বিরাম চিহ্ন
মো.কামরুল হাসান, সহকারী শিক্ষক
ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল জাহানাবাদ সেনানিবাস,খুলনা
১১. ঊর্ধ্বকমা/লোপ চিহ্ন (’)
নাম :ঊর্ধ্বকমা/লোপচিহ্ন
চিহ্ন : (’)
বাক্যে অবস্থান :মধ্যে
বিরতিকাল : প্রয়োজন নেই।
ফাঁকা (Space) :আগে ও পরে ফাঁকা থাকবে না।
ব্যবহারের নিয়ম :
১. হাইফেনের বিকল্প হিসেবে ঊর্ধ্ব কমা ব্যবহূত হয়।
যেমন :তারপা’টা কেটে বাদ দিতে হলো।
২. সালের বর্জিত সংখ্যা বোঝাতে ঊর্ধ্বকমা ব্যবহূত হয়।
যেমন : ২৬শে মার্চ ’৭১।
১২. বন্ধনী ([ ], { }, ())
নাম :বন্ধনী
চিহ্ন : ([ ], { }, ())
বাক্যে অবস্থান : পূর্বে, মধ্যে ও শেষে
বিরতিকাল : প্রয়োজন নেই ।
ফাঁকা (Space) :আগে ও পরে ফাঁকা থাকবে, তবে ভেতরে ফাঁকা থাকবে না ।
ব্যবহারের নিয়ম :
১. কোনো বক্তব্যকে বিশদভাবে বর্ণনা করার জন্য প্রথম বন্ধনী ব্যবহূত হয়। যেমন :তিনি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে (প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়) কাজ করেন।
২. অন্যের কথার মধ্যে নিজের কথা ঢোকাতে গেলে তৃতীয় বন্ধনী ব্যবহূত হয়। যেমন :রবীন্দ্রনাথ [রবীন্দ্রনাথ] নভেল [নোবেল] পুরস্কার পেয়েছিলেন।
১৩. বিকল্প (/)
নাম :বিকল্প
চিহ্ন : (/)
বাক্যে অবস্থান :মধ্যে
বিরতিকাল : প্রয়োজন নেই।
ফাঁকা (Space) :আগে ও পরে ফাঁকা থাকবে না।
ব্যবহারেরনিয়ম :
দুই বা ততোধিক শব্দ বা বাক্যের মধ্যে যে কোনোটি হতে পারে অর্থে বিকল্পচিহ্ন ব্যবহূত হয়। যেমন : তার বয়স ২৫/৩০ বছর হতে পারে।
১৪. ধাতু-দ্যোতক (?)
নাম :ধাতু-দ্যোতক
চিহ্ন : (.)
বাক্যে অবস্থান :মধ্যে
বিরতি কাল : প্রয়োজন নেই।
ফাঁকা (Space) :আগে ফাঁকা থাকবে, তবে পরে ফাঁকা থাকবে না।
ব্যবহারের নিয়ম :
ব্যাকরণের ক্রিয়ামূল বা ধাতু বোঝানোর জন্য ব্যবহূত হয়।
যেমন :.কৃ + তব্য = কর্তব্য ।
১৫. পরবর্তী রূপবোধক (<)
নাম :পরবর্তীরূপ বোধক
চিহ্ন : (<)
বাক্যে অবস্থান :মধ্যে
বিরতিকাল : প্রয়োজন নেই।
ফাঁকা (Space) :আগে ও পরে ফাঁকা থাকবে না।
ব্যবহারের নিয়ম :
যে অবস্থা দাঁড়িয়েছে তা বোঝানোর জন্য ব্যবহূত হয়। যেমন :রতন<রত্ন।
১৬. পূর্ববর্তীরূপবোধক (>)
নাম :পূর্ববর্তীরূপবোধক
চিহ্ন : (>)
বাক্যে অবস্থান :মধ্যে
বিরতিকাল : প্রয়োজন নেই।
ফাঁকা (Space) :আগে ও পরে ফাঁকা থাকবে না।
ব্যবহারের নিয়ম :
কোথা থেকে উত্পত্তি হয়েছে তা বোঝানোর জন্য ব্যবহূত হয়। যেমন :পক্ষী>পাখি।
১৭. সমান (=)
নাম :সমান
চিহ্ন : (=)
বাক্যে অবস্থান :মধ্যে
বিরতিকাল : প্রয়োজন নেই।
ফাঁকা (Space) :আগে ও পরে ফাঁকা থাকবে।
ব্যবহারের নিয়ম :
গণিতে, সন্ধিতে, প্রকৃতি-প্রত্যয়ে ব্যবহূতহয়।
যেমন :শুভ +ইচ্ছা = শুভেচ্ছা।
১৮. একবিন্দু (.)
নাম :একবিন্দু
চিহ্ন : (.)
বাক্যে অবস্থান :মধ্যে
বিরতিকাল : প্রয়োজন নেই।
ফাঁকা (Space) :আগে ফাঁকা থাকবে না; তবে ক্ষেত্র বিশেষে পরে ফাঁকা থাকতেও পারে, নাও থাকতে পারে।
ব্যবহারের নিয়ম :
শব্দকে সংক্ষেপণের চিহ্ন হিসেবে অবিকল ইংরেজিতে যেভাবে ব্যবহার করা হয় বর্তমানে সেভাবেই বাংলাতে ব্যবহূত হচ্ছে।
যেমন : মো., ড. ইত্যাদি।
[তবে, পূর্বে লেখা হতো : মোঃ/সাং/তাং]
১৯. ত্রিবিন্দু (...)
নাম :ত্রিবিন্দু
চিহ্ন : (...)
বাক্যে অবস্থান : পূর্বে, মধ্যে ও শেষে
বিরতিকাল : প্রয়োজন নেই।
ফাঁকা (Space) :আগে ফাঁকা থাকবে না; তবে ক্ষেত্র বিশেষে পরে ফাঁকা থাকতেও পারে, নাও থাকতে পারে।
ব্যবহারের নিয়ম :
১. বর্জন চিহ্ন হিসেবে ব্যবহূত হয়। যেমন : তিনি একজন যথার্থ লেখক...ভাষার ওপরে প্রচণ্ড দখল।
২. কথা অসমাপ্ত রেখে দেওয়ার সময় ব্যবহূত হয়।
যেমন :আমি তোমাকে...।
