ফাঁসিয়াখালীর বিভিন্ন স্থানে অবাধে বালু তোলা চলছে!

আপডেট : ২৬ নভেম্বর ২০১৯, ২১:৩০

মুহাম্মদ কামালুদ্দিন, লামা (বান্দরবান) সংবাদদাতা

বান্দরবান পার্বত্য জেলার লামা উপজেলায় বালু উত্তোলনের জন্য প্রশাসনের কোনো অনুমোদন না থাকলেও ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের হারগাজা, পুকুরিয়া খোলা, বগাইছড়ি, লাইল্যারমারপাড়া, উত্তর মালুম্যা ও কমিউনিটি সেন্টারসহ ১৫টিরও বেশি স্থান থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। স্থানীয় একাধিক প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অনুমোদন ছাড়া অবৈধভাবে শ্যালো মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করে কক্সবাজার ও চট্টগ্রামে পাচারের অভিযোগ উঠেছে। অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে খালের দুই পাড়, ফসলের জমি, সড়ক, ব্রিজ, কালভার্ট ও মানুষের বসতবাড়ি ধসে পড়ছে।

সরেজমিন পরিদর্শনে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ১৫টির অধিক স্থান থেকে কমপক্ষে ৩০টি শ্যালো মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। ফাঁসিয়াখালী ও ডুলাহাজারার একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট এই বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত বলে জানা গেছে।

স্থানীয় বালু ব্যবসায়ী এরশাদুল ইসলাম জানান, বালু উত্তোলনের জন্য প্রশাসনের কাছে অনুমোদন চাইলে প্রশাসন অনুমোদন দেয়নি।

তিনি আরো জানান, স্থানীয় কিছু যুবক এই বালু ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। সবার সঙ্গে সমন্বয় করে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেছেন। তিনি জানান, কক্সবাজার হতে ডুলাহাজারার একটি সিন্ডিকেট নিজেরাই লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালীর বালুকে কেন্দ্র করেই বালুমহাল ইজারার ডাক নেয়। বান্দরবান জেলা প্রশাসন বালুমহালের ইজারা না দিলেও কক্সবাজার জেলা প্রশাসন থেকে ডুলাহাজারার বিভিন্ন পয়েন্টে বালুমহালের ডাক নিয়ে মূলত ফাঁসিয়াখালীর ঝিরি, ছড়া এবং ফসলি জমি থেকে অবাধে বালু উত্তোলন ও পাচার করা হয় বলে ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের লোকজন জানিয়েছে।

ফাঁসিয়াখালী ইউপি চেয়ারম্যান জাকের হোসেন মজুমদার জানান, প্রতিদিন ফাঁসিয়াখালীর হারগাজা, বগাইছড়ি ও কুমারী সড়ক দিয়ে দুই শতাধিক বালুর গাড়ি পাচার হয়। অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে আইনশৃঙ্খলা কমিটি এবং মাসিক সমন্বয় সভায় বারবার বলার পরেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না। ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়ন বর্তমানে বিরান ভূমিতে পরিণত হতে চলেছে। একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে এ ধরনের অপরাধমূলক কার্যক্রম বন্ধ করতে না পারায় নিজেকে অপরাধী মনে করছেন বলে তিনি জানান। তিনি আরো জানান, গত কয়েক বছরে বালু তোলার কারণে ২৫টি বসতবাড়ি সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে গেছে। আরো ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে খালপাড়ের ৫০ থেকে ৭০টি বসতভিটাসহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ ও বৌদ্ধমন্দির। যেকোনো মুহূর্তে ধসে যেতে পারে বগাইছড়ি ব্রিজ।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নূর-এ-জান্নাত রুমি জানান, লামা উপজেলার কোথাও বালু উত্তোলনের জন্য ইজারা দেওয়া হয়নি। বিভিন্ন মহল থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। শিগগিরই যৌথ অভিযানের মাধ্যমে বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল জানান, ফাঁসিয়াখালীর বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে উদ্বেগজনক হারে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে পাচার করা হচ্ছে। এলাকার পরিবেশ এবং অবকাঠামো রক্ষার স্বার্থে বালু উত্তোলন বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ প্রয়োজন বলে তিনি মতামত প্রকাশ করেছেন।