মহারাষ্ট্রে বিজেপির অভ্যুত্থান!

আপডেট : ২৪ নভেম্বর ২০১৯, ০১:০০

সবাইকে চমকে দিয়ে ভারতের মহারাষ্ট্রে সরকার গড়েছে বিজেপি ও এনসিপি। দ্বিতীয়বারের মতো মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন দেবেন্দ্র ফড়নবিশ। উপ-মুুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন অজিত পাওয়ার। যদিও এনসিপি নেতা শারদ পাওয়ার জানিয়েছেন, ভাতিজা অজিত পাওয়ার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তেই বিজেপিকে সমর্থন দিয়েছেন। কংগ্রেস, এনসিপি ও শিব সেনা এই ঘটনাকে বিজেপির অভ্যুত্থান বলে উল্লেখ করেছে। তারা আজ সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। খবর এনডিটিভি ও আনন্দবাজার পত্রিকার

মহারাষ্ট্রে নতুন সরকার শপথ নিলেও নাটক শেষ হয়নি। গতকাল কংগ্রেস এক সংবাদ সম্মেলনে এই সরকার গঠনকে অভ্যুত্থান হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তারা তিন দল এই সরকারকে অবৈধ আখ্যা দিয়ে মিলে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। শপথ গ্রহণের কয়েক ঘণ্টা পরেই মুম্বাইয়ে উদ্ধব ঠাকরেকে সঙ্গে নিয়ে যৌথ সাংবাদিক সম্মেলন করেন শারদ পাওয়ার। সেখানেই তিনি ঘোষণা করেন, উদ্ধবের নেতৃত্বেই সরকার গড়বে তাদের জোট। বিজেপির কাছে যে সরকার গড়ার প্রয়োজনীয় সংখ্যা নেই, সে বিষয়েও তারা নিশ্চিত বলে জানিয়েছেন শারদ।

গতকাল মুম্বাইয়ের ওয়াই বি চহ্বাণ সেন্টারে শিবসেনা-এনসিপির ওই সাংবাদিক সম্মেলনে দেখা যায়, তিনজন বিদ্রোহী এনসিপি বিধায়ককে। ওই তিনজনকেই সাতসকালে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে অজিত পওয়ারের সঙ্গে রাজভবনে দেখা গিয়েছিল। এনসিপি প্রধান শারদ পওয়ার দাবি করেন, যে ১০-১১ জন এনসিপি বিধায়ক রাজভবনে গিয়েছিলেন তাদের মধ্যে তিনজন বিধায়ক এখানে উপস্থিত। ঐ বিদ্রোহীদের মধ্যে একজন বলেন, অজিত পওয়ার আমাদের ঠকিয়েছেন। সকালে অজিতের থেকে ফোন পেয়েই আমরা রাজভবনে গিয়েছিলাম। তখন জানতামই না, ঠিক কী কারণে আমাদের ওখানে যেতে বলা হয়েছিল!

মহারাষ্ট্রে সরকার গড়ার বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী উদ্ধব ঠাকরেও। তিনি বলেন, শুধু মহারাষ্ট্রেই নয়, সারা দেশেই এমন খেলা করছে বিজেপি। এটাকে রাজনৈতিক সার্জিক্যাল স্ট্রাইক ছাড়া আর কী বলব! সরকার গড়তে বিধায়ক কেনাবেচা চালিয়ে যাচ্ছে বিজেপি। ২৮৮ আসনের মহারাষ্ট্র বিধানসভায় সরকার গড়তে চাই ১৪৫ জনের সমর্থন। কিন্তু এই নির্বাচনে ৫৪টি আসন জেতে এনসিপি। বিজেপি ১০৫টি আসনে জিতেছিল। অন্যদিকে শিবসেনা ও কংগ্রেসের দখলে ছিল যথাক্রমে ৫৬টি ও ৪৪টি আসন। শারদ পওয়ারের দাবি, শুক্রবার শিবসেনা-কংগ্রেস-এনসিপি বৈঠকে উপস্থিত তাদের দলের বিধায়করা একটি চিঠিতে স্বাক্ষর করেন। অজিত পাওয়ার সেই চিঠিই রাজ্যপালকে দেখিয়েছেন। শারদ পাওয়ার জানান, অজিতকে দল থেকেও বহিষ্কার করা হতে পারে।