পেঁয়াজের মাত্রাতিরিক্ত দাম

কারসাজির হোতাদের ধরতে মাঠে গোয়েন্দা

আপডেট : ২৩ নভেম্বর ২০১৯, ২২:৫৭

দেশে সাম্প্রতিক পেঁয়াজের মাত্রাতিরিক্ত দর বৃদ্ধির পেছনে দায়ীদের শনাক্ত করতে মাঠে নেমেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) গোয়েন্দা বিভাগ। এনবিআরের শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর বড়ো আকারের প্রায় ৫০ আমদানিকারককে তলব করেছে। আগামীকাল সোমবার ও পরদিন মঙ্গলবার এ বিষয়ে তাদের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য নেওয়া হবে। বিশেষত কারা বাড়তি দামে বিক্রি করেছে কিংবা চাহিদা থাকা সত্ত্বেও কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছে—এ বিষয়টি অনুসন্ধান করা হবে। শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, গত আগস্ট থেকে ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত কারা পেঁয়াজ আমদানি করেছে, তাদের তালিকা সংগ্রহ করা হয়েছে। আলোচ্য সময়ে  কোন কোন আমদানিকারক কী পরিমাণে এবং কী দামে পেঁয়াজ আমদানি করেছে, ঐ তথ্যও সংগ্রহ করা হয়েছে। শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগের এক জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ইত্তেফাককে বলেন, আলোচ্য সময়ে প্রায় ৩০০ আমদানিকারক দেশের বিভিন্ন শুল্ক স্টেশনের মাধ্যমে প্রায় ১ লাখ ৬৮ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানি করেছেন। এর মধ্যে ১ হাজার টনের বেশি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৪৭টি। এসব আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে নজরদারির মধ্যে আনা হয়েছে।

যোগাযোগ করা হলে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. সহিদুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, প্রাথমিকভাবে আমরা ৪৭ আমদানিকারককে আগামী সোম ও মঙ্গলবার আসার জন্য চিঠি দিয়েছি। আলোচ্য সময়ে তারা কী পরিমাণ এবং কত দামে আমদানি করেছে, ঐ তথ্য আমাদের কাছে রয়েছে। তারা আমদানিকৃত পেঁয়াজ কাদের কাছে, কী পরিমাণে, কত দরে বিক্রি করেছে, সে তথ্য আমরা জানতে চাইব। এছাড়া তাদের কাছে কী পরিমাণ মজুত রয়েছে, সে তথ্যও সংগ্রহ করব। তাদের দেওয়া তথ্য যাচাই করার পর গরমিল পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গত চার মাসের বেশি সময় ধরে দেশে পেঁয়াজের দাম ঊর্ধ্বমুখী। এর মধ্যে গত প্রায় দুই মাস ধরে দাম মাত্রাতিরিক্ত বাড়তে থাকে। সর্বশেষ গত সপ্তাহে পেঁয়াজের দাম প্রায় আড়াই শ টাকার ঘরে চলে যায়। এ ঘটনায় রীতিমতো হই চই পড়ে যায় দেশব্যাপী। এনবিআর আমদানির বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে। তাতে দেখা যায়, গত চার মাসে পেঁয়াজ আমদানিতে ঘোষিত গড় মূল্য ছিল প্রতি কেজি ৩০ টাকা। সর্বশেষ চলতি মাসে আমদানিকৃত পেঁয়াজের দাম পড়েছে কেজিপ্রতি প্রায় ৭৫ টাকা। অথচ ভোক্তাকে কিনতে হয়েছে কয়েকগুণ বেশি দামে। এ ঘটনায় অভিযোগের আঙুল যায় আমদানিকারকদের দিকে।