প্রেক্ষিত পরিকল্পনার লক্ষ্য অর্জনে সুশাসন ও বিনিয়োগ বাড়াতে হবে

আপডেট : ২৭ নভেম্বর ২০১৯, ২১:১৩

সরকারের বড়ো ব্যর্থতা নেই : পরিকল্পনামন্ত্রী

ইত্তেফাক রিপোর্ট

পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেছেন, কৃষি, ম্যানুফ্যাকচারিং এবং রেমিট্যান্সের ওপর দেশের অর্থনীতি দাঁড়িয়ে আছে। রপ্তানি ভালো রয়েছে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সেইসাথে গর্ব করার মতো বৈদেশিক মুদ্রার মজুত রয়েছে। আমাদের কিছু জায়গায় দুর্বলতা আছে তবে সরকারের লজ্জা পাওয়ার মতো কোনো ব্যর্থতা নেই। গতকাল বুধবার শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ২০১০-২০২১ এর বাস্তবায়ন অগ্রগতি প্রতিবেদনের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনামন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন জিইসি সদস্য (জ্যেষ্ঠ সচিব) ড. শামসুল আলম। আরো বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিকবিষয়ক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম এবং প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান।

ড. শামসুল আলম তার উপস্থাপনায় উল্লেখ করেন, প্রেক্ষিত পরিকল্পনা অনুযাযী বেসরকারি বিনিয়োগসহ কয়েকটি সূচকে বাংলাদেশ পিছিয়ে রয়েছে। এছাড়া জবাবদিহিতা ও সুশাসনের সূচকে অনেক কাজ করতে হবে। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী সুশানসের সূচকে কম্বোডিয়া ও ইথিওপিয়ার কাতারে রয়েছে বাংলাদেশ। অন্যদিকে বাংলাদেশের চেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে ভুটান, শ্রীলঙ্কা, ভারত ও ভিয়েতনাম। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোট অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগের লক্ষ্য ছিল ২০১৬-১৭ অর্থবছরে জিডিপির ৩১ শতাংশ। কিন্তু অর্জন হয়েছে ৩০ দশমিক ৫ শতাংশ। এর মধ্যে বেসরকারি বিনিয়োগের লক্ষ্য ছিল জিডিপির ২৩ দশমিক ৯ শতাংশ, অর্জন হয়েছে ২৩ দশমিক ১ শতাংশ। তবে সরকারি বিনিয়োগ বেড়েছে। মোট দেশজ উত্পাদনের (জিডিপি) লক্ষ্য অনেকাংশেই পূরণ হয়নি। প্রথম প্রেক্ষিত পরিকল্পনা হওয়ায় একটু উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য স্থির করা হয়েছিল। ফলে লক্ষ্য অর্জিত না হলেও ধারাবাহিকভাবে প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রাখা সম্ভব হয়েছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, দেশের ৯৫ শতাংশ মানুষ এখন বিদ্যুত্ সুবিধা পাচ্ছেন। দেশে দারিদ্র্য কমছে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ছে। আর্থ সামাজিক সুরক্ষা ভালো অবস্থায় রয়েছে। মানুষের গড় আয়ু বাড়ছে উল্লেখ করে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, আমাদের নিজের রিপোর্ট নয় সিএনএন এ দেখেছি আমেরিকানদের গড় আয়ু কমছে। অথচ মার্কিনিরা স্বাস্থ্যসেবায় বেশি খরচ করে। মার্কিনিদের আয়ু কমলেও আমাদের আয়ু বাড়ছে। এইচ টি ইমাম বলেন, দুর্যোগ মোবাবিলায় বাংলাদেশ অনেক এগিয়েছে। তাছাড়া সবচেয়ে গর্বের বিষয় সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি। এর মাধ্যমে দেশের ৫ থেকে ৬ কোটি মানুষ উপকৃত হচ্ছে। দেশের অনেক পরিবর্তন হয়েছে। আগে মায়েরা এক কাপড় পরতেন এখন গ্রামে গ্রামে পার্লার হয়েছে। দেশের সব সূচকেই ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। মানবসম্পদ বড়ো সম্পদ এই সম্পদ কাজে লাগাতে হবে। সবাইকে হাতে-কলমে কারিগরি শিক্ষা দিতে হবে।