সাগরে জলদস্যুতার অপরাধে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রেখে ‘বাংলাদেশ মেরিটাইম অঞ্চল আইন ২০১৯’ এর খসড়া নীতিগতভাবে অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। গতকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে ঐ অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এতে সভাপতিত্ব করেন।
বাংলাদেশ মেরিটাইম অঞ্চল আইন হলে তা ব্যাপকভিত্তিক মেরিটাইম অঞ্চল নির্ধারণসহ অভ্যন্তরীণ জলসীমা ও রাষ্ট্রীয় জলসীমা, ২০০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত একচ্ছত্র অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং ৩৫০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত মহীসোপানে সমুদ্র সম্পদের ওপর বাংলাদেশের সার্বভৌম অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে। জলদস্যুতা, সমুদ্রে সন্ত্রাস, সমুদ্র দূষণসহ সমুদ্রে সংঘটিত অপরাধসমূহ এবং নৌচলাচলে নিরাপত্তা বিঘ্নকারী বেআইনি কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে বলে আইনের উদ্দেশ্যে বলা হয়েছে।
খসড়া আইনের ৫২ ধারাতে বলা আছে, জলদস্যুতা, সশস্ত্র চুরি, সমুদ্র সন্ত্রাস করতে গিয়ে কেউ খুন করলে তার মৃত্যুদণ্ড হবে। আর জলদস্যুতা বা সমুদ্র সন্ত্রাসের শাস্তি হবে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। কোনো ব্যক্তি জলদস্যুতা বা সমুদ্র সন্ত্রাসে সহায়তা করলে সেক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১৪ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, অন্য দেশের লোক বাংলাদেশের জলসীমায় এসে এসব অপরাধ করলে একই শাস্তি হবে। আইনের ৮ নম্বর ধারাতে বলা আছে, রাষ্ট্রীয় জলসীমায় চলাকালে কোনো বিদেশি জাহাজে অপরাধ সংগঠিত হলে অপরাধী গ্রেফতার ও তদন্ত পরিচালনায় এ আইন প্রযোজ্য হবে।
এছাড়া মন্ত্রিসভা গ্রিন হাউজ গ্যাস নিঃসরণ কমানোর প্রস্তাবে মন্ট্রিল প্রটোকলের কিগালি সংশোধনী অনুস্বাক্ষরের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, মন্ট্রিল প্রটোকলের কিগালি সংশোধনী বাস্তবায়িত হলে জলবায়ুবান্ধব ও বিদ্যুত্ সাশ্রয়ী প্রযুক্তির প্রসার ঘটবে। ফলে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ গ্রিন হাউজ গ্যাস নিঃসরণ হ্রাস পাবে, যা প্যারিস চুক্তির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। তিনি জানান, ১৯৮৭ সালে মন্ট্রিল প্রটোকল গৃহীত হয়। বর্তমানে পৃথিবীর সব দেশ মন্ট্রিল প্রটোকলে অনুস্বাক্ষর করায় এটি ইউনিভার্সেল রেটিফায়েড প্রটোকলের মর্যাদা লাভ করেছে। ২০১৬ সালে রুয়ান্ডার কিগলিতে মন্ট্রিল প্রটোকলের ২৮তম সভায় শক্তিশালী গ্রিন হাউজ গ্যাস-এইচএফসির ব্যবহার পর্যায়ক্রমে কমিয়ে আনার লক্ষ্যে মন্ট্রিল প্রটোকল সংশোধিত হয়। সংশোধনটি বাস্তবায়িত হলে এ শতাব্দীর শেষে বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি প্রায় ০.৫ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড কমানো সম্ভব হবে। ফলে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ২০১৫ সালে গৃহীত প্যারিস চুক্তির প্রায় ২৫ শতাংশ বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।
