জয়ে শুরু ‘অন্য’ মরিনহোর

আপডেট : ২৪ নভেম্বর ২০১৯, ২০:৫৭

জয় হোক কিংবা হার, ম্যাচ-পরবর্তী প্রতিক্রিয়াতে চিত্তাকর্ষক সব উক্তি দিয়ে পাদপ্রদীপের আলোটা নিজের ওপর টেনে আনবেন হোসে মরিনহো; নিজের ক্ষুরধার ফুটবল জ্ঞানের পাশাপাশি এটাও ছিল পর্তুগিজ কোচের ‘ট্রেডমার্ক’। কিন্তু গত শনিবার টটেনহ্যাম ম্যানেজারের দায়িত্বে প্রথম ম্যাচের পর অন্য এক রূপেই হাজির হলেন তিনি। ওয়েস্ট হ্যামকে ৩-২ গোলে হারানোর পর মরিনহো জানালেন, এ জয়ে তিনি কেবল সাহায্যই করেছেন। পুরো কৃতিত্বটা দিলেন হ্যারি কেইন-সন হিউং মিনদের।

মরিনহোর টটেনহ্যাম-অভিষেকের দিনে চেলসিকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছে শিরোপাধারী ম্যানচেস্টার সিটি। পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে থাকা লিভারপুল ক্রিস্টাল প্যালেসের বিপক্ষে একই ব্যবধানের জয় পেয়েছে।

স্কোরলাইন যতটা বলছে, টটেনহ্যামের ম্যাচটা তত উত্তেজনাও ছড়ায়নি। নতুন কোচের অধীনে নিজেদের প্রথম ম্যাচে বেশ উদ্দীপ্ত এক পারফরম্যান্সই দিয়েছিল দলটি। সন হিউং মিন, লুকাস মৌরা আর হ্যারি কেইনের লক্ষ্যভেদে ৪৯ মিনিটেই তিন গোলে এগিয়ে যায় স্পার্সরা। স্বাগতিক ওয়েস্ট হ্যামের হয়ে মিখাইল আন্তনিও ব্যবধান কমান ৭৩ মিনিটে। অ্যাঞ্জেলো অগবোন্নার পা থেকে তাদের শেষ গোলটি আসে যোগ করা সময়েরও শেষ মিনিটটিতে।

এর আগে ১২ ম্যাচ থেকে মাত্র তিনটিতে জিতেছিল টটেনহ্যাম। এমন দলকে কোন জিয়নকাঠির বলে প্রথম ম্যাচেই জয় পাইয়ে দিলেন—এমন প্রশ্নের জবাবে মরিনহো বলেন, ‘এ জয়ের কৃতিত্ব পুরোটাই খেলোয়াড়দের। আমি বুঝেছি যে খেলোয়াড়রা জিততে চায় এবং দলের জন্য নিজেকে বিলিয়ে দেয়ার ইচ্ছাটা তাদের আছে।’

তিনি আরো যোগ করেন, ‘প্রতি জনের কথা ধরে ধরে বললে, সার্জি অরিয়ে গতকাল এসেছে, আর আজকেই দারুণ খেলেছে। ডেভিনসন সানচেজও ক্লান্ত ছিল, তবুও ভালো খেলেছে। কেইনের গোড়ালিতে কিছুটা চোট ছিল তবুও পুরো ম্যাচে নিজের সামর্থ্যের সেরাটা খেলেছে। ড্যানি রোজ চোট পেয়েও পুরোটা ম্যাচ স্বেচ্ছায় খেলেছে। আর তাই আমার মনে হয় এটা খেলোয়াড়দের জন্যই হয়েছে।’

তবে জয়ের কৃতিত্বে নিজের ভাগটা রাখলেনই না মরিনহো, ‘আমি এখানে কেবল সাহায্য করতে এসেছি। কেউ যদি বলে ‘হোসে এখানে পরিবর্তন এনেছে’ তাহলে কিছুটা রাগই হবে আমার।’

মরিনহোর প্রত্যাবর্তনের দিনে কিছুটা নিভৃতেই জয়ে ফিরেছে ম্যানচেস্টার সিটি। প্রিমিয়ার লিগ শিরোপাধারীরা প্রথমার্ধে নিজেদের মাঠে চেলসি মিডফিল্ডার এনগোলো কান্তের গোলে ২১তম মিনিটেই পিছিয়ে পড়ে। তবে এরপর ২৯ আর ৩৭ মিনিটে কেভিন ডি ব্রুইন আর রিয়াদ মাহরেজের লক্ষ্যভেদে জয় নিশ্চিত করে গার্দিওলার শিষ্যরা। জয় ছাপিয়ে অবশ্য গার্দিওলার দলের বলের দখল নিয়েই আলোচনাটা হচ্ছে বেশি। চেলসির বিপক্ষে ৪৭ শতাংশ সময়ে বলের দখল ছিল সিটির পায়ে। কোচিং ক্যারিয়ারে কখনো এর চেয়ে কম পজেশন নিয়ে ম্যাচ শেষ করেননি স্প্যানিশ এই কোচ।

লিভারপুলও ক্রিস্টাল প্যালেসের বিপক্ষে জয় পেয়েছে ২-১ গোলেই। গোলশূন্য প্রথমার্ধের পর ৪৯ মিনিটে সাদিও মানের গোলে এগিয়ে যায় য়ুর্গেন ক্লপের শিষ্যরা। স্বাগতিক মিডফিল্ডার উইলফ্রেড জাহার ৭৮ মিনিটের গোল পয়েন্ট খোয়ানোর শঙ্কায়ই ফেলে দিয়েছিল অল রেডদের। তবে ৮৫ মিনিটে রবার্তো ফিরমিনো লক্ষ্যভেদ করে পূর্ণ তিন পয়েন্টই পায় শিরোপাপ্রত্যাশী দলটি। পাশাপাশি প্রিমিয়ার লিগে নিজেদের অপরাজিত যাত্রাটাকেও উন্নীত করে ৩০ ম্যাচে।