সিলেট টি

বিশ্ব বাজারে ফের সুনামের আশাবাদ

আপডেট : ২৩ নভেম্বর ২০১৯, ২১:২৪

এক সময় চায়ের আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি চায়ের স্বাদ ও গন্ধের সুনাম ছিল একচেটিয়া। কালের বিবর্তনে বিশ্ব বাজার ধরে রাখতে পারেনি বাংলাদেশি চা। তবে এ বছর দেশে চায়ের উত্পাদন বৃদ্ধি পাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে ‘সিলেট টি’ নামে খ্যাত বাংলাদেশি চা ফের জৌলুস ফিরে পাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানা যায়, দেশের ১৬৪টি চা-বাগানের মধ্যে ১৩৪টি চা-বাগানের অবস্থান সিলেট বিভাগে। সিলেটের বাগানগুলোতে উত্পাদিত চায়ের অধিকাংশই বিদেশে রপ্তানি করা হতো। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি চায়ের ব্র্যান্ড হিসেবে ‘সিলেট টি’ নামটি ছিল অত্যন্ত সুপরিচিত। যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, রাশিয়া, বুলগেরিয়া, পোল্যান্ড, হাঙ্গেরী, জাপান, মিশর, সুদান, জর্ডান, গ্রীস, সাইপ্রাস, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হতো বাংলাদেশি চা ‘সিলেট টি’। ১৯৮৪ সাল হতে অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধিসহ নানাবিধ প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে দেশে চায়ের উত্পাদন কমে যাওয়ায় রপ্তানি কমে যায়। ফলে বিশ্ব বাজার হারিয়ে ফেলে ‘সিলেট টি’।

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে অবস্থিত বাংলাদেশ চা-বোর্ডের তথ্য অনুসারে জানা যায়, চলতি বছরে বাংলাদেশে চায়ের উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ৯০ মিলিয়ন কেজিতে উন্নীত হওয়া সম্ভব, যা দেশের চা উত্পাদনে ১৬৫ বছরের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেকর্ড করবে। বাগানগুলোতে এ পর্যন্ত ২০ শতাংশেরও বেশি চায়ের উত্পাদন বেড়েছে, যা কয়েক বছরের মধ্যেই আশাতীত উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে প্রায় দ্বিগুণ দাঁড়াবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। চা বোর্ড সূত্রে জানা যায়, গত বছর এই সময়ে দেশে মোট ৫৪ দশমিক ৮৭ মিলিয়ন কেজি চা উত্পাদন হয়েছিল। চলতি বছরের এই সময়ে ৬৫ দশমিক ৯৪ মিলিয়ন কেজি চা উত্পাদন সম্ভব হয়, যা গত বছরের তুলনায় এখন পর্যন্ত মোট উত্পাদনের ২০ দশমিক ১৭ শতাংশ হারে এগিয়ে আছে।

বাংলাদেশ চা-বোর্ডের প্রকল্প উন্নয়ন ইউনিটের পরিচালক ড. কে এম রফিকুল হক জানান, চা-শিল্পের উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সরকার ২০০৯ সালে ‘চা আইন’ প্রণয়নসহ ‘উন্নয়নের পথনকশা: বাংলাদেশ চা শিল্প’ শিরোনামে মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে এবং চা উত্পাদন বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন বৃহদায়তন ও ক্ষুদ্রায়তনের চা-বাগান সৃজনের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এতে আগামী ২০২৫ সালের মধ্যে দেশে চায়ের উত্পাদন ১৪০ মিলিয়ন কেজিতে উন্নীত করার পাশাপাশি চা চাষ সম্প্রসারণ ও শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নের মাধ্যমে চা-শিল্পকে একটি টেকসই ভিত্তির ওপর রূপান্তরিত করা হবে। ‘উন্নয়নের পথনকশা’ ঠিক থাকলে বিশ্ব বাজারে হারিয়ে ফেলা বাংলাদেশি চা ‘সিলেট টি’র জৌলুস পুনরায় ফিরে পাবে বলে আশা করেন তিনি।