তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, অবরোধ-হরতালে আবার জনগণকে জিম্মি করতে চাইলে রাজনীতিতে ইতোমধ্যেই জনবিচ্ছিন্ন বিএনপি হবে জনবিচ্ছিন্ন নির্জন দ্বীপবাসিন্দা।
রবিবার দুপুরে সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সমসাময়িক বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তাদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বিএনপি অতীতে দীর্ঘমেয়াদী হরতাল, অবরোধ করে জনগণকে জিম্মি করার কারণে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। রাজনীতি জনগণকে জিম্মি করার জন্য নয়, রাজনীতি জনগণের কল্যাণের জন্য।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, দিনের পর দিন জনগণকে জিম্মি করা প্রতিবাদের ভাষা নয়, যা বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি করেছে। প্রতিবাদের ভাষা মানুষের ওপর বোমা নিক্ষেপ নয়। তারা যদি আগের সেই ভুল পথ আবার অনুসরণ করার চেষ্টা করে, প্রথমত জনগণ সেই সুযোগ তাদের দেবে না। এরপরও যদি তারা চেষ্টা করে, ইতোমধ্যেই জনবিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া বিএনপি জনবিচ্ছিন্ন নির্জন দ্বীপের বাসিন্দা হয়ে যাবে।
যুবলীগে নতুন নেতৃত্ব সুশিক্ষিত মার্জিত
যুবলীগের নতুন কমিটি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ড. হাছান বলেন, একটি চমৎকার কমিটি হয়েছে। নানা কারণে যুবলীগকে নিয়ে যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছিল কিছু নেতৃত্বের কারণে। সেটার পর গতকাল সম্মেলনের মাধ্যমে যে কমিটি গঠিত হয়েছে, এটির নেতৃত্বে অত্যন্ত চমৎকার। যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা শেখ ফজলুল হক মনির সন্তানের হাতে যুবলীগের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে। তিনি অত্যন্ত সুশিক্ষিত মার্জিত একজন মানুষ। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে অনার্স করেছেন। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স করেছেন। তিনি দীর্ঘদিন ব্রাক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়িয়েছেন, ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটিতে পড়িয়েছেন অনেক বছর।
আরো পড়ুন : এফআর টাওয়ারের নকশা জালিয়াতি: তদন্ত প্রতিবেদন ৪ ফেব্রুয়ারি
একইসাথে সাধারণ সম্পাদক পদে যাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে, তিনিও অত্যন্ত ভদ্র, ভালো এবং যুবলীগের নানা নেতাদের নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিলেও তাকে নিয়ে বিন্দুমাত্র কোনো প্রশ্ন নাই উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, তিনি সৎ, নিষ্ঠাবান একজন মানুষ। সুতরাং এ দুজনকে নেতৃত্বে দেয়ার বিষয়ে আমি মনে করি যুবলীগের একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন হতে যাচ্ছে। যুব সমাজের একটি গাইডলাইন হিসেবে আগামী দিনগুলোতে কাজ করবে।
ড. হাছান বলেন, প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ এবং আওয়ামী লীগ পরিবার পরিচালিত হয়। এবং অঙ্গ সহযোগী সংগঠন অনেকগুলোর নেতৃত্ব যাদের হাতে অর্পণ করা হয়েছে, তারা সবাই স্বচ্ছ ভাবমূর্তির মানুষ সৎ মানুষ। রাজনীতিকে যারা কলুষিত করতে চান, রাজনীতিতে বণিকায়ন এবং দুর্বৃত্তায়নের যে প্রক্রিয়া জিয়াউর রহমান শুরু করেছিলেন এবং বেগম খালেদা জিয়া এবং এরশাদ ষোল কলায় পূর্ণ করেছিলেন, সেই চক্র থেকে বের করে এনে স্বচ্ছ ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির, শিক্ষিত ও মার্জিত মানুষের হাতে রাজনীতি তুলে দিয়ে তিনি রাজনীতিকে এই বণিকায়ন এবং দুর্বৃত্তায়নের চক্র থেকে মুক্ত করে ভালো মানুষের হাতে তুলে দিচ্ছেন। আমি মনে করি, এটি রাজনীতির জন্য যেমন মঙ্গল, দেশের জন্যেও মঙ্গল। আশা করি যে, প্রধানমন্ত্রী যে পথটি দেখিয়েছেন, অন্য দলগুলো যারা পেট্রোল বোমায় আশ্রয় নেয়, এখনো দুর্বৃত্তদের লালন করেন, তারা এখান থেকে শিক্ষা নেবে।
ইত্তেফাক/ইউবি
