ভারতীয় ফাস্ট বোলারদের আগ্রাসনের মুখে নতজানু বাংলাদেশের ব্যাটিং। ইডেন গার্ডেনের ২২ গজে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের আত্মসমর্পণের ছবিটা রীতিমতো দুঃস্বপ্নে রূপ নিয়েছে। ইশান্ত শর্মাদের আগুন ঝরা বোলিংয়ে গোলাপি বলে বাংলাদেশের দিবারাত্রির প্রথম টেস্টটা তিক্তকর অভিজ্ঞতার স্মৃতি হয়ে যাচ্ছে। গতকাল দ্বিতীয় ইনিংসেও ১৩ রানে চার উইকেট হারিয়ে বিপদের অগ্নিগর্ভে হারায় বাংলাদেশ। দিনের আলোয় বোলারদের অর্জনটা ডুবে যাচ্ছিল সন্ধ্যার পর কঙ্কালসার ব্যাটিংয়ে। মুশফিকুর রহিমের হার না মানা লড়াকু ব্যাটিং দুই দিনে ম্যাচ হারের লজ্জা থেকে বাঁচিয়েছে বাংলাদেশকে। একপ্রান্ত আগলে অসীম সাহসিকতায় ব্যাটিং করেছেন তিনি। তার হাফ সেঞ্চুরিতেই ইডেনে লড়ছে বাংলাদেশ। গতকাল দ্বিতীয় দিন শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ১৫২ রান। ইনিংস হার এড়াতে আরো ৮৯ রান দরকার বাংলাদেশের। মুশফিক ৫৯ ব্যাট করছেন।
গতকাল দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে আগের মতোই বিপাকে পড়ে বাংলাদেশ দল। ১৩ রানেই হারিয়ে বসে চার উইকেট। ইশান্ত শর্মার করা ইনিংসের পঞ্চম বলে সাদমান (০) এলবির ফাঁদে পড়েন। তৃতীয় ওভারে মুমিনুল (০) একই বোলারের শিকার হন। বাংলাদেশের দ্বিতীয় ও ক্রিকেট ইতিহাসের ২৪তম অধিনায়ক হিসেবে দুই ইনিংসেই ‘পেয়ার’ পেলেন মুমিনুল। ইডেনে উভয় ইনিংসে রানের খাতা খুলতে ব্যর্থ এই বাঁহাতি পেসার। পঞ্চম ওভারে ইশান্তের বল লাগে মিঠুনের হেলমেটে। টালমাটাল মিঠুনের (৬) মুক্তি ঘটে উমেশের বলে। সফরজুড়ে বাজে ব্যাটিং করা ইমরুল (৫) ফিরেছেন স্লিপে ক্যাচ দিয়ে। তারপরই প্রতিরোধ গড়েন মুশফিক-মাহমুদউল্লাহ। বিপর্যস্ত সময়টা কাটিয়ে দলকে এগিয়ে নেন তারা। তাদের জুটিটা ৬৯ রানে থামতে বাধ্য হয়। কারণ ইনিংসের ১৮.৩ ওভারের সময় হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে পড়ে মাঠ ছাড়েন মাহমুদউল্লাহ। তখন ৩৯ রানে ব্যাট করছিলেন তিনি।
দলীয় ৮২ রানে মাহমুদউল্লাহ চলে যাওয়ার পর মিরাজকে নিয়ে ৫১ রানের জুটি গড়েন মুশফিক। বুক চিতিয়ে লড়ে ক্যারিয়ারের ২১তম হাফ সেঞ্চুরি করেন তিনি। জুটিটা বিচ্ছিন্ন হয় মিরাজ (১৫) স্লিপে ক্যাচ দিলে। শেষ দিকে তাইজুল (১১) আউট হলে শেষ হয় দিনের খেলা। ইশান্ত চারটি, উমেশ দুইটি উইকেট নেন। এর আগে দ্বিতীয় দিনে বাংলাদেশ শিবিরে স্বস্তির জোগান দিয়েছেন পেসার ত্রয়ী। আল-আমিন হোসেন, এবাদত হোসেন, আবু জায়েদ রাহীরাই লড়েছেন বল হাতে। কোহলির সেঞ্চুরি পরও ভারতের স্কোরটা ৪০০ ছাড়ায়নি। চা বিরতির আগে ৯ উইকেটে ৩৪৭ রান তুলে প্রথম ইনিংস ঘোষণা করে ভারত। ২৪১ রানের লিড পেয়েছিল স্বাগতিকরা।
গতকাল ৬ উইকেট হারিয়ে ১৭৩ রান যোগ করেছে তারা। লাঞ্চের পর ১৩.৪ ওভারে ৫৮ রান যোগ করতেই ৫ উইকেট হারিয়েছিল ভারত। দ্বিতীয় নতুন বল নিয়েই চার উইকেট নিয়েছেন পেসাররা। লাঞ্চের আগে তাইজুল ফেরান ৫১ রান করা রাহানেকে। কোহলি-রাহানের ১০১ রানের জুটি ভেঙে যায়। জাদেজাকে নিয়ে ক্যারিয়ারের ২৭তম সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন কোহলি। ১২ রান করে রাহীর বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন জাদেজা। নতুন বল নেয়ার পর তৃতীয় বলেই কোহলির বিদায় ঘটে।
এবাদতের বলে ডিপ স্কয়ার লেগে ক্যাচ তুলেছিলেন ভারতীয় অধিনায়ক। শূন্যে উঠে দুর্দান্ত ক্যাচ তালুবন্দি করেন তাইজুল। ১৮ চারে ১৩৬ রান করেন কোহলি। তারপর বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি ভারতের ইনিংস। অশ্বিন, ইশান্ত শর্মাকে আল-আমিন, উমেশ যাদবকে ফেরান রাহী। ঋদ্দিমান সাহা অপরাজিত ১৭, শামি অপরাজিত ১০ রান করেন। বাংলাদেশের পক্ষে আল-আমিন, এবাদত তিনটি করে, রাহী দুইটি, তাইজুল একটি উইকেট পান।
