উন্নত দেশ গড়তে ২০ বছর মেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে সরকার ------------------- প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ২৪ নভেম্বর ২০১৯, ২২:০৭

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তার সরকার ২০৪১ সাল নগাদ বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য ২০ বছর মেয়াদি দ্বিতীয় প্রেক্ষিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে। গতকাল রবিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে (পিএমও) দ্বিতীয় প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ২০২১-২০৪১-এর ওপর একটি পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন দেখার সময় শেখ হাসিনা আরো বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশকে ২০৪১ সাল নাগাদ দক্ষিণ এশিয়ার একটি উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। এই লক্ষ্য অর্জনে ইতিমধ্যে আমরা প্রথম প্রেক্ষিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছি এবং ২০২০ থেকে ২০৪১ সাল নাগাদ দ্বিতীয় প্রেক্ষিত পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ শুরু করেছি।’ এছাড়া দেশের দ্রুত উন্নয়ন সাধনে তার সরকার বেশ কিছু তাত্ক্ষণিক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা পঞ্চম ও ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের      উদ্যোগ গ্রহণ করেছি এবং সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বর্তমানে বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার পাশাপাশি আমরা দেশে দীর্ঘমেয়াদি প্রেক্ষিত পরিকল্পনারও বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি।’

অনুষ্ঠানে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান এই প্রেক্ষিত পরিকল্পনাকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তোলার ‘একটি স্বপ্নের দলিল’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, ২০ বছর মেয়াদি দ্বিতীয় প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ২০২১ সাল থেকে শুরু করে আগামী চার-পাঁচ বছরের মধ্যে বাস্তবায়ন করা হবে। সিনিয়র সচিব ও পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য শামসুল আলম একটি পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে দ্বিতীয় প্রেক্ষিত পরিকল্পনার উল্লেখযোগ্য দিকসমূহ তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, অর্থমন্ত্রী এ এইচ এম মুস্তাফা কামাল, শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, ড. তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী এবং ড. মশিউর রহমান, মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার অনোয়ারুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি-বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক মো. আবুল কালাম আজাদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সাজ্জাদুল হাসান এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন।

দমকলবাহিনীর কাছে প্রধানমন্ত্রীর তিনটি অগ্নি নিরোধক ফায়ার কুশন হস্তান্তর

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল অগ্নি দুর্ঘটনার সময় উদ্ধারকাজে ব্যবহারের জন্য জার্মানির তৈরি অত্যাধুনিক তিনটি অগ্নিনিরোধক জাম্বু কুশন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের কাছে হস্তান্তর করেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাজ্জাদ হোসেনের হাতে এগুলো তুলে দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম পরে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে প্রেস সচিব বলেন, অগ্নি দুর্ঘটনায় উদ্ধার অভিযানকালে নিরাপত্তা ও সুরক্ষা বজায় রাখার জন্য প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন। এই অগ্নিনিরোধক কুশনগুলো ফাইবারগ্লাস দ্বারা তৈরি এবং এক মিনিটে এগুলো ব্যবহারের উপযোগী করা যায়। প্রতিটি কুশনের মূল্য পড়েছে ৫০ লাখ টাকা।

এই কুশনগুলো বিদ্যুত্ অপরিবাহী এবং কম্পন ও শোষণ ছড়িয়ে পড়া ছাড়াই যেকোনো বিপজ্জনক পণ্য পরিবহনে সক্ষম। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তা সেবা বিভাগের সচিব মো. শহীদুজ্জামান ফায়ার সার্ভিস বিভাগের কার্যক্রম প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন। তিনি উদ্ধার অভিযানকালে ফায়ার সার্ভিসের কিছু সমস্যার কথা তুলে ধরেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সাজ্জাদুল হাসান এ সময় উপস্থিত ছিলেন।