বিনোদন রিপোর্ট
সম্প্রতি নতুন সড়ক নিরাপত্তা আইন কার্যকর নিয়ে ধর্মঘটকারী বাস-ট্রাকের শ্রমিকরা ইলিয়াস কাঞ্চনের পোস্টারসংবলিত ব্যানার টাঙিয়ে সেখানে জুতার মালা রাখেন ও আগুন দিয়ে পোড়ান।
এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন সাধারণ মানুষ ও চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা
এফডিসির সামনে গতকাল দুপুরে চিত্রনায়ক ও ‘নিরাপদ সড়ক চাই’-এর চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চনকে অপমানের প্রতিবাদে মানববন্ধন করে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক ও পরিবেশক সমিতি, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি, অভিনয়শিল্পী সমিতিসহ এফডিসি কেন্দ্রিক ১৮টি সংগঠন।
সম্প্রতি নতুন সড়ক নিরাপত্তা আইন কার্যকর নিয়ে ধর্মঘটকারী বাস-ট্রাকের শ্রমিকরা ইলিয়াস কাঞ্চনের পোস্টারসংবলিত ব্যানার টাঙিয়ে সেখানে জুতার মালা রাখেন ও আগুন দিয়ে পোড়ান।
এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন সাধারণ মানুষ ও চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা। এবার ইলিয়াস কাঞ্চনের জন্য রাস্তায় নামলেন তার সহকর্মীরা। বাংলাদেশ চলচ্চিত্রশিল্পী সমিতির সভাপতি মিশা সওদাগর ও সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খানের নেতৃত্বে মানববন্ধনে অংশ নেন পরিচালক নেতা মুশফিকুর রহমান গুলজার, বদিউল আলম খোকন, অভিনেত্রী অঞ্জনা, অরুণা বিশ্বাস, ইমনসহ অনেকে।
এ প্রসঙ্গে মিশা সওদাগর বলেন, ‘একজন শিল্পী হিসেবে যে দায়বদ্ধতা নিয়ে ইলিয়াস কাঞ্চন সড়ক নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। সেটি অনেক বড় একটি বিষয়। তিনি আমাদের সম্মানিত একজন শিল্পী। ২৭ বছর ধরে রাস্তায় নিরাপদে চলাচলের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। তার চেষ্টার তীব্রতা আমরা সামনে থেকে দেখেছি। মানুষের জন্য যে মানুষটি এতদিন কাজ করলেন আজ তাকেই অপমানিত হতে হলো। তাকে অপমান করা মানে শিল্পী সমাজকেই অপমান করা। আমরা তার অপমান সহ্য করবো না। আর শিল্পীদের রাস্তায় নামতে বাধ্য করবেন না।’ জায়েদ খান বলেন, ‘আমাদের শ্রদ্ধার মানুষ ইলিয়াস কাঞ্চনের সঙ্গে যে অসম্মানজনক আচরণ করা হয়েছে তার জন্য আমাদের এই প্রতিবাদ কর্মসূচি। আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে তার অবদানের কথা সবার জানা। বাস্তব জীবনেও একজন নায়কের ভূমিকা পালন করছেন ২৭ বছর ধরে। তার অপমানের প্রতিবাদ জানাচ্ছি আমরা।’
মুশফিকুর রহমান গুলজার বলেন, ‘বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পের পক্ষ থেকে ইলিয়াস কাঞ্চনের প্রতি অসম্মানজনক আচরণের তীব্র নিন্দা জানাই। তিনি দীর্ঘ ২৭ বছর একা একা লড়াই করে চলছেন দেশের মানুষের নিরাপদ জীবনের জন্য। তার প্রতি অপমান মেনে নেওয়া যায় না! তিনি রাষ্ট্রকে সুপারিশ করেছেন কী কী নিয়ম ও আইন করতে পারলে দেশের সড়ক দুর্ঘটনা কমবে বা সড়কে মৃত্যুর মিছিল থামবে।’
উল্লেখ্য, ১৯৯৩ সালের সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান তার স্ত্রী জাহানারা কাঞ্চন। সেই বছর একটি ছবির শুটিং দেখতে যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় তার স্ত্রীর। এরপর শুরু করেন ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলন। সেই আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন এখনও। এ কারণে বেশ কয়েকবার পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের চোখের কাঁটা হয়েছেন তিনি।
