জেএসসির খাতা মূল্যায়ন করছে নার্সারির শিক্ষার্থী!

আপডেট : ২৬ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০৭

আশ্চর্যজনক শোনালেও সত্য, বিরামপুরে সদ্যসমাপ্ত জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষার খাতা ‘মূল্যায়ন’ করে নম্বর দিচ্ছে নার্সারি শ্রেণির শিশুও। অভিযোগ উঠেছে, সংশ্লিষ্ট শিক্ষক নিজে খাতা না দেখে অন্যের বাড়িতে খাতা মূল্যায়নের ‘ঠিকাদারি’ দিয়েছেন। সেই বাড়ির দুই শিশু শিক্ষার্থী আবার খাতাগুলো দেখছে এবং নম্বর দিচ্ছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর উপজেলা প্রশাসন গতকাল সোমবার ১০০ খাতা জব্দ করেছে। ‘জাতির মেরুদণ্ড’ হিসেবে পরিচিত শিক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় নিয়ে এভাবে তাচ্ছিল্য করায় অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে গোটা এলাকার অভিভাবক ও শিক্ষানুরাগীদের মধ্যে যুগপত্ বিস্ময় ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

ক্ষুব্ধ অভিভাবকেরা বলছেন, তারা দিন-রাত পরিশ্রম করে, কত অর্থ খরচ করে সন্তানকে একটি বিষয়ে পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত করেন। পরীক্ষার পরও কত টেনশনে থাকেন পরীক্ষা কেমন দিল, সারা বছর ধরে যা পড়ানো হয়েছে তা ঠিকমতো লিখতে পারল কি না ইত্যাদি ইত্যাদি। কবে ফল প্রকাশিত হবে, সেই চিন্তায় তাদের ঘুম উধাও হয়ে যায়। কিন্তু সারা বছরের ঘাম ঝরানো পরিশ্রমে দেওয়া পরীক্ষার খাতাটি যদি একটি শিশুর হাতে তুলে দেওয়া হয় নম্বর দেওয়ার জন্য, তবে এর চেয়ে বড়ো রসিকতা আর কিছু হতে পারে না। ঐ শিক্ষক এই গর্হিত অপরাধ করে মূলত জাতির মেরুদণ্ডে আঘাত করেছেন। অভিভাবকেরা অভিযুক্ত শিক্ষকের কঠোর সাজা দাবি করেছেন, যেন ভবিষ্যতে এমন স্পর্ধা কারো না হয়।

জানা গেছে, বিরামপুর পৌর শহরের আদর্শ স্কুলপাড়ার বাসিন্দা ফুলবাড়ী উপজেলার জয়নগর উচ্চ বিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক সাহানুর রহমান সদ্যসমাপ্ত জেএসসি পরীক্ষার ২৫০টি খাতা মূল্যায়নের জন্য দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড থেকে গ্রহণ করেন। কিন্তু পরে তিনি সবগুলো খাতা প্রতিবেশী জিয়াউর রহমানের বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। জিয়াউর রহমানের স্ত্রী দিলরুবা বেগম জানান, ২৫০টির মধ্যে ইতিমধ্যে ১৫০টি খাতা দেখেছে তার জেএসসি পরীক্ষা দেওয়া পুত্র অনিক ও নার্সারি পড়ুয়া শিশুপুত্র আবরার এবং শিক্ষক সাহানুর সেগুলো নিয়েও গেছেন। আবরার উত্তরপত্রের সঙ্গে এমসিকিউ অংশ মিলিয়ে মিলিয়ে নম্বর দিয়েছে। আর অনিক লিখিত অংশ দেখেছে।  অবশিষ্ট ১০০টি খাতা সোমবার (গতকাল) নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। তবে গোপন সূত্রে এ খবর পাওয়ার পর বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের প্রতিনিধি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার নূর আলম ও যুব উন্নয়ন অফিসার জামিল উদ্দিন পুলিশ নিয়ে এসে জিয়াউরের বাড়ি থেকে ১০০ খাতা জব্দ করে নিয়ে যান।

আরো বিস্ময়কর তথ্য দিয়েছেন দিলরুবা বেগম। তিনি বলেছেন, শাহানুরের স্ত্রী শাহনাজ বেগমও আরেকটি স্কুলের (বিরামপুর আদর্শ হাইস্কুলের) শিক্ষিকা। তিনিও বোর্ড থেকে যে খাতাগুলো মূল্যায়নের জন্য গ্রহণ করেছেন, সেগুলোও এদিন তাদের বাড়িতে রেখে যাওয়ার কথা ছিল। শাহনাজের খাতাগুলো হাতে পেলে সেগুলোও যথারীতি মূল্যায়ন করে নম্বর দিত তার দুই শিশুপুত্র। তবে ঐ শিক্ষিকা সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেছেন, বোর্ড থেকে স্বামীর গ্রহণ করা খাতাগুলো এমনিতেই প্রতিবেশীর বাড়িতে রেখে গিয়েছিলেন, মূল্যায়নের জন্য নয়।