ঝিমিয়ে পড়েছে ক্রীড়াঙ্গন, তৈরি হচ্ছে না খেলোয়াড়
মো. শফিউল ইসলাম সৈকত, ঝালকাঠি প্রতিনিধি
ঝালকাঠিতে দীর্ঘদিন ফুটবলসহ বিভিন্ন টুর্নামেন্ট না হওয়ায় শহরের শেখ রাসেল ও শহরতলীর বিকনা বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপটেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর স্টেডিয়াম দুটি পরিত্যক্ত হয়ে যাচ্ছে। শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামের পরিত্যক্ত গ্যালারি ও খেলার অনুপযোগী মাঠে শিশু-কিশোরদের কিছু নির্ধারিত খেলাধুুলার কার্যক্রম চালানো হয়। এ মাঠেই প্রতি বছর আয়োজন করা হয় স্বাধীনতা ও বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজ।
জেলা ক্রীড়াঙ্গনের সঙ্গে সম্পৃক্তরা জানান, মাঠ দুটির বেহাল দশা ও ক্রীড়াঙ্গনের স্থবিরতার কারণে ঝালকাঠি জেলা থেকে ফুটবল, ক্রিকেট, হকি, কাবাডি ও ভলিবলসহ বিভিন্ন খেলায় ভালো মানের কোনো খেলোয়ার উঠে আসছে না। অনূর্ধ-১৭ বঙ্গবন্ধু কাপ, বঙ্গবন্ধু-বঙ্গমাতা ফুটবল টুর্নামেন্ট ও স্কুল-কলেজ কেন্দ্রিক টুর্নামেন্ট যা হয়, তাতে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আমেজ থাকে না। এসব টুর্নামেন্টে জেলা ক্রীড়া সংস্থার তেমন কোনো ভূমিকাও নজরে আসে না।
সম্প্রতি সরেজমিনে বিকনা বীর শ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর স্টেডিয়ামে গিয়ে দেখা যায়, মাঠে এলাকাবাসী গরু চড়ায়। ঘাসে ছেয়ে গেছে মাঠ। মাঠ জুড়ে শুনসান নিরবতা, খেলাধুলা নেই। খেলার মাঠটি দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। জেলা ক্রীড়া সংস্থার একজন কর্মচারী পরিবারসহ গ্যালারির নিচ তলায় থাকেন। একই দিনে শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামে গিয়ে দেখা যায়, জরাজীর্ণ গ্যালারিতে কিছু দর্শক শিশু-কিশোরদের ফুটবল খেলা দেখছে। উঁচু নিচু মাঠে খেলতে গিয়ে খেলার ছন্দপতন হচ্ছে খেলোয়াড়দের।
শহরের প্রবীণরা জানান, একটা সময় ঝালকাঠিতে ফুটবলের জমজমাট আসর হতো। ৭০/৮০-এর দশকে বছর জুড়েই মাঠটি মুখরিত থাকত ফুটবলে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঝালকাঠি অনূর্ধ-১৭ দলের এক ?ফুটবলার জানান, জেলা ক্রীড়া সংস্থার আয়োজনে ফুটবল টুর্নামেন্ট না হওয়ায় ভালো মানের খেলোয়ার তৈরি হচ্ছে না। বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর স্টেডিয়ামটিও অবহেলায় পড়ে আছে। এদিকে জেলা ক্রীড়া সংস্থা ৯ বছর পর ১৬টি দল নিয়ে ফুটবল লীগের আয়োজন করে।
ফিরোজা আমু ফুটবল টুর্নামেন্টে সেমিফাইনালে ওঠা দল ব্রাইট স্টারের স্বত্বাধীকারী গোলাম সরোয়ার বলেন, ‘আমার দলটি সেমিফাইনালে তুলতে অর্থ খরচ করেছি। অথচ জেলা ক্রীড়া সংস্থা চূড়ান্ত পর্বের খেলা সম্পন্ন করতে পারছে না। এর আগে সর্বশেষ ফুটবল লিগ হয়েছে ৮টি দল নিয়ে ২০০৮ সালে।
এ বিষয়ে জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক আল মামুন খান ধলু বলেন, কিছু সীমাবদ্ধতা ও স্পন্সর না পাওয়ার কারণে নিয়মিত ফুটবল লীগ আয়োজন করা যায় না। তবে জেলা ক্রীড়া সংস্থা ক্রিকেটসহ অন্যান্য খেলাধুলার নিয়মিত আয়োজনের চেষ্টা করে।
তিনি আরো বলেন, বিভিন্ন বয়সভিত্তিক ও স্কুল ফুটবল টুর্নামেন্টের মাধ্যমে জেলায় প্রায় ১০০ কিশোর ফুটবলার তৈরি হয়েছে। তবে বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপটেন জাহাঙ্গীর স্টেডিয়ামটি শহরের দূরে অবস্থিত হওয়ায় যাতায়ত খরচ অনেক বেশি। তাই সেখানে দর্শক যেতে চায় না।
জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মো. জোহর আলী বলেন, খেলাধুলার মান উন্নয়নে সরকার আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। প্রতি বছর যাতে ফুটবলসহ বিভিন্ন টুর্নামেন্ট হয় সেদিকে দৃষ্টি রাখা হবে। ফিরোজা আমু ফুটবল টুনামেন্টের বাকি খেলা শিগগিরই শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
