পণ্যের মূল্য নিয়ে গুজব ছড়াবেন না

আপডেট : ২৩ নভেম্বর ২০১৯, ২৩:১০

বাংলাদেশে খুব সহজেই গুজব ছড়িয়ে পড়ে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের প্রভাবে তা এখন মহামারি আকার ধারণ করলেও ইন্টারনেট সহজলভ্য হওয়ার আগে থেকেই গুজবের প্রচলন ছিল বাংলাদেশে। গ্রামগঞ্জে কিংবা শহরে নতুন কোনো ব্রিজ নির্মাণ হলেই গুজব ছড়িয়ে পড়ত ব্রিজে শিশুদের মাথা লাগবে, সবাই যেন সাবধান থাকে। সাধারণ মানুষ সাবধান হতো, তবে বাড়ির আশপাশে কিংবা এলাকায় অপরিচিত কোনো মানুষ দেখলেই ছেলেধরা বলে গণপিটুনির ঘটনা বাংলাদেশে যুগ যুগ ধরে চলে আসছে, যা এখন অসহ্যনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে।

পদ্মা সেতুতে মানুষের মাথা লাগবে, এমন গুজবের বলি হয়েছে বহু নিরীহ মানুষ। এর রেশ কাটতে না কাটতেই ভারতীয় পেঁয়াজ সংকটের গুজব ছড়িয়ে পড়ার মাধ্যমে ২০-২৫ টাকা কেজি পেঁয়াজের দাম ৩০০ টাকা পর্যন্ত হয়েছে, যা অবিশ্বাস্য। প্রত্যেকটি বিষয়েই গুজব মূলত স্বার্থান্বেষী মহলই ছড়ায়, ফেসবুক ও সাধারণ মানুষের অসচেতনতার কারণে যা দ্রুত দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। পেঁয়াজ, লবণ, চালের দাম নিয়েও তা হয়েছে। পেঁয়াজের দাম বাড়িয়ে সুবিধাভোগকারী ব্যক্তিরা আরো হিংস্র হয়ে গেছে, যার মাধ্যমে লবণ, চালের দাম বাড়ার গুজব সহজইে ছড়িয়ে দিতে পেরেছে।

বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ এখনো দৈনিকভিত্তিকে কাজের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে এবং চাকুরি করে মাস শেষে সামান্য বেতনে সংসার চালায়। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের দাম বৃদ্ধির কারণে সেসকল মানুষজনের স্বাভাবিক জীবন যাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। স্বার্থান্বেষী মহল সবসময়ই তাদের স্বার্থ আদায়ে ব্যস্ত, কার ক্ষতি হলো বা ক্ষতি হবে, সেসবে তাদের খেয়াল নেই। মানুষ গুজব লুফে নেয়, এই সুযোগটা স্বার্থান্বেষী মহল ব্যবহার করছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির দাম বাড়িয়ে মাত্র এক সপ্তাহ বিদ্যমান রাখতে পারলেই তাদের উদ্দেশ্য সফল। একের পর এক পণ্যের দাম বাড়িয়ে সুবিধা ভোগ করতেই মাঠে নেমেছে তারা।

কাজেই উক্ত বিষয়ে সরকারকে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি নাগরিকদের সঠিক সিদ্ধান্ত ও দায়িত্ব পালন করা জরুরি। কেউ একজন ছড়িয়ে দিলেই সে গুজবের সত্যতা যাচাই না করে নিজেদেরও প্রচারে নেমে পড়া উচিত নয়। নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির মূল্য বৃদ্ধি পেলে তা সরকারিভাবে কিংবা পণ্যের গায়েই মূল্য লেখা থাকবে, সেসব যাচাই না করে বাড়তি দামে পণ্য খরিদ করা থেকে বিরত থাকা জরুরি এবং এলাকাভিত্তিক যারা প্রথমে গুজব ছড়ায় কিংবা ফেসবুকে যারা গুজব ছড়ায় তাদেরকে নিবৃত করা জরুরি। অন্যথায় গুজবের বলি হয়ে সাধারণ মানুষের মৃত্যুর মতো দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়িয়ে হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেবে মুনাফালোভী ব্যবসায়ীরা। এক্ষেত্রে সরকারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ ও নাগরিক সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই।

n লেখক :শিক্ষার্থী, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব জার্নালিজম অ্যান্ড ইলেকট্রনিক মিডিয়া (বিজেম)