পেঁয়াজের দর বৃদ্ধির পেছনে পেঁয়াজ মজুত করে রাখা বিষয়ে আমদানিকারকদের বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙ্গুল তোলা হলেও এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তারা। বরং দর বৃদ্ধির জন্য পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীদের দায়ী করেছেন তারা। গতকাল সোমবার রাজধানীর কাকরাইলে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তারা এসব কথা বলেছেন। শুধু তাই নয়, তাদের কাছে পেঁয়াজের কোনো মজুদ নেই বলেও জানিয়েছেন তারা। তবে শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগের কর্মকর্তারা মনে করছেন, ব্যবসায়ীদের কাছে পেঁয়াজের পর্যাপ্ত মজুত রয়ে গেছে। এ মজুদ কোন শ্রেণির ব্যবসায়ীর কাছে রয়েছে, সে বিষয়ে ধারণা নিতে আমদানিকারকদের ডাকা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা।
পেঁয়াজের অস্বাভাবিক দর বৃদ্ধির কারণ খুঁজতে দেশের ৪৭ বড়ো আমদানিকারককে তলব করে চিঠি পাঠায় শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। ঐ চিঠিতে এসব আমদানিকারকের বিরুদ্ধে অর্থপাচারসহ কিছু অভিযোগের কথা বলা হয়। এর অংশ হিসেবে গতকাল ১৪ আমদানিকারক তাদের বক্তব্য তুলে ধরেন। এসব আমদানিকারক মূলত রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ এলাকার। সভা শেষে চাঁপাইনবাবগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক ও অন্যতম বড়ো আমদানিকারক আব্দুল আওয়াল বলেন, আমরা কাদের কাছে বিক্রি করেছি, কত দামে বিক্রি করেছি—সব তথ্য দিয়েছি। ইত্তেফাককে তিনি বলেন, আমরা মূলত ভারত থেকে আমদানি করি। ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়ায় গত একমাস ধরে বসে আছি। আমাদের কাছে পেঁয়াজের কোনো মজুত নেই। এ পরিস্থিতিতে প্রক্রিয়াগত জটিলতার কারণে অন্য কোনো দেশ থেকে আমদানি করার পরিকল্পনা নেই বলে জানান তিনি।
শুক্কুর আলী নামে একই এলাকার আরেক পেঁয়াজ আমদানিকারক বলেন, আমাদের ডেকে লাভ নেই। প্রতি কেজিতে আমরা ৫০ পয়সা মুনাফা করি। দাম বাড়িয়েছে এজেন্ট, পাইকার ও খুচরা ব্যবসায়ীরা। যখনই শুনলো পেঁয়াজ নেই, তখনই দাম বাড়িয়ে দেয়।
শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. সহিদুল ইসলাম উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, আমদানিকারকরা কার কাছে, কী পরিমাণে এবং কী দামে বিক্রি করেছে এবং তাদের কাছে কী পরিমাণ মজুত রয়েছে, তা জানার জন্যই ডাকা হয়েছে। আমরা মনে করছি, বাজারে এখনো পর্যাপ্ত পেঁয়াজ রয়েছে। এই পেঁয়াজ কোন ধাপে মজুত রয়েছে, তা জানতে চাই। ভীতি ছড়াতে নয়, পেঁয়াজের বাজারে স্থিতিশীলতা আনতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। অবশ্য বাজার ব্যবস্থাপনায় স্থিতিশীলতা আনা বা মজুতদারি রোধ শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগের কাজ কিনা—তা নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগকে তথ্য দেওয়ার জন্য আমরা এ ধরনের কাজ করতে পারি।
