রোহিঙ্গাদের ওপর হামলায় মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় নীতিতে শঙ্কিত আইসিসি

আপডেট : ২৩ নভেম্বর ২০১৯, ২২:৫৬

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রসিকিউটর ফাতু বেনসৌদা বলেছেন, আইসিসির বিচারকরা শঙ্কিত যে, রাখাইন রাজ্যে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর মিয়ানমার হামলার ‘রাষ্ট্রীয় নীতি’ গ্রহণ করতে পারে। গতকাল শনিবার এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন। সম্প্রতি রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মিয়ানমারের পরিকল্পিত অপরাধের তদন্ত শুরুর ব্যাপারে আইসিসি অনুমোদন দিয়েছে।

বিচারকদের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে প্রসিকিউটর বেনসৌদা বলেন, সেখানে বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, মিয়ানমারের বিভিন্ন সরকারি বাহিনীর উপস্থিতিতে এবং রাষ্ট্রীয় অন্যান্য সংস্থা ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে কিছু স্থানীয় লোকের অংশগ্রহণে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হতে পারে। রাষ্ট্রীয় মদতে পরিচালিত দমন কার্যক্রম এবং রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় অথবা জাতিগত নিধনের অভিযোগ মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে। বিচারকরা বৃহত্তর পরিসরে এই অপরাধ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন উল্লেখ করে প্রসিকিউটর বেনসৌদা এটিকে মিয়ানমারের নৃশংসতার বিরুদ্ধে একটি বড়ো অগ্রগতি বলে বর্ণনা করেন।

গত ১৪ নভেম্বর প্রি-ট্রায়াল চেম্বার তৃতীয় আদালতের বিচারকরা ‘বাংলাদেশ-মিয়ানমার পরিস্থিতি’ নিয়ে তদন্তের জন্য প্রসিকিউটর অফিসকে নির্দেশ দিয়েছে। আদালত বলেছে, মিয়ানমার আইসিসির সদস্য দেশ নয়, এজন্য দেশটি আইসিসির পক্ষ নয়। তবে বাংলাদেশ আইসিসির পক্ষ। মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্ত অতিক্রম করে যে সব বেসামরিক নাগরিক বাধ্য হয়ে বাংলাদেশে এসেছে, তারা হত্যা ও নির্যাতনের শিকার হয়ে এখানে এসেছে, এই ঘটনায় সুস্পষ্টভাবে ভৌগোলিক সংযোগ রয়েছে। এটি মিয়ানমারের অপরাধ প্রমাণের জন্য যথেষ্ট।