দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান বলেছেন, প্রতিকারমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে দুদক সকলের মাঝে একটি বার্তা পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছে যে, আজ হোক, কাল হোক সবাইকে জবাবদিহি করতে হবে। দুদকে অনেককেই আসতে হচ্ছে, অনেককেই আসতে হবে। গতকাল দুদক কার্যালয়ে যুক্তরাজ্য-ভিত্তিক ডিপার্টমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট (ডিএফআইডি) এর গভার্নেন্স টিমলিডার এইজলিন বাকেরের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠককালে তিনি একথা বলেন।
এসময় তিনি আরো বলেন, দেশে দুর্নীতির ব্যাপকতা রয়েছে—এ কথা আমি অস্বীকার করছি না। তবে তা নিয়ন্ত্রণে প্রতিটি সেক্টরেই কমিশন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। শুধু প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নয়, কমিশন প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমও পরিচালনা করছে যাতে দুর্নীতির ঘটনা ঘটার আগেই তা প্রতিরোধ করা যায়। দুদক চেয়ারম্যান বলেন, কমিশনের অভিযোগকেন্দ্রের হটলাইন-১০৬-এ লাখ লাখ অভিযোগ আসছে। অধিকাংশ অভিযোগ হয়তো কমিশন আইনের তফসিলভুক্ত অপরাধ নয়। তারপরও মানুষ তাদের অভিযোগ জানানোর একটি প্ল্যাটফরম পেয়েছে। তারা তাদের কথা জানাতে পারছে। কমিশন থেকেও যতটা সম্ভব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
প্রতিনিধি দলের এক প্রশ্নের জবাবে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা ক্ষেত্রে নিয়োগ-পদোন্নতি-পদায়নে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে। এক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা না গেলে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়বে। শিক্ষকদের অনেক সময় সরকারি অন্যান্য কাজে সম্পৃক্ত করে তাদের মূল্যবান কর্মঘণ্টা নষ্ট করা হচ্ছে। শিক্ষকদের অন্য কাজে ব্যবহার বন্ধ করা উচিত। মানসম্মত শিক্ষা না হলে সক্ষম মানবসম্পদ সৃষ্টি করা যাবে না।
নৈতিক মূল্যবোধ সম্পন্ন শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, আমাদের সন্তানরা যেন শুধু জিপিএ-৫ এর দিকে না ছুটে, নৈতিক মূল্যবোধের দিকেও ছুটে। মূল্যবোধহীন উন্নয়ন কোনো কাজে লাগে না।
তিনি বলেন, সরকারি পরিষেবা দুর্নীতি ও হয়রানিমুক্ত করা না গেলে জনগণের হতাশা দূর করা কঠিন। হয়রানিমুক্ত সরকারি পরিষেবা প্রদানে বিদ্যমান বিজনেস প্রসেস রি-ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রয়োজন রয়েছে। তাই কমিশন শিক্ষাসহ ২৮টি সরকারি প্রতিষ্ঠানের সেবা প্রদানের প্রক্রিয়াগত সংস্কারের জন্য সুপারিশ সরকারের নিকট পেশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইতিমধ্যে এজাতীয় ১৩টি প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদন সরকারের নিকট পেশ করা হয়েছে।
ডিএফআইডি সদস্যর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়োগসহ অন্যান্য দুর্নীতি সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, পুলিশের সঙ্গে কমিশনের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। পুলিশের যেসব সদস্যের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে সেগুলো তদন্ত করা হচ্ছে। শুধু পুলিশ নয়—প্রশাসন, রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী যার বিরুদ্ধেই অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এসময় অন্যান্যের মধ্যে ডিএফআইডির গভার্নেন্স অ্যাডভাইজর তানভীর মাহমুদ, মোহাম্মদ ইউসুফ, দুদকের প্রশিক্ষণ ও আইসিটি অনুবিভাগের মহাপরিচালক একেএম সোহেল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
