বিবিসি
টেক্সাসের পোর্ট নেচেসে একটি রাসায়নিক কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের পর কর্তৃপক্ষ কারখানা সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রায় ৬০ হাজার মানুষকে সরিয়ে নিচ্ছে। গণমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিও ফুটেজে কারখানাটিতে আগুন ছড়িয়ে পড়ার আগে বেশ কয়েকদফা আলোর ঝলকানি দেখা গেছে। বিস্ফোরণের তোড়ে কাছাকাছি একটি বাড়ির দরজাও উড়ে গেছে বলে অন্য একটি ভিডিওতে দেখানো হয়েছে। টিপিসি গ্রুপের রাসায়নিক এ কারখানার আহত তিন কর্মীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, বুধবার দিবাগত রাত ১টার দিকে কারখানাটিতে প্রথম বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়; এরপর ছোটোখাটো বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণ হয়। কী কারণে এ বিস্ফোরণ সে সম্বন্ধে কিছু জানা না গেলেও, কম্পন কারখানাটির ৪৮ কিলোমিটার দূরেও অনুভূত হয় । বুধবার দুপুরে আরেকটি বড়ো বিস্ফোরণের পর কর্তৃপক্ষ আশপাশের এলাকা থেকে লোকজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে নির্দেশনা জারি করে। তাত্ক্ষণিক রাসায়নিক কারখানাটিকে কেন্দ্র করে ৬ দশমিক ৪ কিলোমিটার বৃত্তের মধ্যে থাকা সব স্থাপনা ও শহর থেকে লোকজনকে সরানোর কাজ শুরু করে জরুরি বিভাগের কর্মীরা। নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়া লোকজন কবে নিজেদের বাড়িতে ফেরতে পারবেন, সে সম্বন্ধে কর্মকর্তারা কোনো ধারণা দিতে পারেননি।
এক বিবৃতিতে টিপিসি গ্রুপ জানিয়েছে, তারা তাদের জরুরি অবস্থা মোকাবিলার পরিকল্পনাকে সক্রিয় করেছে এবং পরিস্থিতি সামলাতে পোর্ট নেচেস দমকল বাহিনীর সহযোগিতা চেয়েছে। বিস্ফোরণের কারণে কয়েক মাইল দূরের বাড়িঘরের জানালার কাচও চুরমার হয়ে যায় বলে বাসিন্দারা স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কেডিএফএমকে জানিয়েছেন।
‘কারখানাটির সবচেয়ে কাছে ছিল আমাদের বাড়ি। ঘুম থেকে উঠে দেখি আমাদের কাচের দরজা ছিন্নভিন্ন হয়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে; তবে এখন আমরা নিরাপদে আছি,’ বলেছেন রায়ান ম্যাথিউসন নামের এক বাসিন্দা। রাসায়নিক কারখানার ভেতর থেকে দুই কর্মীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করার কথা জানিয়েছেন জেফারসন কাউন্টি পুলিশের ক্যাপ্টেন ক্রিস্টাল হোমস। ‘এখন কারখানাটির ভেতরে অনুসন্ধান ও উদ্ধার কাজ চলছে। কিন্তু বিস্ফোরণে কাছাকাছি এলাকার বাড়িঘরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরে আমরা প্রতিটি বাড়ি-ঘরে যাব,’ বলেছেন তিনি।
