কেন ভারতীয়দের ওপর চড়া পর্যটন কর চাপাচ্ছে ভুটান?

আপডেট : ২৭ নভেম্বর ২০১৯, ০১:২৩

ভুটান ভ্রমণে ভারতীয় পর্যটকদের অত্যন্ত চড়া হারে কর দেওয়ার ক্ষেত্রে এতদিন যে ছাড় ছিল তা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর ভারত ও ভুটানের সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এখন বিদেশি পর্যটকদের ভুটান বেড়াতে হলে ট্যুর অপারেটরদের মাধ্যমে প্রতিদিন কম করে মাথাপিছু আড়াইশ ডলার খরচ করতেই হয়। এর মধ্যে সরকারের আরোপিত ৬০ ডলারের ‘সাসটেনেবেল ডেভেলপমেন্ট ফি’, থাকা-খাওয়ার খরচ বা এয়ারপোর্ট ট্রান্সফার ধরা থাকে। কিন্তু ভারত-বাংলাদেশ-মালদ্বীপ থেকে আসা পর্যটকদের ক্ষেত্রে এই কড়াকড়ি ছিল না।

ভুটানের পর্যটন করপোরেশনের সুপারিশে আগামী মাসেই দেশটির মন্ত্রিসভা নতুন সিদ্ধান্ত অনুমোদন করতে যাচ্ছে বলে ভারত সরকারকে জানানো হয়েছে। সাবেক কংগ্রেসি মন্ত্রী ও কূটনীতিক মণিশঙ্কর আইয়ার এ সম্পর্কে বলেন, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর নরেন্দ্র মোদি তার প্রথম বিদেশ সফরে ভুটান গিয়ে জলবিদ্যুত্ উত্পাদনের ক্ষেত্রে ভুটানকে আর্থিক সহায়তার পরিমাণ যেমন কমিয়ে দিয়েছিলেন, তেমনি সহায়তা পাওয়ার শর্তও অনেক কঠিন করেছিলেন। আইয়ারের মতে, থিম্পু ও দিল্লির মধ্যে অস্বস্তির শুরু কিন্তু সেই থেকেই। তিনি জানান, ভুটান সরকার ও দেশের রাজা তখন ভাবলেশহীন নীরবতা বজায় রাখলেও মিডিয়ায় কিন্তু বেশ কিছু লেখা বেরিয়েছিল যে ভারতের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা থাকলে এমনই হবে। যদিও সবাই আবার এই ব্যাখ্যার সঙ্গে একমত নন। এদিকে এই পটভূমিতেই ভুটানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনে চীনও নীরবে চেষ্টা চালাচ্ছে। বস্তুত ৭০ বছরেরও বেশি পুরানো মৈত্রী চুক্তি অনুযায়ী ভুটানের প্রতিরক্ষা, বিদেশনীতি ও বাণিজ্যে ভারতের প্রভাব দ্বিপাক্ষিকভাবেই স্বীকৃত।