হারানো দিনের গানে মুগ্ধ শ্রোতা

আপডেট : ২৩ নভেম্বর ২০১৯, ২২:৫৯

হারানো দিনের গান শুনিয়ে শ্রোতাদের মাঝে মুগ্ধতা ছড়ালেন শিল্পী ছায়া কর্মকার ও অনরুিদ্ধ সেনগুপ্ত। শিল্পীরা প্রমাণ করলেন জনপ্রিয় গান কখনোই হারিয়ে যায় না। গতকাল জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে ‘স্বপ্ন মধুর মোহে’ শীর্ষক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ঋষভ সংগীত অঙ্গন। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ভারতীয় হাইকমিশনের ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের পরিচালক ড. নীপা চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা লেডিস ক্লাবের প্রেসিডেন্ট মাহবুবা কবীর রুমঝুম। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন শিল্পী সাজেদ আকবর। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ঋষভ সংগীত অঙ্গনের পরিচালক ছায়া কর্মকার।

শিল্পীরা শুরু করেন যুগল গান দিয়ে। প্রথমেই তারা গেয়ে শোনান ‘এই তো হেথায়’। পরে দ্বৈতকণ্ঠে তারা গেয়ে শোনান ‘তুমি যে আমার কবিতা’ ও ‘কে প্রথম কাছে এসেছি’। একক কণ্ঠে ছায়া কর্মকার গেয়ে শোনান ‘গানেরই খাতায় স্বরলিপি লিখে’, ‘ঐ সুর ভরা দূর নীলিমা’, ‘মায়াবতী’, ‘এমনি বরষা ছিল’, ‘এখনো সারেঙ্গীয়া’, ‘‘নদীর যেমন ঝরনা’ ও ‘তখন তোমার একুশ’। অনিরুদ্ধ সেনগুপ্ত গেয়ে শোনান ‘এক তাজমহল’, ‘কী দেখি’, ‘চলিতে চলিতে পথে’, ‘রঙ্গিন কত মন’, ‘মন বলে আমি মনের’, ‘আমি ঝড়ের কাছে’ ও ‘খোঁপায় ঐ গোলাপ’ গানগুলি।

নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ের ‘নতুন উত্সব’: ‘নতুনের উত্সব’ শিরোনামে আগামী ২৯ নভেম্বর থেকে শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ের আয়োজনে শুরু হচ্ছে উত্সব। নাট্যদলটির ৫০ বছর পূর্তি এবং দর্শনীর বিনিময়ে নাটক মঞ্চায়নের ৪৫ বছর উদ্্যাপনের অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এ উত্সব। আর এই প্রথমবারের মতো একসঙ্গে সাতটি নতুন নাটকে সেজেছে উত্সব। এই সাত নাটকের মধ্যে পাঁচটির নির্দেশককে প্রণোদনা দিয়েছে নাগরিক। উত্সব শেষ হবে ৫ ডিসেম্বর। নতুনের উত্সব উপলক্ষ্যে গতকাল শনিবার শিল্পকলা একাডেমির নাট্যশালার সেমিনার কক্ষে সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করে নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়। নাগরিকের পক্ষে উত্সবের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন সংস্কৃতিজন আসাদুজ্জামান নূর। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন উত্সবে নতুন নাটক নিয়ে আসা তরুণ নির্দেশক পান্থ শাহরিয়ার, সাইদুর রহমান লিপন, কাজী তৌফিকুল ইসলাম ইমন ও মোস্তাফিজ শাহীন।

উত্সবের প্রথম দিন মঞ্চস্থ হবে নাগরিক নাট্য সম্প্র্রদায়ের নতুন প্রযোজনা ‘কালো জলের কাব্য’। নাটকটির নির্দেশনা দিয়েছেন পান্থ শাহরিয়ার। উইলিয়াম শেক্সপিয়াসের ‘মার্চেন্ট অব ভেনিসের’ ভাবানুবাদের নাটকটি অভিনয় করছেন আসাদুজ্জামান নূর। ৩০ নভেম্বর মঞ্চস্থ হবে শামীম সাগর নির্দেশিত সুনামগঞ্জের বন্ধন থিয়েটার ও প্রসেনিয়াম থিয়েটার যৌথ নির্মাণের ফসল ‘রাধারমণ’। ১ ডিসেম্বর মঞ্চস্থ হবে রতন সিদ্দিকী রচিত ও হূদি হক নির্দেশিত নাগরিক নাট্যাঙ্গনের নাটক ‘আকাশে ফুইটেছে ফুল—লেটো কাহন’। ২ ডিসেম্বর প্রদর্শিত হবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচিত ও সাইদুর রহমান লিপন নির্দেশিত নাটক ‘অরূপ রতন’। আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের উপন্যাসের নাট্যরূপে কাজী তৌফিকুল ইসলাম ইমনের নির্দেশনায় ৩ ডিসেম্বর মঞ্চস্থ হবে নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ের নাটক ‘খোয়াবনামা’। আফ্রিকান গল্প অবলম্বনে শুভাশিস সিনহার নির্দেশনায় ৪ ডিসেম্বর মঞ্চস্থ হবে মণিপুরি থিয়েটারের নাটক ‘ও মনপাহিয়া’। নামের আরেকটি নাটক। এ নাটকটি মঞ্চে আনছে মণিপুরি থিয়েটার। সমাপনী দিনে মঞ্চস্থ হবে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিল্পীদের অভিনীত নাটক ‘লটারি’। মোস্তাফিজ শাহীন নির্দেশিত নাগরিক নাট্য সম্প্র্রদায়ের প্রযোজনাটিতে উপদেষ্টার ভূমিকা রেখেছেন সারা যাকের। সমাপনী অনু্ষ্ঠানে চার জ্যেষ্ঠ নাট্যশিল্পীকে সম্মাননা জানানো। এরা হলেন—ফেরদৌসী মজুমদার, জ্যোত্স্না বিশ্বাস, লাকী ইনাম ও শিমূল ইউসুফ।