নাব্য সংকট :দৌলতদিয়ায় আটকা পড়ছে কার্গো জাহাজ

আপডেট : ২৬ নভেম্বর ২০১৯, ২২:৩৬

নাব্য-সংকটের কারণে চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর থেকে আসা পণ্যবাহী কার্গো জাহাজ দৌলতদিয়া ঘাটের কাছে আটকে থাকছে। রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ও সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ী নৌপথের বিভিন্ন এলাকায় ডুবোচর সৃষ্টি হওয়ায় পণ্যবাহী জাহাজ সরাসরি বাঘাবাড়ীতে পৌঁছাতে পারছে না। কিছু পণ্য এখান থেকে খালাসের পর চলাচলের উপযোগী করে তবে বাঘাবাড়ী ছেড়ে যাচ্ছে। এক সপ্তাহ ধরে এসব জাহাজ আটকে থাকছে।

বিআইডব্লিউটিএ আরিচা কার্যালয় জানায়, চট্টগ্রাম বা মোংলা থেকে আসা এসব পণ্য বাঘাবাড়ীতে পৌঁছাতে সময় লাগে চার থেকে পাঁচ দিন। কিন্তু এই নৌপথে ছয়-সাতটি স্থানে ডুবোচর জেগে ওঠায় সরাসরি যেতে না পেরে দৌলতদিয়ায় আরো কয়েক দিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে। বাঘাবাড়ী পৌঁছাতে ১০ থেকে ১৫ দিন পর্যন্ত লেগে যাচ্ছে। জানা যায়, দৌলতদিয়ার ৬ নম্বর ফেরিঘাটের অদূরে বাহিরচরে নোঙর করে রয়েছে এমভি সামিন-সোহেল-১, এমভি সোবহান-১, এমভি সোনিয়া-৭, এমভি প্রিন্স মেম, এমভি সনজিদসহ ৩৫টির মতো কার্গো-জাহাজ। জাহাজের মাস্টার, ড্রাইভার, সুকানিসহ অন্যান্য স্টাফ ঘোরাফেরা করছেন। এসব কার্গোতে পাথর, কয়লা, সার ও গম রয়েছে। ১৫০ জনের মতো শ্রমিক জাহাজ থেকে এসব পণ্য বলগেটে খালাসের কাজ করছেন। পাথর ও কয়লা দক্ষিণ আফ্রিকা, ইন্দোনেশিয়া ও ভারত থেকে আমদানি করা। পাথর ও কয়লা চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পাবনার নগরবাড়ী যাবে। সেখান থেকে ইশ্বরদী হয়ে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুেকন্দ্রে যাবে। সার ও গমও বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা।

এমভি প্রিন্সেস মীমের মাস্টার আব্দুল হান্নান বলেন, ‘চট্টগ্রাম থেকে প্রায় ১ হাজার ১০০ টন পাথর নিয়ে পাবনায় যাওয়ার পথে ১৫ নভেম্বর দৌলতদিয়ায় এসে আটকে পড়ি। এখান থেকে কমপক্ষে ১৫০ টন পাথর নামানোর পর যেতে পারব।’ দৌলতদিয়া ঘাটে শ্রমিক জোগানের দায়িত্বে থাকা মের্সাস আরিফ ট্রান্সপোর্টের কমিশন       এজেন্টের ব্যবস্থাপক মনির উদ্দিন সরদার বলেন, নাব্য-সংকটের কারণে এক সপ্তাহ ধরে এখানে জাহাজ ভিড়ছে। শ্রমিকের সংকট থাকায় ১৯ নভেম্বর থেকে পণ্য খালাস শুরু হয়েছে। প্রতি বস্তা মাল থেকে ট্রান্সপোর্টকে ৩ টাকা করে দেয়। এর মধ্যে শ্রমিকদের দিতে হয় বস্তাপ্রতি ২.৬০ টাকা।

বিআইডব্লিউটিএ আরিচা কার্যালয়ের যুগ্ম পরিচালক আব্দুর রহিম বলেন, বর্তমানে পানির গভীরতা রয়েছে সাত-আট ফুট। পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলের জন্য প্রয়োজন ১১ ফুট। নাব্য-সংকট দূর করতে ইতিমধ্যে বিআইডব্লিউটিএর নিজস্ব দুটি ড্রেজার আনা হয়েছে। আগামী সপ্তাহ থেকে খনন করে দুই ফুট করে গভীরতা বাড়লে এবং কিছু পণ্য খালাসের পর ৯ ফুট করে পানি পেলে জাহাজ যেতে পারবে।