বাংলাদেশের টেস্ট সংকট

মনের জোরেই সমাধান!

আপডেট : ২৭ নভেম্বর ২০১৯, ২১:১৫

দেবব্রত মুখোপাধ্যায়

দুই দশক হলো টেস্ট ক্রিকেট খেলছে বাংলাদেশ। এক সময় পরাজয় ছাড়া কিছু ভাবাটাই এ দলটার জন্য কঠিন ছিল। এক সময় বছরের পর বছর গেছে, যে ক্যালেন্ডারে বাংলাদেশ একটাও ম্যাচ জেততে পারেনি। ২০০৫ সালে এসে প্রথম টেস্ট জয়ের মুখ দেখেছে বাংলাদেশ। কিন্তু গত বছর ছয়েক ধরে চিত্রটা এতোটা খারাপ ছিল না। অবশেষে সেই ব্যাপারটা আবার ফিরে এলো।

ভারত সফরের ভেতর দিয়ে ২০১৯ সালের ক্রিকেট বর্ষ শেষ করল বাংলাদেশ। আর এটা হলো সেই বছরগুলোর একটা, যেখানে বাংলাদেশ মাঠে গড়ানো প্রতিটি ম্যাচ হেরেছে! ২০১৯ সালে ৬টি ম্যাচ ছিল বাংলাদেশের। এর মধ্যে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে একটি ম্যাচ মাঠেই গড়ায়নি সন্ত্রাসী হামলার ঘটনাক্রমে। বাকি ৫টি ম্যাচের সবগুলোতে হেরেছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে ৪টি ম্যাচই হেরেছে তারা ইনিংস ব্যবধানে।

বাংলাদেশের ক্রিকেট কি তাহলে পিছিয়ে যাচ্ছে? এখান থেকে উত্তরণের উপায়টা কী?

বাংলাদেশের দুই সাবেক অধিনায়ক আকরাম খান ও হাবিবুল বাশার মনে করেন, এখান থেকে বের হতে গেলে প্রথম এবং প্রধান কাজ হলো খেলোয়াড়দের মানসিক শক্তি বাড়ানো। হাবিবুল বাশার মনে করেন না যে, বর্তমান খেলোয়াড়দের স্কিলের কোনো সমস্যা আছে। যদিও আকরাম খান বলছিলেন, খেলোয়াড়দের দক্ষতাও বাড়াতে হবে। তবে দুই জন একমত যে, দেশের বাইরে টেস্ট ক্রিকেটে ভালো করতে গেলে মানসিকভাবে আরো শক্ত হতে হবে।

আফগানিস্তানের মতো দলের বিপক্ষে নাকাল হয়েছে বাংলাদেশ। ভারতীয় পেসারদের বলে শরীরে আঘাত পেয়ে নুইয়ে গেছেন ক্রিকেটাররা। তারপরও হাবিবুল যুক্তি দিয়ে বলছিলেন, ‘আমাদের ব্যাটসম্যানরা এরকম গতির বল আগে খেলেনি, তা তো নয়। এর চেয়ে কঠিন পরিস্থিতিতে তারা পারফরম করেছে। সাদমান, মুমিনুল, মুশফিক, রিয়াদ; এর চেয়ে কঠিন জায়গাতে রান করেছে। কিন্তু এখন কেন ভেঙে পড়ছে? আমার কাছেও এ প্রশ্নের উত্তর খুব পরিষ্কার না। তবে একটা জিনিস বুঝতে পারছি, তারা মানসিকভাবে লড়াই করতে পারছে না। কঠিন পরিস্থিতি ক্রিকেটে আসবেই। সেখানে আরো শক্তিশালী হতে না পারলে বিপদ বাড়বে।’

বিপদটা কেমন হতে পারে, সেটা অনুমান করার চেষ্টা করছিলেন আকরাম খান। তিনি বলছিলেন, ‘আগামী বছর আমাদের ১১টা টেস্ট খেলতে হবে। এর বেশির ভাগই দেশের বাইরে। সেখানে আমরা আমাদের কন্ডিশন পাব না। ফলে এখনই যদি নিজেদের শুধরে ফেলা না যায়, সামনে আরো কঠিন সময় আসছে। আমাদের দক্ষতা বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই।’

অবশ্য আকরাম মনে করেন, এই সংকট দ্রুত সমাধান হয়ে যাবে। তিনি সামনে আশার আলোই দেখতে পাচ্ছেন। তিনি বলছিলেন, ‘ছেলেরা এই বছরটা থেকে অনেক কিছু শেখবে বলে আমি বিশ্বাস করি। তারা এ বছরে অনেক কঠিন পরীক্ষার ভেতর দিয়ে গেছে। আমাদের এইচপি ও ‘এ’ দল বাইরে নিয়মিত সফর করছে। তাদের কাউকে কাউকেও হয়তো জাতীয় দলে দেখা যাবে। সে ক্ষেত্রে আমি মনে করি, সামনের সময়টা ভালোই হবে।’

হাবিবুল বলছিলেন, এ ভালো সময়টা আনতে হলে খেলোয়াড়দেরই আগে এগিয়ে আসতে হবে। তাদের লড়াই করার মানসিকতাটা ফেরাতে হবে। তিনি বলছিলেন, ‘আমাদের খেলোয়াড়রা সবসময় ফাইট করতে পছন্দ করে। সেই ব্যাপারটা ফিরিয়ে আনতে পারলে আমি মনে করি, এদের আর কোনো ঘাটতি থাকবে না।’