শীতের শুরুতেই পাবনার সুজানগরে শুঁটকি উত্পাদনের ধুম পড়েছে। কম খরছে লাভ বেশি হওয়ায় প্রকৃত মত্স্যজীবীদের পাশাপাশি মৌসুমি মত্স্যজীবীরাও শুঁটকি মাছ উত্পাদন করছেন।
উপজেলা মত্স্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, সুজানগর পৌরসভাসহ উপজেলার দুলাই, রানীনগর এবং হাটখালী ইউনিয়ন এলাকায় শতাধিক শুঁটকির চাতাল রয়েছে। এর মধ্যে পৌরসভার মসজিদপাড়া এলাকাতেই প্রায় অর্ধশত শুঁটকির চাতাল রয়েছে। এ বছর ঐ সব চাতালে শুঁটকি মাছ উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ২০ হাজার মণ।
উপজেলার মসজিদপাড়া গ্রামের মত্স্যজীবী আব্দুল করিম বলেন, আমরা গাজনার বিল এবং গেরকার বিলসহ আশপাশের চার-পাঁচটি বিল থেকে পুঁটি, টেংরা, বান, শোল এবং টাকি মাছ সংগ্রহ করে কোনো প্রকার রাসায়নিক দ্রব্য ছাড়াই সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যকর উপায়ে শুঁটকি মাছ উত্পাদন করে থাকি।
উপজেলার বড়ো শুঁটকি মাছ ব্যবসায়ী মিঠু বিশ্বাস জানান, এ বছর প্রায় ১৫ হাজার মণ শুঁটকি মাছ সৈয়দপুরের শুঁটকির আড়তে বিক্রি করা হবে। এরই মধ্যে ২০০ থেকে ৩০০ মণ শুঁটকি মাছ ঐ আড়তে বিক্রি করা হয়েছে। এ বছর শুঁটকির বাজার ও বেশ ভালো।
উপজেলার বদনপুর গ্রামের মত্স্যজীবী হেলাল উদ্দিন জানান, মাছ কেনা এবং শ্রমিকসহ এক মণ পুঁটি মাছ শুকাতে খরচ হয় প্রায় ৫ হাজার টাকা। বর্তমান বাজারে এক মণ পুঁটি মাছ শুঁটকি বিক্রি হচ্ছে ৬ থেকে ৮ হাজার টাকা, যা উত্পাদন খরচের চেয়ে প্রায় ৩ হাজার টাকা বেশি। ফলে উপজেলার অধিকাংশ মত্স্যজীবী শুঁটকি ব্যবসায় ঝুঁকছেন বলে তিনি জানান।
রানীনগর এলাকার মত্স্যজীবী জহির উদ্দিন বলেন, বর্তমানে আমরা সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে শুঁটকি উত্পাদন করছি। সরকারিভাবে ঋণ সহায়তা পেলে প্রতি বছর এ উপজেলা থেকে ৩০ হাজার মণ শুঁটকি মাছ উত্পাদন করা সম্ভব বলে তিনি জানান।
এ ব্যাপারে উপজেলা মত্স্য কর্মকর্তা আব্দুল হালিম বলেন, সরকার বিভিন্ন ক্ষেত্রে ঋণ সহায়তা দিয়ে থাকেন। ভবিষ্যতে শুঁটকি উত্পাদনকারী মত্স্যজীবী ও ব্যবসায়ীরাও যাতে সরকারি ঋণ সহায়তা পান সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হবে।
