ভারতের টেস্ট সিরিজ খেলতে যাওয়ার আগেই অধিনায়ক মুমিনুল হক বলেছিলেন, এক সাকিব আল হাসান না থাকা মানে, দুই জন সেরা খেলোয়াড়ের অনুপস্থিতি।
শেষ পর্যন্ত তাই হলো। ভারতের বিপক্ষে দুটি টেস্টেই দেখা গেল সাকিবকে ছাড়া রীতিমতো ধুঁকছে বাংলাদেশ দল। একদিকে ব্যাট হাতে সাকিবকে মিস করল বাংলাদেশ। অন্য দিকে সেরা বোলার সাকিবকেও পেল না দল। সেই সঙ্গে সাকিবের ক্ষুরধার অধিনায়কত্বও ছিল না এই সিরিজে। এই তিন ভূমিকায় সাকিবকে ছাড়া যেন ছন্নছাড়া হয়ে গেল টেস্ট সিরিজের বাংলাদেশ দল।
গত অক্টোবর মাসের ২৯ তারিখ দুই বছরের জন্য সাকিবকে সব ধরনের ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ করে আইসিসি। এর মধ্যে এক বছরের দণ্ডাদেশ স্থগিত থাকবে। ফলে এক বছর এই বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারকে ছাড়াই পথ চলতে হবে বাংলাদেশ দলকে। সাকিবের বিপক্ষে অভিযোগ ছিল, তিনি এক বাজিকরের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার কথা আইসিসির দুর্নীতি দমন ইউনিটকে জানাননি। এই অভিযোগে সাকিব নিষিদ্ধ হওয়ায় বাংলাদেশই পড়ল সবচেয়ে বেশি বিপদে।
সাকিবকে ছাড়া এক বছরের এই পথ চলা শুরু হলো—ভারত সফর থেকেই। প্রথমে গেল টি-টোয়েন্টি সিরিজ। সেখানে সাকিবের বদলে অধিনায়কত্ব করলেন মাহমুদউল্লাহ। তবু প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ভারতকে হারানোয় একটু সান্ত্বনা পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু পরের দুই ম্যাচের পরাজয়ে সাকিবের অভাবটা পরিষ্কার হয়ে গেল।
সাকিবের অভাব সবচেয়ে বেশি টের পাওয়া গেল টেস্ট সিরিজে এসে। প্রথম টেস্টে, ইন্দোরে ভারতের সামনে ব্যাটে-বলে ম্লান হয়ে রইল বাংলাদেশ। দুই ইনিংসে মুমিনুল হকের দল ১৫০ ও ২১৩ রানে অলআউট হলো। মিডল অর্ডারে সাকিবের অনুপস্থিতি প্রকটভাবে চোখে পড়ল। অন্য দিকে ভারত এক ইনিংসেই ৬ উইকেটে ৪৯৩ রান করে ইনিংস ঘোষণা করল। বল হাতে সাকিব থাকলে উইকেট যেমনই হোক, যে একটা প্রভাব ফেলতে পারতেন, তা একেবারেই পাওয়া গেল না।
দ্বিতীয় টেস্টে সাকিবের অনুপস্থিতি প্রথম থেকেই চোখে পড়ল। গতকাল টসে জিতে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নিলেন নতুন অধিনায়ক মুমিনুল। এখানেই সাকিব থাকলে অন্যরকম হতে পারত বলে অনুমান করা যায়। এরপর আবারও মিডল অর্ডারে সাকিবের মতো করে কেউ রুখে দাঁড়াতে পারলেন না।
বোলিংয়ের সময় আবার বাংলাদেশের তরুণ স্পিনার নাঈম আহত হয়ে ম্যাচ থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হলেন। ফলে স্পিনে বাংলাদেশের দুর্বলতা আরো বেশি করে সামনে এল।
