চট্টগ্রামে পাউবোর কাজ বন্ধ করে দিয়েছে চাঁদাবাজরা

আপডেট : ২৬ নভেম্বর ২০১৯, ২২:২৫

চট্টগ্রামে পাউবোর উন্নয়নকাজ বন্ধ করে দিয়েছে চাঁদাবাজরা। সাতকানিয়া উপজেলায় সাঙ্গু নদীর কয়েকটি জায়গায় পাউবোর তত্ত্বাবধানে ভাঙন রক্ষায় ব্লক বসানোর কাজ চলছে। গত দেড় মাস যাবত্ দ্বীপ চরতী এলাকায় ব্লক নির্মাণেরকাজ বন্ধ করে দিয়ে কিছু লোক নানা কৌশলে ঠিকাদারের নিকট চাঁদা দাবি করছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। চাঁদা না পেয়ে তারা ঠিকাদারকে প্রকল্প এলাকা থেকেও তাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে এখানে সাড়ে ৮ কোটি টাকার কাজ করতে পারছে না ঠিকাদার।

এছাড়া পার্শ্ববর্তী উত্তর ব্রাহ্মণ ডেঙ্গা ও তুলাতলী এলাকায় চলমান কাজে নিম্নমান সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এই দুটি স্থানে চিহ্নিত লোকেরা ঠিকাদারকে তাদের কাছ থেকে নিম্নমানের বালু নিতে বাধ্য করছে বলে পাউবোর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। অন্যথায় কাজে বাধার সৃষ্টি করছে।

পাউবো চট্টগ্রাম কার্যালয় জানায়, সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া উপজেলায় সাঙ্গু ও ডলু নদীর তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের ৩৫০ কোটি টাকার কাজ গত বছরের নভেম্বরে শুরু হয়েছে। ঠিকাদারের গাফিলতির কারণে দীর্ঘদিন কাজ হয়নি। ফলে গত বর্ষায় এসব এলাকায় কয়েকশ বাড়িঘর            নদীতে বিলীন হয়ে যায়। এলাকাবাসী জানায়, সময়মতো ঠিকাদার কাজ শুরু করলে এসব বাড়িঘর রক্ষা পেত। পরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কড়াকড়ির কারণে গত জুলাই থেকে কাজ শুরু করে ঠিকাদার। কিন্তু এখন স্থানীয় কিছু চাঁদাবাজের কারণে দ্বীপ চরতী এলাকায় গত দেড় মাস যাবত্ কাজ করতে পারছে না তারা। কাজ বন্ধ করে ঠিকাদারদের জিনিসপত্র নিয়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছে।

জানতে চাইলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাইট ইঞ্জিনিয়ার মো. রুবেল ইত্তেফাককে বলেন, এখানে আমরা ৮৫০ মিটার এলাকায় ব্লক বসানোর কাজ পেয়েছি। ৭০ হাজার বালুর বস্তার মধ্যে ৬৪ হাজার বস্তা নদীতে ফেলেছি। এখন ব্লক তৈরির কাজ শুরু করলে স্থানীয় ৮/১০ জন লোক বিভিন্নভাবে কাজে বাধা সৃষ্টি করছে। তারা নানা কৌশলে চাঁদা দাবি করছে। ব্লক নির্মাণ করতে পারছি না। স্থানীয় আবুল, ফরিদ, রহমতসহ ৮/১০ লোক জড়িত রয়েছে বলে তিনি জানান। আমরা বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য ও পাউবোর কর্মকর্তাদের জানিয়েছি। তারাও বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় এমপির সঙ্গে কথা বলেছেন।

এ ব্যাপারে দায়িত্বরত পাউবোর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী শওকত ইবনে শহীদ ইত্তেফাককে বলেন, স্থানীয় দুটি গ্রুপ কাজে বাধা দিচ্ছে। ডিজাইন অনুসারে কাজ করছে ঠিকাদার। কিন্তু ঐ লোকগুলো ডিজাইনের বাইরে গিয়ে কাজ করতে বাধ্য করছে। তাদের আসল উদ্দেশ্য চাঁদা আদায়।