স্পোর্টস রিপোর্টার
এসএ গেমসের স্বর্ণপদক পুনরুদ্ধারের লক্ষ্য নিয়ে আজ বুধবার দুপুরে নেপালে যাচ্ছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব ২৩ ফুটবল দল। ১ ডিসেম্বর নেপালে শুরু হবে আসরটি। কিন্তু এই আসরকে সামনে রেখে ঢাকায় কোনো রকম অনুশীলন না হলেও এতে টুর্নামেন্টের প্রস্তুতিতে কোনো সমস্যা হবে বলে মনে করছেন না দলটির ফরোয়ার্ড আরিফুর রহমান।
বাংলাদেশ ফুটবল দল দক্ষিণ এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের এই আসরে সর্বশেষ স্বর্ণপদক জিতেছিল ২০১০ সালে। দেশের বাইরে একমাত্র স্বর্ণপদকটি এসেছিল ১৯৯৯ সালে, এই কাঠমান্ডুতেই। তেমন সাফল্যের পুনরাবৃত্তির লক্ষ্যে ২১ নভেম্বর শুরু হওয়ার কথা ছিল জাতীয় দলের অনুশীলন ক্যাম্প।
এই অনুশীলনের জন্য ঘোষিত দলে ছিলেন বসুন্ধরা কিংসের আট খেলোয়াড়। কিন্তু তাদেরকে টুর্নামেন্টের এত আগে ছেড়ে দিতে অস্বীকৃতি জানায় ক্লাবটি। ফলে পিছিয়ে যায় অনুশীলন পর্ব। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে নেপালে গিয়েই টুর্নামেন্টের জন্য প্রথম অনুশীলনে নামবে কোচ জেমি ডের শিষ্যরা। উইঙ্গার আরিফুর রহমানের অভিমত, দেশের মাটিতে একসঙ্গে অনুশীলন করতে না পারা এসএ গেমসের প্রস্তুতিতে ঘাটতি সৃষ্টি করবে না। গতকাল ইত্তেফাককে তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় না প্রস্তুতিতে ঘাটতি থাকবে। কারণ আমরা জাতীয় দলে না হলেও ক্লাবে কিন্তু ঠিকই অনুশীলন করেছি। এখন দলীয় অনুশীলনে কেবল কৌশল ঠিক করে আমাদের কাজটা বুঝিয়ে দেওয়া হবে।’
জেমি ডের শিষ্যরা তার পরও মাত্র তিন দিনের প্রস্তুতি নিয়ে নিজেদের প্রথম ম্যাচে স্বাগতিক নেপালের মুখোমুখি হবে। সদ্য সমাপ্ত দলবদলে আরামবাগ ছেড়ে সাইফ স্পোর্টিং ক্লাবে পাড়ি জমানো আরিফুর বললেন, ‘সেখানে সব প্রতিপক্ষই দারুণ প্রস্তুতি নিয়ে আসবে। তাই প্রতিটি ম্যাচেই চ্যালেঞ্জ নিয়ে হাজির হবে টুর্নামেন্টে।’
এসএ গেমসের জন্য ঘোষিত দলে খেলানো যাবে তিন জন সিনিয়রকে। সেই কোটায় স্বাভাবিক হিসেবেই জায়গা পেয়েছেন অধিনায়ক জামাল ভুঁইয়া। বাকি দুজন হলেন ইয়াসিন খান ও নাবিব নেওয়াজ জীবন। ২০ জনের এই স্কোয়াডে জাতীয় দলে খেলেননি, এমন খেলোয়াড় মোটে চার জন। এরা হলেন—ফরোয়ার্ড রাকিব হোসেন, মিডফিল্ডার আল আমিন, গোলরক্ষক মাহফুজ হাসান প্রীতম ও পাপ্পু হোসেন। বাকি ১৬ জনই বিভিন্ন সময়ে খেলেছেন জেমি ডে-র অধীনে।
আরিফুর জানালেন, এই বোঝাপড়াটা গেমসে দারুণ কাজে দেবে। তরুণ ফরোয়ার্ডের ভাষ্য, ‘আমাদের দলটা অনেক দিন ধরে একসঙ্গে খেলছে। এসএ গেমসের দলের দুই-তৃতীয়াংশই জাতীয় দলে খেলেছে। আমার মনে হচ্ছে এই বোঝাপড়াটা, কম্বিনেশনটা নেপালে আমাদের দারুণ সাহায্য করবে।’
২০ বছর বয়সি এই ফরোয়ার্ড প্রথমবারের মতো এসএ গেমসে খেলতে যাওয়ার আগে জানালেন স্মরণীয়ই করে রাখতে চান এই আসরটাকে। তিনি বলেন, ‘এখানে আগে কখনো খেলা হয়নি। আমাদের দলীয় লক্ষ্য স্বর্ণপদক জেতা। সেটা হয়ে গেলে স্মরণীয় একটা আসর হয়ে থাকবে এই টুর্নামেন্টটা। সেটা করারই জোর চেষ্টা থাকবে।’
