গুয়াডালজারা—মেক্সিকোর এক সুন্দর শহর। সেই শহরে ছিল এক বুড়ো। তাঁর তিন ছেলে। বুড়োর শরীর ভীষণ খারাপ। বুড়ো একদিন ছেলেদের ডেকে বলল, ‘আমি গরিব মানুষ। তোমাদের বড়ো করতেই সম্পদের পুরোটা শেষ হয়েছে। বাবার দেয়া মুক্তোটাই আমার শেষ সম্বল। শোনো ছেলেরা, মুক্তো বিক্রি কিংবা ভাগ—কোনোটাতেই আমার মত নেই। তবে সবচেয়ে ভালো ছেলেই মুক্তোর টুকরো পাবে। ভালো কাজ করার জন্য তোমাদের সাতদিন সময় দিলাম।’
এক সপ্তাহ পর ছেলেরা বাবার কাছে আসে। ছেলেদের কাজের ফিরিস্তি শোনার তাঁর ভারি কৌতূহল।
‘বাবা, দিন সাতেক ধরে একটা ভালো কাজের পরিকল্পনা করেছি। সব সম্পত্তি সমান দুই ভাগ করে শহরের গরিবদের বিলিয়ে দেব।’
বুড়ো বড়ো ছেলেকে বলল, ‘ভালো। খুউব নয়। মানুষের সাধ্যমতো গরিবকে সাহায্য করা উচিত।’
‘শুনুন বাবা’, মেজো ছেলে বলল, ‘একদিন বাড়ি ফেরার পথে একটি কিশোর ছেলেকে গ্রান্ড নদীতে হাবুডুবু খেতে দেখি। তখনই পানিতে ঝাঁপ দিয়ে অনেক কষ্টে কিশোরটাকে বাঁচাই।’
‘ভালো কাজ। প্রত্যেকের শিশুকে বাঁচানো কর্তব্য।’—বাবার উত্তর।
‘গত সপ্তাহে এক আশ্চর্য কাণ্ড হয়েছে। একদিন সকালে কম্বল মোড়া অবস্থায় একজন মানুষকে খাড়া পাহাড়ের কিনারে নিশ্চিন্তে ঘুমাতে দেখলাম। একটু পাশ ফিরলেই বেচারা পাহাড়ের অনেক নিচে পড়বে। বাবা, ভাবুন তো, মানুষটা কে?। স্যাচো, আমার চির শত্রু। অনেক সাবধানে মানুষটার খুব কাছে যাই। আর তার দুই হাত ধরে বুকে জড়িয়ে সমতলের দিকে নিয়ে আসি।’
আচমকা চোখ খুলে স্যাচো বলল, ‘সেদিন বাড়ি ফিরতে অনেক রাত হয়। বিষম অন্ধকারে অনেকটা পথ হেঁটে শরীরটাও ভীষণ ক্লান্ত। শেষমেষ এখানেই ঘুমিয়ে পড়ি। আর একটু এগোলে কিংবা নড়াচড়া করলেই গভীর খাদের একেবারে নিচে পড়ে যেতাম। তুমি আমার জীবন বাঁচিয়েছ। আর আমি কি না তোমায় মারতে চেয়েছি।’
‘তারপর সব শত্রুতা ভুলে দু’জনে বন্ধু হলাম’, একনাগাড়ে ছোটো ছেলে বাবাকে বলল।
সবটা শুনে বাবা ছেলেদের বলল, কেউই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শত্রুকে বাঁচায় না। এমন ভালো কাজের পুরস্কার হিসেবে মুক্তোর টুকরো তোমার কাছেই থাকবে।
রূপান্তর : কুতুব আজাদ
