রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে ছাত্রীকে গণধর্ষণ

আপডেট : ২৪ নভেম্বর ২০১৯, ২২:১৪

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে এক ছাত্রীকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে একদল বখাটে গণধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। একটি প্রভাবশালী মহল ধর্ষণের ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে। লোকলজ্জার ভয়ে ঐ ছাত্রী কোনো হাসপাতালে চিকিত্সা নিতে না পেরে আশ্রয় নিয়েছে তার মামারবাড়িতে। ঘটনার পাঁচ দিন পার হলেও ধর্ষণকারীদের পরিবার ক্ষমতাসীন দলের রাজনীতিতে যুক্ত থাকায় একটি বিশেষ মহলের চাপে আইনের আশ্রয় নিতে পারছে না অসহায় ও নিরীহ পরিবারটি। উপজেলার ১১ নম্বর আজগানা ইউনিয়নের বেলতৈল গ্রামে গত বুধবার অমানবিক এই ঘটনাটি ঘটেছে।

গতকাল রবিবার ঐ ছাত্রীর বাবা এই প্রতিনিধির কাছে মেয়ের গণধর্ষণের কথা তুলে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি জানান, তার মেয়ে বংশাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম      শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী। বেলতৈল, চিতেশ্বরী ও হাটুভাঙ্গা বাজার এলাকার বখাটে সোহান, রাকিব ও জসিমসহ তাদের সহযোগীরা স্কুলে আসা-যাওয়ার পথে তার মেয়েকে নানাভাবে কটূক্তি ও কু-প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। গরিব ও নিরীহ হওয়ায় মেয়ের পড়াশোনার কথা চিন্তা করে ও লোকলজ্জার ভয়ে তিনি এই ঘটনা কাউকে বলতে সাহস পাননি। এক পর্যায়ে গত বুধবার সকাল নয়টার দিকে স্কুলে যাওয়ার পথে ঐ তিন জনসহ তাদের সহযোগিরা তার মেয়েকে তুলে নিয়ে নাকে নেশা জাতীয় কিছু শুকিয়ে অজ্ঞান করে জসিমের বাড়িতে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। খবর পেয়ে তারা মেয়েকে উদ্ধার করে রক্তাক্ত ও অজ্ঞান অবস্থায় বাড়িতে নিয়ে আসেন। ধর্ষণকারীরা প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের ভয়ে মেয়েকে হাসপাতালে নিয়ে চিকিত্সা করাতে পারেননি। এমনকি পুলিশকেও ঘটনাটি না জানিয়ে লোকলজ্জার ভয়ে গোপনে কালিয়াকৈর উপজেলায় মেয়ের মামারবাড়িতে তারা আশ্রয় নিয়েছেন।

বংশাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্র-ছাত্রী, হাটুভাঙ্গা, চিতেশ্বরী, বেলতৈল ও গোড়াই এলাকার অসংখ্য মানুষ এই প্রতিবেদককে বলেন, যারা এই নিরীহ ছাত্রীকে গণধর্ষণ করেছে তারা খুবই প্রভাবশালী। তাদের দ্রুত গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা।

এ ব্যাপারে বংশাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. আমজাদ হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ঐ ছাত্রী আমার স্কুল থেকে এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার জন্য রেজিস্ট্রেশন করেছে। মূল ঘটনা এড়িয়ে গিয়ে তিনি বলেন, এর চেয়ে বেশি আমি কিছু বলতে পারব না। গণধর্ষণে অভিযুক্তদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা হলে তারা বলেন, স্থানীয় একটি কুচক্রিমহল পরিকল্পিতভাবে ঘটনাটি সাজিয়ে তাদের ফাঁসানোর চেষ্টা করছে।

এ ব্যাপারে দেওহাটা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, এক ছাত্রী গণধর্ষণের শিকার হয়েছে এমন অভিযোগ তাদের কাছে এসেছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। পরিদর্শনে গিয়ে ঐ ছাত্রী ও পরিবারের কাউকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। এখন পর্যন্ত লিখিত অভিযোগ দেয়নি কেউ। মামলা রেকর্ড হলে আসামিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।