g ইত্তেফাক রিপোর্ট
চলমান শুদ্ধি অভিযানের মধ্যেও আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতৃত্বে আসছেন বিতর্কিতরা। শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক আজম খসরু জাপা (এ) থেকে বিএনপি হয়ে এসেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে বিমানবন্দর এলাকার ‘ত্রাস’ হিসেবে পরিচিত নাঈম স্বেচ্ছাসেবক লীগ ঢাকা মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন। ক্লিন ইমেজের প্রার্থীদের বাদ দিয়ে বিতর্কিতরা নেতা হওয়ায় খোদ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অনেকে বলছেন, এসব বিতর্কিতদের নেতা বানাতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার কাছে প্রস্তাব দিচ্ছেন যারা, তাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে হবে।
গত ৯ নভেম্বর জাতীয় শ্রমিক লীগের জাতীয় সম্মেলনে কাউন্সিল অধিবেশনে সংগঠনের সভাপতি নির্বাচিত হন ফজলুল হক মন্টু ও সাধারণ সম্পাদক হন কে এম আজম খসরু। খসরু সদ্য বিদায়ী কমিটির প্রচার সম্পাদক ছিলেন। জানা গেছে, জাতীয় পার্টি ক্ষমতায় থাকাকালীন পুরোটা সময় আজম খসরু জাপার রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয় ছিলেন। পরে বিএনপি ক্ষমতায় এলে বিএনপি করতেন। ২০১২ সালের ১৭ জুলাই জাতীয় শ্রমিক লীগের সম্মেলনে তিনি সংগঠনের প্রচার সম্পাদক হন।
সূত্র জানায়, সম্প্রতি শ্রমিক লীগের কমিটি ঘোষণা হওয়ার পর নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করে বিষয়টি অবহিত করেন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান। আজম খসরু যে অতীতে জাপা ও বিএনপি করেছেন, সেটি তিনি আওয়ামী লীগ সভানেত্রীকে জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে কে এম আজম খসরু ইত্তেফাককে জানান, তিনি ফরিদপুরে পৌর ছাত্রলীগের নেতা ছিলেন। কখনোই জাপা ও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন না দাবি করে তিনি বলেন, ‘আমি ৮ বছর জাতীয় শ্রমিক লীগের প্রচার সম্পাদক ছিলাম। এতদিন কেউ কোনো অভিযোগ করেননি। এখন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেয়েছি, এটা অনেকের সহ্য হচ্ছে না। এ কারণে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।’
এদিকে গত ১৬ নভেম্বর কেন্দ্রের সঙ্গে মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক লীগের শীর্ষ নেতাদের নাম ঘোষণা করা হয়। ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদ্য ঘোষিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন ৪৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আনিসুর রহমান নাঈম। সম্প্রতি তার একটি গুলি ছোড়ার ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। যেখানে দেখা যাচ্ছে, রাতে নববধূকে সামনে রেখে শটগান উঁচিয়ে আকাশে গুলি ছুড়ছেন নাঈম।
বিমানবন্দর ও আশকোনা এলাকার ‘ত্রাস’ হিসেবে পরিচিত নাঈমের বিরুদ্ধে রয়েছে জমিদখল, চাঁদাবাজি, অত্যাচার-নির্যাতনের নানা অভিযোগ। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাবেক এক মন্ত্রীর আত্মীয় হওয়ার সুবাদে ‘তদবির-বাণিজ্য’ করে কাউন্সিলর হওয়ার আগেই বিপুল পরিমাণ অর্থের মালিক হন নাঈম। কাউন্সিলর হওয়ার পর তিনি এখন বেশুমার সম্পদের মালিক।
বিমানবন্দর এলাকায় চাঁদাবাজি সম্পর্কিত পুলিশের এক প্রতিবেদনেও নাঈমের চাঁদাবাজির বিষয়টি উঠে এসেছে। ঐ প্রতিবেদন অনুসারে, নাঈম প্রতি মাসে স্থানীয় পাবলিক টয়লেট, অটোরিকশা, বাস কাউন্টার ও আবাসিক হোটেল থেকে কয়েক লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, কাওলা এলাকায় আশিয়ান সিটির প্রবেশমুখের কাছে প্রায় পাঁচ বিঘা জমি দখল করেছেন নাঈম ও তার লোকজন। সেখানে অবৈধ বাস টার্মিনাল ও রিকশা গ্যারেজ করে ভাড়া দেওয়া হয়েছে। কাউন্সিলরের কার্যালয়ও করা হয়েছে সেখানে।
