শান্তি বজায় রাখা, শান্তি প্রতিষ্ঠা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও সহিংস উগ্রবাদ রোধে নারীর বৃহত্তর ভূমিকা নিশ্চিতের মাধ্যমে দেশে ও দেশের বাইরে শান্তি ও সুরক্ষা প্রতিষ্ঠায় ‘মহিলা, শান্তি ও সুরক্ষা সম্পর্কিত জাতীয় কর্মপরিকল্পনা’র উদ্বোধন হয়ে গেল গতকাল রবিবার। সকালে হোটেল ইন্টার কন্টিনেন্টালের ক্রিস্টাল হলে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক। বিশেষ অতিথি ছিলেন নারী ও শিশু মন্ত্রণালয়ের সচিব কামরুন নাহার, ইউএন ওমেন বাংলাদেশের কান্ট্রি রিপ্রেজেনটেটিভ শোকো ইশিকাওয়া। সঞ্চালনা করেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জাতিসংঘ শাখার মহাপরিচালক নাহিদা সোবহান।
বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে প্রতিটি ক্ষেত্রে নারীর অগ্রগতি হয়েছে। সেই অগ্রগতিকে আরো উন্নত পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া এবং নারীর এ উন্নয়ন শুধু তার কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের মাঝে সীমাবদ্ধ না রেখে দেশের উন্নয়নে নারীর কার্যকরী ভূমিকা নিশ্চিতকরণে এ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। তারা বলেন, নারী সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে অনেক এগিয়ে এলেও নারীর প্রতি সমাজ ও পুরুষের আচরণে বদল আসেনি। সে কারণে নারীর প্রতি বৈষম্য, ধর্ষণ, নারী নির্যাতন কমছে না।
সরকার, সাহায্য সংস্থা এবং বেসরকারি এনজিওর সমন্বয়ে সম্মিলিতভাবে ২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত এ জাতীয় কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ইউএন ওমেন এবং নারী প্রগতি সংস্থা সারাদেশের জেলা পর্যায়ে এ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করবে। জানা যায়, ২০১৭ সালে সরকার বাংলাদেশের জন্য মহিলা, শান্তি এবং সুরক্ষা সম্পর্কিত প্রথম জাতীয় কর্মপরিকল্পনা বিকাশের জন্য একটি প্রক্রিয়া শুরু করে যা ইউএনএসসিআর ১৩২৫ (২০০০) থেকে ইউএনএসসিআর ২৪৯৩ (২০১৯) পর্যন্ত মোট ৯টি মহিলা, শান্তি ও সুরক্ষা নির্দেশনা গ্রহণ করবে।
মো. শহিদুল হক দেশের বৈদেশিক নীতিতে শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং টেকসই উন্নয়নের কেন্দ্রিকতা তুলে ধরে বলেন, এ কর্মপরিকল্পনার আওতায় নারীর অবস্থানকে সুসংহতকরণ এবং তার সম্প্রসারণ ঘটানো সম্ভব হবে। যা নারীর সামাজিক, অর্থনৈতিক অবস্থানের সূচক আরো বৃদ্ধি পাবে। সেইসঙ্গে নারীর প্রতি বৈষম্য কমে আসবে।
