কেমন আছেন আপনি?

আপডেট : ২৮ নভেম্বর ২০১৯, ২১:১৮

কেউ কেউ ভাবছেন বেশ সুখেই আছি। সেই সঙ্গে আবার বলছেন ঘুমাতে পারছি না। প্রকৃত অবস্থা আপনি জানেন কি? জানতে চাওয়া হয়েছিল পাঠকদের কাছে। ইমেইল এবং টেলিফোনে পাঠকের দেওয়া প্রতিক্রিয়া আজ প্রকাশ করা হলো।

আমার জানা নেই। ভালো বা খারাপ থাকা মনে হয় খুব কঠিন, কোনোটাই আমার দ্বারা হয় না। মানুষ আসলে কখনো ভালো থাকে না। শুধু ভালো থাকার চেষ্টায় একটা ব্যস্ততা খুঁজে নেয়। সৃষ্টির শুরু থেকে মানুষ কেন বেঁচে আছে, কেন এসেছে, কোথায় যাচ্ছে, কেনই-বা যাচ্ছে, বেঁচে থাকার উদ্দেশ্য কী, এইসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজে ফিরছে। এই প্রশ্নের উত্তর পেতেই কখনো উঁকি দেওয়া ধর্মে, কখনো আধ্যাত্মিকতায়! শেষমেশ অগত্যা ভালো থাকাকেই মানুষ ধরে নিয়েছে বেঁচে থাকার উদ্দেশ্য!

বিলকিছ আক্তার

সরকারি ম্যাটস, টাঙ্গাইল

ঘুম আর সুখ একে অন্যের পরিপূরক। শারীরিক সুস্থতা ও মানসিক প্রশান্তি থাকলে একটা সুন্দর ঘুম হয়। আর এই সুখনিদ্রায় একটি সুন্দর সকালের চমত্কার সূচনা হয়। কিন্তু আমাদের অধিকাংশই নানা চিন্তা-ভাবনা, উদ্বেগ-উত্কণ্ঠায় ডুবে থাকি। তাছাড়া গভীর রাত পর্যন্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে বুঁদ হয়ে থাকা সুখনিদ্রার অন্তরায় এবং আমাদের ব্যক্তিগত জীবনে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

মাসুম বিল্লাহ

শিক্ষার্থী, লোকপ্রশাসন বিভাগ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

নিষ্ঠুর এই জগতে পূর্ণতা-অপূর্ণতার দোলাচলে জীবনে কারো কাছ থেকে ‘কেমন আছেন’ প্রশ্নটি মনে আশা জাগালেও এর উত্তরটি ব্যাপক আপেক্ষিক। কেউ তিন বেলা দুমুঠো অন্নতেই জীবনের পূর্ণতা খুঁজে পায়, আবার কেউ বিপুল অর্থের নেশার মোহে ছুটে আক্ষেপ-অপূর্ণতায় মরে নিরন্তর? এক লোক মসজিদ থেকে বের হয়ে দেখেন তার জুতাজোড়া হারিয়ে গেছে। ভীষণ মন খারাপ করে তিনি পথ চলতে শুরু করলেন খালি পায়েই। কিছুদূর যাওয়ার পর তিনি দেখলেন একজন ভিক্ষুককে, যার দুটি পা-ই নেই! তখন ঐ ব্যক্তির জুতা হারানোর দুঃখ ঘুঁচে গেল এই ভেবে যে আমার তো অন্তত দুটি পা অক্ষত আছে!

তৌহিদ বিল্লাহ

শিক্ষার্থী, নরসিংদী সরকারি কলেজ

প্রাত্যহিক শোনা প্রশ্নগুলোর মধ্যে আমার কাছে যেই প্রশ্নটা সবচেয়ে কঠিন মনে হয় তা হলো, ‘কেমন আছেন?’ হুট করে তখন ভাবতে হয়, ‘আচ্ছা, আমি কেমন আছি?’ বেশির ভাগ সময়েই কিছু বুঝে উঠতে পারি না। আমি কেমন আছি? ভালো না খারাপ? ঠিক কেমন থাকলে সেটাকে আমি ভালো থাকা বলতাম? সেটাই কি আসলে ভালো থাকা? যদি তেমন থাকতাম, তখন কি তাহলে মনে হতো আমি ভালো আছি? নাকি তখন নতুন নতুন না-পাওয়া এসে সেটাকেও নষ্ট করে দিত? অথচ কেউ জানে না, ভালো থাকার চেষ্টায় কখনো ভালো থাকা যায় না। কেউ থাকেনি কখনো!

মেনহাজুল ইসলাম তারেক

মুন্সিপাড়া, পার্বতীপুর, দিনাজপুর

ঠিকমতো ঘুম হওয়া সুখে থাকার ক্ষুদ্রাংশমাত্র। চিকিত্সাশাস্ত্রে ঘুমের উপকারিতা সম্পর্কে আমরা সবাই অল্প-বিস্তর জানি। ভালো ঘুম মানুষকে শারীরিক প্রশান্তি দেয়, কাজ করার স্পৃহা জোগায়। কিন্তু আমার কাছে সুখের মাপকাঠি সুখনিদ্রার ওপর নির্ভর করে না। সুখী হতে হলে একজন মানুষকে তার মানবিকতা, নৈতিকতা, প্রভৃতি মানবীয় গুণাবলিতে সমৃদ্ধ হতে হবে এবং সর্বোপরি শারীরিক সুস্থতা একজন মানুষকে সুখী হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করে।

ফারজানা বিনতে মুরাদ ঈরা

মধুখালী, ঝিকরগাছা, যশোর

প্রতিটি মানুষের জীবনেই সীমাবদ্ধতা রয়েছে। আর এই সীমাবদ্ধতার মধ্যেই আমাদের সবার থাকা দরকার। জগতে সবাই নিজের অস্তিত্ব রক্ষার তাগিদে স্বাভাবিক জীবনযাপনই হচ্ছে শ্রেয়। এতে করে জীবন হয়ে উঠে শান্তিময়। অথচ তা না হয়ে আমরা আমাদের নিত্যদিনের চাহিদা দিন দিন বাড়িয়েই চলেছি। ফলে সুখের পরিবর্তে দুঃখ দেখা দেয়। অশান্তি/অসুখ আর নানা কথাতে হয়ে পড়ি জর্জড়িত। ঘুম কেমন করে আসবে আমাদের? তাই অল্পতেই তুষ্ট, শান্তিময় জীবন ও বিবাদমুক্ত জীবন সহিষ্ণুতা ভালোবাসাই হচ্ছে একমাত্র জীবনের চাবিকাঠি। এছাড়া আর কোনো কিছুতেই সুখের বালাই নেই। তাই সবাইকে দেখাতে হবে সহমর্মিতা ও সহিষ্ণুতা।

সুলতানা জামান

মানিকনগর, ঢাকা

পণ্যসামগ্রীর ঊর্ধ্বগতি, কিছু কিছু মিডিয়ার অপপ্রচার, প্রশাসনের দুর্নীতির চিত্র, পুলিশ বাহিনী অর্থাত্ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দুর্নীতি। এমনকি দুদকে কর্মকর্তাদেরও দুর্নীতি খবরাখবর জানা যাচ্ছে। কাজেই বাংলাদেশে এমন কোনো জায়গা নেই যে অনিয়ম হচ্ছে না, অনিয়মগুলো নিয়মে পরিণত হতে চলেছে। এছাড়া শব্দদূষণ, বায়ুদূষণ, আশপাশের জেনারেটরের শব্দ ইত্যাদি। সুতরাং জনগণের মনে শান্তিতে ঘুম আসবে কী করে? অতএব, এসব থেকে পরিত্রাণ না পেলে দেশের উন্নতি বা অগ্রগতি সমূলে বিনষ্ট হতে পারে বলে আমরা মনে করি। তা না হলে, দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা সবদিক থেকেই বিনষ্ট হবে বলে আমরা মনে করি।

আলহাজ মো. হাফিজুল ইসলাম চৌধুরী হিফজু

চিনাইর, বি.বাড়িয়া সদর. বি.বাড়িয়া

দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি, মুনাফা লোভী অসত্ মজুতদারের দৌরাত্ম্য, ঢাকায় মারাত্মক বায়ু ও শব্দদূষণ, বাজারে পরিপূর্ণ ভেজাল খাদ্য দ্রব্য, অসহনীয় যানজট, জলজট, গণপরিবহণের স্বল্পতা, সরকারি সব নাগরিক সেবা পেতে চরম হয়রানি ও সেবাপ্রাপ্তি দীর্ঘসূত্রতা এর মাঝে যে বেঁচে আছি এই তো অনেক।

উদ্ভাস কুমার বণিক

তেজগাঁও, ঢাকা

বাংলাদেশে সুস্থধারার রাজনীতি বিরাজমান থাকায় হরতাল, অবরোধ আগুনে মানুষ পোড়ার গন্ধ ও সহিংসতা নেই। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী মানুষের নাগালের মধ্যে আছে। কৃষকদের সারের জন্য গুলিতে মরতে হয় না, বিদ্যুতের জন্য আন্দোলন করতে হয় না। শ্রমিকদের শ্রমের মূল্য এখন অনেকটা বেশি; তাই শ্রমিকরা সুখে-শান্তিতে আছেন। যারা বলছেন রাতে ঘুমাতে পারেন না তাদের মাথায় অপরাধ আর অপরাধের দুশ্চিন্তা রয়েছে, যার কারণে ঘুমাতে পারে না। অপরাধ করার প্রবণতা রাখবেন না তাহলে নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারবেন। লবণ গুজবের মতো যে কোনো গুজব এড়িয়ে চলুন, ভালো থাকতে পারবেন।

ফারুক আহমেদ

বাঘমারা, রাজশাহী

যখন কোনো মানুষ ভালোভাবে ঘুমাতে পারছে না, তখন বুঝতে হবে সে সত্যিকার সুখে নেই। এর প্রধান কারণ তিনটি। মনের মধ্যে অতিরিক্ত লোভ-লালসার চিন্তা থাকার জন্য, একাকিত্ব, অনেকের একাকিত্বের কারণে রাত জেগে ফোন, কম্পিউটার, ট্যাব, টিভি এসবের স্কিনের দিকে তাকিয়ে থাকার জন্য এবং আবাসিক এলাকায় গভির রাতে শব্দের অত্যাচার। সারাদেশে মুদ্ধি অভিযানের পরও এসব অত্যাচার বন্ধ হচ্ছে না। এসব কারণগুলো থেকে মুক্তি পেলেই ভালো ঘুমানো সম্ভব।

সাইফুদ্দিন

কাটাসুর, মোহাম্মদপুর

আগে ছিলাম ভালোই। পদ্মার পাড়ে কুঠির হাটে বাবা যেতেন আগে আগে, আমি যেতাম পিছে খালুই নিয়ে হাটে। কুঠির হাটের বড়ো বড়ো ইলিশ ব্যাগটা ভরে দিতো। নাম শুনেছি ঢাকা শহর বাংলাদেশের রাজধানী, দেখার জন্য জিহবায় আসছে পানি। চারটা নদীর ঘাট টাপুরে নৌকা দিয়ে পার হয়ে আসতে হতো ঢাকায়। এখন একদিনে এসে একদিনেই যাওয়া যায়। এইতো আছি ভালো। বাজারে গেলে এখন আর খালুই লাগে না পকেটে টাকা নিয়ে পলিথিনে ভরে নিয়ে আসা যায় বাজার। বাজার দেখে বউ ছুঁড়ে মারে, কী করে ভালো রাধবো নাইতো একটা পেঁয়াজ। দিন বদলের দিনে এখন আমরা আছি ভালো। আগে ছিলাম এই রকম এখন আছি এই রকম।

খন্দকার কামারুজ্জামান

৩৬৩/১০ উত্তর পীরের বাগ, ঢাকা

স্বাধীনতার ৪৮ বছর পর একটি প্রশ্ন সর্বদা আমার মাথায় ঘুরপাক খায়, তা হলো আমি আজও একটি রাতও ভালোভাবে ঘুমাতে পারি না। প্রতিদিন বিভিন্ন মিডিয়ায় খবর শুনতে হয়। তিন বছর থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত গণধর্ষণ করে হত্যা, ধানক্ষেতে পড়ে থাকা শিশুর লাশ, ব্রিফকেসে ভর্তি মস্তকবিহীন লাশ থাকে বাসে, গৃহে ধর্ষণ, তাও আবার গণধর্ষণ, হাসপাতালে পড়ে থাকে অবহেলা, অযত্নে অনেক রোগী, পথের ধারে পড়ে থাকে শিশু-বৃদ্ধ এই হলো অবস্থা।

ডা. জামিল রহমান

গোপালপুর, টাঙ্গাইল

কোনো কিছুতেই ভালো নেই আমরা, বাজার ঊর্ধ্বগতি, বায়ু ও শব্দদূষণসহ নানা সমস্যা জর্জরিত। অন্যদিকে একশ্রেণীর মানুষের ছুটে চলার প্রতিযোগিতা লেগেই আছে। আছে ছুটে চলার দুর্বার প্রতিযোগিতাসহ অন্য বিষয়গুলো। ক্লান্তিহীন মানুষ আজ বড়ো অসহায়। ঘুম নেই রাতেও। সুখ কোথা থেকে আসবে।

ফারুক আনম

মালিবাগ, ঢাকা

সবাই সুখী হতে চায়। পৃথিবীতে এমন কাউকে পাওয়া যাবে না যে সুখী হতে চায় না। অনেকেই মনে করে—অর্থকড়ি, শিক্ষাদীক্ষা, বিবাহ, সন্তানসন্ততি, পরিবার, সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রতিপত্তি মানুষকে সুখী করতে পারে। এসব অর্জন আসলে মানুষকে সুখী করতে পারে না। মানুষের জন্য প্রকৃত সুখ যেন সোনার হরিণ। সুখী মানুষের জীবনেও হতাশা, দুঃখকষ্ট আসে। পার্থক্য হলো সুখী মানুষরা হতাশা, দুঃখকষ্টকে সহজভাবে গ্রহণ করতে পারে; অন্যরা তা পারে না।

মো. জিল্লুর রহমান

সতিশ সরকার রোড,

গেন্ডারিয়া, ঢাকা

আমরা আসলেই কেউ খুব বেশি ভালো নেই। ভালো থাকলেই তো সুখে থাকা যাবে—এ কথাটা আমরা বুঝি। নানা সমস্যায় আজ আমরা সবাই জর্জরিত। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে—নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুত্ দেওয়ার নামে নানা প্রতারণা, সড়ক ব্যবস্থাপনায় ত্রুটিগুলো সহসাই দূর হচ্ছে না। মানবপাচারকারীরা দিন দিন বেড়েছে, এটা দমন অবশ্যই করণীয়, বায়ুদূষণ ক্রমশ বাড়ছে। ফলে দেখা দিয়েছে নানা সমস্যা, ট্রেনে ভ্রমণ এখন নিরাপদ মনে হচ্ছে না। বিষাক্ত বাতাসে অস্থির মানুষ, মাদক ব্যবহারে অস্থিরতা রয়েছে, গ্যাস বিস্ফোরণের মৃত্যুর ঘটনা বেড়েছে, দুর্নীতি নানাভাবে বেড়েছে। পেঁয়াজ, লবণসহ অন্যান্য পণ্যসামগ্রীর দাম লাগামহীনভাবে বেড়েই চলেছে। সাধারণ মানুষের আয়ের চেয়ে ব্যয়ের মাত্রা বেড়েছে। নানা টেনশন, নানা অসুখের তাড়ানায় অনেকেরই রাতে ঘুমাতে পারছে না। তাই উল্লিখিত বিষয়গুলোকে সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসতে পারলেই অবশ্যই মানুষের মনে শান্তি আর সুখ এসে ভর করবে—এটাই আমরা মনে করি।

মো. মিজানুর রহমান প্রধান

চেয়ারম্যান, ৫ নম্বর বাউশিয়া ইউনিয়ন, থানা: গজারিয়া, মুন্সীগঞ্জ