ভেজালের বিরুদ্ধে অভিযান

আপডেট : ২৪ নভেম্বর ২০১৯, ২১:৩৭

সরকারকে সাধুবাদ জানাই, দেশ ও দশের স্বার্থে তারা নিজ দলের দুর্নীতিবাজদের আইনের আওতায় আনছে। দেশের সুনাম ও উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে শুদ্ধি অভিযানের আবশ্যকতা রয়েছে। ক্যাসিনো অভিযানের পাশাপাশি চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী, টেন্ডারবাজি, মাদক কারবারি, চোরাচালানি, ঘুষ গ্রহীতা, দুর্নীতিবাজ, লুটেরা সবার বিরুদ্ধে গ্রেফতার অভিযান চালাতে হবে। সবার উচিত এই অভিযানকে সফল করতে সহায়তা করা। চলমান শুদ্ধি অভিযান চলছে চলুক। কোনো অবস্থায়ই যেন এই অভিযান বন্ধ করা না হয়। সব ধরনের দখলবাজ, সন্ত্রাসী, দুর্নীতিবাজ, ভেজালকারী, ঘুষখোর, ধর্ষক, ছিনতাইকারী, রাস্তা-ফুটপাত দখলবাজসহ বিভিন্ন অপরাধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধেও চাই কঠোরতর অভিযান। যারা ধরা পড়বেন, তাদের বিচারকার্য বিশেষ ট্রাইব্যুনালে করা হোক। বিলম্ব হলেও যা শুরু হয়েছে, তা যেন স্তিমিত হয়ে না পড়ে। মাথা থেকে গোড়া পর্যন্ত অভিযান চালু রাখতে হবে। দুষ্ট গরুর চেয়ে শূন্য গোয়াল ভালো। প্রধানমন্ত্রীর এখন কিছু চাওয়ার নেই। তার এখন দেওয়ার পালা। তার একক চেষ্টা ও চিন্তায় এই যে অভিযান চলছে, তা দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করতে বড়ো ভূমিকা রাখবে বলে মনে করি। তাকে সাধুবাদ জানাই। শুদ্ধি অভিযান শুরু হয়েছে স্বার্থবাজ, লোভী, লুটকারী, জনগণের অর্থ আত্মসাত্কারী, অবৈধ ব্যবসায় নিয়োজিত ব্যক্তি ও উন্নয়নে বিঘ্ন সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে। শুদ্ধি অভিযান যথাযথভাবে পরিচালিত হলে দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে আসবেন পরীক্ষিত ও প্রাজ্ঞ নেতারা। সেটি হবে দেশ ও দশের জন্য কল্যাণকর।

 সাধারণ মানুষসহ দেশের সর্বস্তরের মানুষের একটাই দাবি, দুর্নীতির বিষবৃক্ষ সমূলে উপড়ে ফেলতে হলে শিকড়ে হাত দিতে হবে। শুধু ডালপালা কাটলে দীর্ঘস্থায়ী সমাধান হবে না। ক্যাসিনোকেন্দ্রিক অভিযানের কারণে অন্য অপরাধ আড়ালে হারিয়ে যাচ্ছে। সব ধরনের অপকর্ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে হবে। আর অভিযুক্তদের আড়ালে যারা আছেন, তাদেরও মুখোশ খুলে দিতে হবে।

এই মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রীসহ দায়িত্বশীলদের কথার প্রতি বিশ্বাস রেখে পর্যবেক্ষণ করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই। তবে একটি জিনিস খেয়াল রাখা জরুরি যে, দুর্নীতিবাজ-কুচক্রীরা যেন একজোট হয়ে কোনো সমস্যা তৈরি করতে না পারে। আমাদের আশাবাদ, শুদ্ধি অভিযান জনমনে যে সাময়িক আস্থা তৈরি হয়েছে, তার প্রতি নজর রেখে দায়িত্বশীলরা অভিযানকে একটি স্থায়ী বিশ্বাসে রূপান্তরিত করবেন। চলমান শুদ্ধি অভিযান অত্যন্ত সময়োপযোগী হয়েছে। দেশের মানুষ চায়, অভিযান অব্যাহত থাকুক। অপ্রিয় হলেও সত্য, দেশটা ভরে গেছে দুর্নীতি, লুটপাট, খুন, চুরি, ধর্ষণ, ডাকাতি, ভেজাল পণ্য আর ভেজাল খাদ্যে। এসবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন একটি কাজ। তবে কাজটি কঠিন হলেও অসম্ভব যে নয় তা দেখিয়ে দিয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। প্রথমে তিনি ছাত্রলীগে শুদ্ধি অভিযান শুরু করেন। এর পরই শুরু হয় প্রশাসনের অভিযান। ধরা পড়তে থাকে দলের রাঘব-বোয়ালরা। এতে অন্য সংগঠনগুলোও সতর্ক হচ্ছে। দেশের বিরোধী দলগুলোরও উচিত, মন্দ কাজের সমালোচনা এবং ভালো কাজের প্রশংসা করা। এ শুদ্ধি অভিযান যেন চলতে থাকে। এটি শুধু সাময়িক আস্থা নয় পরিণত হোক স্থায়ী বিশ্বাসে।  কেননা এই শুদ্ধি অভিযান জাতির জন্যে একটি শুভ উদ্যোগ।

n লেখক :শিক্ষার্থী, তেজগাঁও কলেজ, ঢাকা