এবার টুর্নামেন্টে বাকি দলগুলোর চেয়ে কাগজেকলমে বাংলাদেশের এমার্জিং দল অনেক এগিয়ে ছিল। বাকি টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলো যেখানে অপরিচিত খেলোয়াড়দের পাঠিয়েছিল, সেখানে বাংলাদেশ দল ছিল জাতীয় দলের অভিজ্ঞদের উপস্থিতি। ফলে টুর্নামেন্টের আগে থেকেই তাদের ফেবারিট মনে করা হচ্ছিল।
ফেবারিটের মতোই দাপটের সঙ্গে উঠে এসেছিল স্বাগতিক দল ফাইনালে। আগের দিন দলের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত বলেছিলেন, তারা ট্রফি জয়ের আশাই করছেন। কিন্তু আশাপূরণ হলো না। পারল না তারা পাকিস্তানের বিপক্ষে।
গতকাল মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৭৭ রানে হেরে গেলো বাংলাদেশ। এই জয়ের ভেতর দিয়ে পাকিস্তান হলো টুর্নামেন্টের নতুন চ্যাম্পিয়ন। আগে ব্যাট করা পাকিস্তান ৬ উইকেটে ৩০১ রান করেছিল। জবাবে ২২৪ রানে অলআউট হয়ে যায় বাংলাদেশ।
অথচ বল হাতে বাংলাদেশের শুরুটা ভালোই ছিল। মাত্র ১৮ রানে পাকিস্তানের ওপেনার ওমাইর ইউসুফকে ফেরত পাঠান সুমন খান। এরপর শুরু হয় রোহাইল নাজিরের পালটা আক্রমণ। প্রথমে হায়দার আলীকে নিয়ে একটা জুটি করেন তিনি। হায়দারকেও আউট করেন সুমন। এরপর ইমরান রফিকের সঙ্গে ১১৭ রানের জুটি করেন নাজির। ইমরান ৬২ রান করে ফেরেন।
শেষ পর্যন্ত হাসান মাহমুদের শিকার হন নাজির। তিনি আউট হওয়ার আগে ১১১ বলে ১১৩ রান করে ফেরেন। পরের দিকে দ্রুত রান তোলে সাউদ শাকিল, খুশদিলরা।
বিশাল রানের জবাবে বাংলাদেশ ঝড়ো শুরু করে। কিন্তু সৌম্য ৬ বলে ১৫ ও নাঈম ১৭ বলে ১৬ রান করে ফিরে আসেন। এরপর শান্ত চেষ্টা করেন প্রতিরোধ করার। ইয়াসির আলী ২২ রান করে আউট হন। শান্তর সঙ্গে দলকে জয়ের স্বপ্ন দেখাতে শুরু করেন আফিফ।
শান্ত ৫৩ বলে ৪৬ ও আফিফ ৫৩ বলে ৪৯ রান করে আউট হন। এখানেই কার্যত শেষ হয়ে যায় বাংলাদেশের লড়াই। শেষ দিকে এসে মেহেদী হাসান ৪২ রানের একটা ইনিংস খেলে ব্যবধান কমান। বাকিরা আর অবদান রাখতে পারেননি।
সংক্ষিপ্ত স্কোর :
পাকিস্তান : ৫০ ওভারে ৩০১/৬ (নাজির ১১৩, ইমরান ৬২, শাকিল ৪২, খুশদিল ২৭, হায়দার ২৬; সুমন ৩/৭৫, হাসান ২/৫২)।
বাংলাদেশ : ৪৩.৩ ওভারে ২২৪/১০ (আফিফ ৪৯, শান্ত ৪৬, মেহেদী ৪২, ইয়াসির ২২; হাসনাইন ৩/৩২, সাইফ ২/২৭, খুশদিল ২/৩৯)।
ফল: পাকিস্তান ৭৭ রানে জয়ী
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: রোহাইল নাজির (পাকিস্তান)
ম্যান অব দ্য টুর্নামেন্ট: সৌম্য সরকার (বাংলাদেশ)
