি ৫০০ থেকে ৯০০ টাকা, রূপচাঁদা ৬০০ থেকে ৯০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া মাংসের মধ্যে ব্রয়লার ১২০ থেকে ১২৫ টাকা, পাকিস্তানি কক জাতের মুরগি ২৫০ টাকা, লেয়ার ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা, গরুর মাংস ৫৭০ টাকা এবং খাসির মাংস ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে বেড়েছে পেঁয়াজের আমদানি

গত দুই দিনে মিশর, পাকিস্তান ও মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজ আসায় দেশের বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যের আমদানি বেড়েছে। তবে এখনো ঝাঁজ সেভাবে কমেনি। গতকাল রাজধানীর খুচরা বাজারে দেশি পেঁয়াজ ১৮০ টাকা এবং আমদানিকৃত পেঁয়াজ মানভেদে ১১০ থেকে ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা বলেছেন, পেঁয়াজ নিয়ে এখন আর আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। দাম এখন কমতির দিকে। এছাড়া আগামী মাসেই নতুন মৌসুমের দেশি পেঁয়াজ পুরোদমে বাজারে উঠবে। তখন দাম আরো কমে যাবে।