বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে বিএনপিপন্থি একটি সংগঠনের বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে হাইকোর্ট এলাকায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পালটা ধাওয়া ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
গতকাল জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধার প্রজন্মর উদ্যোগে মুক্তিযোদ্ধা-জনতা সংহতি সমাবেশ শেষে হাইকোর্টের সামনের সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে। দুপুর একটার দিকে প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধার প্রজন্ম দলের ব্যানারে ছাত্রদল, যুবদলসহ বিএনপির নেতা-কর্মীরা মিছিল শুরু করেন। তারা হাইকোর্ট গেটে গিয়ে সড়ক অবরোধ করেন।
মিছিলে নেতৃত্ব দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ, শাহ মোহাম্মদ আবু জাফর, ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, সাদেক হোসেন খান প্রমুখ। তারা খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। সেখানে সমাবেশে আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, আজকে রাস্তায় নামা কোনো অসাংবিধানিক নয়, আইনবিরোধীও নয়। রাষ্ট্রক্ষমতার মালিক জনগণ। জনগণ রাষ্ট্রক্ষমতার পালাবদল হওয়ার শর্তে তারা আজ অত্যাচারিত। আমরা কোনো কথা বলতে পারি না। বললে অপরাধ হয়ে যায়।
একপর্যায়ে ডিএমপির রমনা বিভাগের উপকমিশনার সাজ্জাদুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশ বিএনপির নেতাকর্মীদের সড়ক ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করেন। কিন্তু তারা সড়কে অবস্থানের সিদ্ধান্তে অনড় থাকলে পুলিশ সদস্যরা তাদের ঠেলে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এসময় বিএনপির নেতাকর্মীদের বিক্ষোভ থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট নিক্ষেপ করা হয়। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার এক পর্যায়ে গাড়ি ভাঙচুর করতে করতে দলটির নেতাকর্মীরা প্রেস ক্লাব ও মত্স্য ভবনের দিকে চলে যায়। জমায়েত ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশকে কয়েক রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করতে দেখা যায়। বিএনপির নেতাকর্মীরা অন্তত আটটি প্রাইভেট কার ও মাইক্রোবাস ভাঙচুর করে। তার মধ্যে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের একটি গাড়িও রয়েছে। সংঘর্ষের সময় সাধারণ পথচারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ডিএমপির রমনা বিভাগের উপকমিশনার সাজ্জাদুর রহমান বলেন, বেআইনিভাবে বিএনপির নেতাকর্মীরা হাইকোর্টের সামনের সড়ক অবরোধ করে রেখেছিল। এটি ঢাকা মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। আমরা তাদের কয়েকবার বুঝিয়েছি সড়কটি ছেড়ে দেওয়ার জন্য, কিন্তু তারা ছাড়েনি। একপর্যায়ে তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট ছোড়ে। পরে তারা গাড়ি ভাঙচুর করতে করতে চলে যায়।
মিছিলের আগে প্রেস ক্লাবে রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধার প্রজন্মর উদ্যোগে মুক্তিযোদ্ধা-জনতা সংহতি সমাবেশে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা.জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ন্যায়নীতির দিক থেকে যতক্ষণ না পর্যন্ত বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি হবে ততক্ষণ পর্যন্ত চলুন রাজপথে হাজির হয়ে আন্দোলন করি।
মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাতের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, বিএনপির স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক শিরিন সুলতানা, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন একাংশের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী প্রমুখ।
