শেষের দুয়ারে চলে এসেছে ২০১৯ সাল। বছর জুড়ে দুনিয়ার নানা প্রান্তে কত কিছু পরিবর্তন হয়েছে, কিন্তু সাদা পোশাকের ক্রিকেটে ২২ গজে বাংলাদেশ দলের ছবিটা অপরিবর্তিতই রয়ে গেছে। হ্যামিল্টন থেকে কলকাতা, চলতি বছরে বাংলাদেশের ইনিংস হারের গল্পের সাক্ষী।
বছর শুরু হয়েছিল হ্যামিল্টনে নিউজিল্যান্ডের কাছে ইনিংস ও ৫২ রানের হার দিয়ে। ২০১৯ সালে নেতিবাচক রেজাল্টের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে বাংলাদেশ দল। সাদা পোশাকে চলতি বছর পাঁচ ম্যাচের চারটিতেই ইনিংস হারের লজ্জায় ডুবেছে বাংলাদেশ। গ্লানির আরেকটি হার এসেছিল আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে। কলকাতার ইডেন গার্ডেনে আরেকটি ইনিংস হার দিয়ে গতকাল বছর শেষ করল বাংলাদেশ।
সাপ্তাহিক ছুটির দিনে ইডেন গার্ডেনের গ্যালারিতে দর্শক নড়েচড়ে বসার আগেই শেষ বাংলাদেশের ইনিংস। হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে পড়ে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ব্যাটিং না করায় ৪৭ মিনিটেই যবনিকা হয়েছে বাংলাদেশের সংগ্রামের গল্পটা। সিরিজ জুড়ে ভারতীয় বোলারদের সামনে নতজানু ব্যাটিংয়ের ছবিটা সত্য হয়ে থাকল সফর শেষের দিনটাতেও। ইনিংস হারের তিক্ত অভিজ্ঞতায় শেষ হলো গোলাপি বলে প্রথম দিবারাত্রির টেস্ট।
সোয়া দুই দিনেই গতকাল ইডেনে ভারতের কাছে ইনিংস ও ৪৬ রানে হেরেছে বাংলাদেশ। ২-০ তে টেস্ট সিরিজটা জিতে নিল স্বাগতিকেরা। প্রথম ইনিংসে ১০৬ রানে অলআউট হয়েছিল বাংলাদেশ। বিরাট কোহলির সেঞ্চুরিতে ৯ উইকেটে ৩৪৭ রান তুলে প্রথম ইনিংস ঘোষণা করে ভারত। দ্বিতীয় ইনিংসে ৪১.১ ওভারে ১৯৫ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংস। দুই ইনিংসে ৯ উইকেট নিয়ে ইশান্ত শর্মা ম্যাচ-সেরা হন। সিরিজ-সেরার পুরস্কারও উঠেছে ভারতীয় এই পেসারের হাতে।
তৃতীয় দিনের সকালটা ম্যাচের আনুষ্ঠানিকতা শেষের মঞ্চে রূপ নিতে পারে এমন আশঙ্কা সবার মধ্যেই ছিল। ব্যতিক্রমও হয়নি। গতকাল সকালে বাংলাদেশ লড়াইটা চালিয়ে যেতে পেরেছে মাত্র ৪৭ মিনিট। ৮.৪ ওভারে ৪৩ রান তুলতেই শেষ ৩ উইকেট হারিয়েছে বাংলাদেশ। হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে পড়া মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ব্যাটিংয়ে না আসায় দ্রুতই শেষ হয়ে গেছে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংস।
যদিও সুযোগ ছিল ইনিংস হার এড়ানোর। মুশফিক ছিলেন সেই মিশনের মূল ভরসা। দলের সঙ্গে নিজের অর্জনের সুযোগও ছিল তার। কিন্তু মুশফিকের মনে এমন কিছু ছিল কি না, বলা কঠিন। কারণ উইকেট আগলে টেলএন্ডারদের নিয়ে খেলার চিন্তাটা চোখে পড়েনি তার ব্যাটিংয়ে। উলটো চালিয়ে খেলতে গিয়েছেন তিনি। তাই ইনিংস হার এড়াতে পারেনি বাংলাদেশ। আগের দিনের সঙ্গে ১৫ রান যোগ করেই ফেরেন মুশফিক।
দিনের দ্বিতীয় ওভারে এবাদত হোসেন (০) ক্যাচ দেন। মুশফিককে ভালোই সঙ্গ দিচ্ছিলেন আল-আমিন। সিনিয়র, অভিজ্ঞ হয়েও সেই সুযোগটা কাজে লাগাতে চেষ্টা করেননি মুশফিক। উমেশ যাদবকে তুলে মারতে গিয়ে জাদেজার হাতে ক্যাচ দিয়েছেন তিনি। ৯৬ বলে ১৩টি চারে ৭৪ রান করেছেন তিনি।
পরে আল-আমিন উমেশের শিকার হলে বাংলাদেশের চূড়ান্ত আত্মসমর্পণ ঘটে। আল-আমিন ২১ রান করেন। রাহী ২ রানে অপরাজিত ছিলেন। ভারতের উমেশ যাদব ৫৩ রানে ৫টি, ইশান্ত শর্মা ৪টি উইকেট পান।
