বাংলাদেশে চালক ও পথচারী উভয়ের জন্য কঠোর বিধান যুক্ত করে ১ নভেম্বর থেকে কার্যকর করা হয়েছে বহুল আলোচিত ‘সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮’। গত বছর ঢাকার দুই কলেজ শিক্ষার্থী সড়কে বাস চাপায় প্রাণ হারানোর পর শিক্ষার্থীদের ব্যাপক আন্দোলনের মুখে ১৯ সেপ্টেম্বর সড়ক পরিবহন আইন পাশ করে সরকার। ১৪ মাস পর সেটা কার্যকর হলো। সারাদেশে কার্যকর হলেও নারায়ণগঞ্জে এর ব্যবহার এখনো তেমনটি চোখে পড়েনি, নারায়ণগঞ্জের সড়কগুলোতে দেদারসে চলছে ফিটনেসবিহীন যানবাহন। আর এসব গাড়ির বেশির ভাগ ড্রাইভারেরই নেই লাইসেন্স। লাইসেন্সবিহীন চালকের ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহনে চড়ে চলাচল করতে হচ্ছে নারায়ণগঞ্জবাসীকে। ফলে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা, অকালে ঝড়ে পড়ছে অনেক তাজা প্রাণ। তাই অবিলম্বে নতুন পরিবহন আইন কার্যকর করে এসব লক্কড়ঝক্কড় যানবাহন নারায়ণগঞ্জের সড়ক থেকে তুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে নগরবাসী। নতুন পরিবহন আইনে ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া মোটরযান বা গণপরিবহন চালানোর দায়ে ছয় মাসের জেল বা ২৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। নিবন্ধন ছাড়া মোটরযান চালালে ছয় মাসের কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা। ফিটনেসবিহীন ঝুঁকিপূর্ণ মোটরযান চালালে ছয় মাসের কারাদণ্ড বা ২৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড দেওয়া হবে।
জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী বন্ধন, উত্সব ও আনন্দ পরিবহনের গাড়িগুলোর মেয়াদ অনেক আগেই পার হয়ে গেছে। তবুও জোড়াতালি দিয়ে সেগুলো সড়কে চালানো হচ্ছে দীর্ঘদিন যাবত্। প্রশাসনের নাকেরডগা দিয়ে ঢাকা এবং নারায়ণগঞ্জের সড়কে দিব্যি চলাচল করছে চলাচলের অযোগ্য এসব যানবাহন। তবে সবচেয়ে দুরবস্থা নারায়ণগঞ্জের আভ্যন্তরীণ রুটে চলাচলকারী যানবাহনগুলোর। এগুলোর কোনোটারই নেই ফিটনেস, চালকদের বেশির ভাগেরই নেই ড্রাইভিং লাইসেন্স।
নারায়ণগঞ্জ থেকে চিটাগাং রোডে চলাচলকারী বন্ধু পরিবহন, শীতলক্ষ্যা পরিবহন, দুরন্ত পরিবহন কোম্পানির বাসগুলোর অস্তিত্ব কোনো রকমে টিকে আছে। রংচটা এবং ভাঙাচোরা এসব গাড়ির দিকে তাকালেই এদের দুরবস্থা চোখে পড়ে। বাস মিনিবাসের পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জের সড়কগুলোতে চলছে লেগুনা, টেম্পো জাতীয় যানবাহন যেগুলোর অধিকাংশ চালকের বয়স ১৮ বছরের নিচে, ড্রাইভিং লাইসেন্স বা প্রয়োজনীয় কোনো কাগজপত্রই নেই তাদের। ড্রাইভারের পাশে থেকে কিছুদিন হেলপারি করেই শুরু করে গাড়ি চালানো। ফলে লাইসেন্সবিহীন অপ্রাপ্তবয়স্ক এসব ড্রাইভারদের হাতে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা।
